ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে কৃষকদলের ইউনিয়ন সাংগঠনিক সম্পাদক তরু মুন্সি (৫৫) নিহত হয়েছেন। তিনি ওই গ্রামের মনছুর আলী মুন্সির ছেলে। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন গান্না ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান আলী।
শুক্রবার দুপুরে জামায়াতের নারী কর্মীদের তালিম বৈঠক ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে তরু মুন্সিসহ উভয় পক্ষের ১২ জন আহত হন। হামলায় কৃষকদল নেতা তরু মুন্সির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
এছাড়া জামায়াতের হামলায় আহতদের মধ্যে গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের তরু মুন্সির ছেলে ছাত্রদল নেতা শিপন মুন্সি, ভাই হোসেন আলী, ভাতিজা শহিদুল ইসলাম, নায়েব আলী, আব্দুল খালেক ও আকবর আলীকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত ছাত্রদল নেতা শিপন মুন্সি জানিয়েছেন, শুক্রবার দুপুরে মাধবপুর গ্রামের ওহিদুলের বাড়িতে জামায়াতের মহিলা কর্মীরা তালিম বৈঠক ও ইফতার মাহফিল উপলক্ষে একত্রিত হন। মহিলা কর্মীদের জড়ো হওয়া দেখে প্রতিবেশী ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন কারণ জানতে চান। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে জামায়াতের নারী কর্মীরাও লাঠি নিয়ে হামলা চালান।
তিনি আরও বলেন, এই হামলায় জামায়াতের ওহিদুল, তাবিবুর, আব্দুল হামিদ নিলু, মনিরুল ইসলাম, নাসির মিয়া ও প্লাবন লাঠিসোটা নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। সংঘর্ষের পর জামায়াতের লোকজন গান্না ইউনিয়ন বিএনপির অফিস এবং বিএনপি নেতা শাহজাহান, ইলিয়াস হোসেন, আবুল কালাম ও তরু মুন্সির বাড়ি ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা জামায়াতের আমির ড. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, জামায়াতের নারী কর্মীরা ইফতার পার্টির আয়োজন করছিলেন। এতে বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। জামায়াতের নারী কর্মীরা বাধা দিতে গেলে সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে জামায়াতের সমর্থকরাও সেখানে যান। বিএনপির হামলায় তাদেরও ৫/৬ জন কর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
অপরদিকে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে পুলিশ গ্রেফতার অভিযান শুরু করেছে। এলাকায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে অবস্থান করছেন। প্রকৃত দোষী ব্যক্তিরা যেন আটক হন, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।