সাবিনা আহমেদ
মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্টে বাংলাদেশকে ডাকা হয়েছে—এই কথাটা এখন ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপে ঘুরছে।
এই যোগদানের আমন্ত্রণের খবর এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ে জানিয়েছে একমাত্র বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
মক্কা চুক্তির তিন স্বাক্ষরকারী দেশ - সৌদি, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাংলাদেশকে এই চুক্তিতে যোগ দিতে ডাকার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কিছুই বলেনি। রয়টার্স ২৫ আগস্ট তাদের ঢাকার দূতাবাসে মন্তব্য চেয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকেও কোনও জবাব আসেনি।
৭ আগস্ট, মক্কায় মূল চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় তিন দেশের মাঝে। এর পরপরই এরদোয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, এই চুক্তি তিন দেশে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আল জাজিরা ৯ আগস্ট সম্ভাব্য নাম হিসেবে মিশর, কাতার, কুয়েত, আজারবাইজান, সিরিয়া, জর্ডান লিখেছে। সেই তালিকায় বাংলাদেশের নাম ছিল না। মিশরকে তুরস্ক নাম ধরে বলেছে যে তার সময় তৈরি হলেই যোগ দিবে, যদিও মিশর এখন পর্যন্ত সই করেনি।
বাংলাদেশের নাম প্রথম তোলে তুরস্কের ইয়েনি শাফাক। ১০ আগস্ট ইংরেজি পাতায় স্বাক্ষরবিহীন একটি পোস্ট এ বলা হয় “What if Bangladesh joins the trilateral pact?” সেখানে আবার নিজেরাই লিখেছে, এই ব্যাপারে কোনো অফিসিয়াল সিদ্ধান্ত হয়নি। এটা একটি কাল্পনিক আলোচনা, যা কোনও আমন্ত্রণপত্র নয়।
২০ আগস্ট রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিএসএস হুমায়ুন কবিরের ভারত সফরের বিষয়ে সাক্ষাৎকার ছাপায়। এক অনুচ্ছেদে তিনি বলেন, নিজস্ব স্বার্থ মাথায় রেখে সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্কের অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা কাঠামোতে যোগদানের সম্ভাবনার প্রতি আছে ইতিবাচক দৃষ্টি। তিনি সেই সাক্ষাৎকারে মক্কা চুক্তির নাম কিন্তু নেননি।
এরপর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম—ডব্লিউআইওএন, এএনআই, এনডিটিভি, ফার্স্টপোস্ট—শিরোনাম মোটা করে: “keen to join”, “Islamic NATO»”। হুমায়ুন কবিরের “সম্ভাবনার প্রতি ইতিবাচক” ভারতীয় মিডিয়ায় বনে যায় “যোগ দিতে আগ্রহী”। দিল্লির মিনিস্ট্রি অফ এক্সটার্নাল এফেয়ার্স শুধু বলে, “পশ্চিম এশিয়া (এই চুক্তি) ঘনিষ্ঠভাবে দেখছে।”
সেই পর্যন্ত কোথাও লেখা হয়নি বাংলাদেশ চুক্তিতে যোগদানের আমন্ত্রণ পেয়েছে।
২৪ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আরেকটি সাংবাদিক বৈঠক হয়। সেখান থেকে প্রথম আলো জানায় হুমায়ুন কবীর বলেছে, “মক্কা ডিফেন্স প্যাক্টে তো আমরা আগ্রহ প্রকাশ করছি। … মধ্যপ্রাচ্যের স্টেকহোল্ডাররা তারেক রহমানের নেতৃত্বকে অনেক জায়গায় আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন—আসতে ও অংশ নিতে।” “ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে একটা সিকিউরিটি প্যাক্ট হলে ওখানে যাওয়া অস্বাভাবিক না। দেখা যাক কী হয়। আমরা ইতিবাচকভাবে দেখছি।”
এখানে আমন্ত্রণটা দেয় হয়েছে নেতৃত্বকে বিভিন্ন জায়গায় এসে অংশ নিতে, কোনও চুক্তির কাগজে সই করতে নয়।
তুরস্কের Daily Sabah প্রথম আলো উদ্ধৃত করে লেখে: “আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এখনো দেওয়া হয়নি। একই দিন শামা ওবায়েদ আরব নিউজকে বলেন, নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত হয়নি, আলোচনা চলছে।
২৫ আগস্ট রয়টার্স এক নামহীন পররাষ্ট্র সূত্রের বরাতে লেখে, সৌদি আরব ঢাকাকে চুক্তিতে যোগ দিতে ডেকেছে; তবে কবে তা বলেনি। আরও জানিয়েছে বাংলাদেশী সেই সূত্র মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার অনুমতি পায়নি। সৌদি–তুর্কি–পাকিস্তানি দূতাবাস থেকে জানতে চেয়েও কোনও জবাব আসেনি। অর্থাৎ “চুক্তিতে যোগদানের আমন্ত্রণ” —এই বাক্যটার একমাত্র সূত্র এক অনামী বাংলাদেশি কর্মকর্তা। যেই ব্যাপারে রিয়াদও মুখ খোলেনি।
তবে ৬ ই জুলাই সৌদি রাষ্ট্রদূত তারেক রহমানকে রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যা মক্কা চুক্তিরও আগে। এরপর সফরের আমন্ত্রণ পত্র আসে ১৭ আগস্ট। পত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক আলোচনার কথা বলা হয়েছে। এই পত্রে মক্কা চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়নি।
মক্কা চুক্তির আগে, ৩০ এ জুলাই, বাংলাদেশ সৌদি নেতৃত্বাধীন ১৪টি দেশের একটি মেরিটাইম জোটে যোগ দিয়েছে—যা সত্য। সেখানে বাংলাদেশ কোন যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হবে বলে ঘোষিত হয়নি। বাংলাদেশের নৌবাহিনীতে ফ্রিগেট, করভেট, দুটি সাবমেরিন আছে—নিজের উপকূল ও ইইজেড রক্ষায়। উপসাগরে গিয়ে অন্যের যুদ্ধে নামার মতো লজিস্টিক ও নীতি বাংলাদেশের এখন নেই।
বাংলাদেশের সেনা মোতায়েন মক্কা চুক্তির অধীনে কোনও ধরনের যুদ্ধের হিসাব বদলায় না। বাংলাদেশের পারমাণবিক অস্ত্র নেই, উপসাগরীয় বিমানবাহিনী নেই। অর্থাৎ, বাংলাদেশের মিমলতারীর পাওয়ার প্রজেকশন সক্ষমতা নেই।
তাহলে যদি (যদি) সত্যি বাংলাদেশকে আহ্বান জানানো হয়, তা হবে মূলত ফর দ্য পতাকা, শ্রমিক, অস্ত্রের খদ্দের, আর জিওগ্রাফির জন্য, মক্কা চুক্তির অধীনে কোনও চতুর্থ সৈন্যবাহিনীর জন্য নয়। তুরস্ক বাংলাদেশকে ড্রোন ও জাহাজ বেচতে চায়—যা ফোর্সেস গোল ২০৩০ এর অংশ। পাকিস্তান হাসিনার পর ঢাকার সঙ্গে বাণিজ্য ও যোগাযোগ ফেরাতে চায়; বিএনপির সঙ্গে ইসলামাবাদের পুরনো রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতাও আছে। ঢাকা এই জোটে থাকলে দিল্লি তাকে পাকিস্তান-ঘেঁষা পাঠ করবে—তাঁকে দুই সীমান্তে সেনা নামাতে হবে, দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপ বাড়বে, দিল্লির সামরিক ব্যয় বাড়বে। আর সৌদি হয়তো চাবে আরও একটি জনসংখ্যার দিক থেকে বড় মুসলিম দেশের পতাকা মক্কা চুক্তিতে থাকুক।
Bangladesh’s present military capacity cannot support the clause that an attack on one is an attack on all. What it has is barely enough to defend its own territory and coastline in peacetime, and to serve in UN peacekeeping. It cannot put troops into Hormuz or someone else’s war. Although the Mecca pact is not only about sending soldiers. Defence-industry cooperation is also on the table, and Bangladesh could gain from that. Those gains are not guaranteed by a signature. They would come through purchases, training, and money.
লেখক : যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক