Image description
আলফাজ আনাম
 
আমার বাসা থেকে আদ্ব দ্বীন হাসপাতাল সামান্য দূরে। প্রতিদিন অফিস যাই এই হাসপাতালের সামনের রাস্তা দিয়ে। যারা এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে অফিস যাওয়া- আসার পথে তাদের সাথে দেখা হয় । দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হত দরিদ্র মানুষ ও ঢাকার নিম্ন আয়ের কিংবা বস্তিতে থাকে এমন মানুষের ভিড় থাকে হাসপাতালটিতে। ৬ নবজাতকের মৃত্যুর খবরে খুবই ক্ষুদ্ধ হয়েছিলাম। চেয়েছিলাম তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি এবং বড় অংকের জরিমানা। সায়ন্থ ভাইয়ের Shakhawat Hossain Sayantha একটি স্ট্যাটাস দেখে মনে হলে কিছু লেখা দরকার। শুধু আদ্বদ্বীন নয় সামনে দেশের গরিব ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের চিকিৎসা বড় ধরনের আঘাত আসতে যাচ্ছে।
এখানে সায়ন্থ ভাইয়ের পুরো স্ট্যাটাসটি তুলে দিলাম। তিনি লিখেছেন “ বন্ধ করা সহজ। প্রতিষ্ঠান গড়া খুব কঠিন । তারচেয়েও কঠিন নিয়ম-নীতি-বিধি-বিধান মেনে প্রতিষ্ঠান চালানো। আদ্-দ্বীন হাসপাতাল একদিনে তৈরি হয়নি। বহু কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে আদ্-দ্বীন হয়ে উঠতে। আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর শাস্তি অবশ্যই হতে হবে।
কিন্তু সে শাস্তি কি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা? বরং নবজাতক মৃত্যুর বিচার আইনানুগ ভাবে হতে পারতো। অথবা বড় অংকের আর্থিক ক্ষতিপূরণ পেতে পারতো মৃত নবজাতকের পরিবার।
পাশাপাশি হাসপাতালের যা কিছু সমস্যা তা সমাধান করার শর্তসাপেক্ষে হাসপাতাল পরিচালনার সুযোগ দেওয়া যেতো।
 
শুধু আদ্-দ্বীন নয়, বাংলাদেশের প্রায় সবগুলো হাসপাতালেই খুঁজলে কিছু না কিছু অনিয়ম পাওয়া যাবে। কিন্তু তা এক্সপোজড হয় না। যেখানে দুর্ঘটনা ঘটে , তখনই কেবল সেখানে সমস্যাটা এক্সপোজড হয়।
সব হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিয়মিত তদারকির আওতায় আনা উচিত। কোথাও সমস্যা পেলে অল্প সময়ের মধ্যে তা সংশোধনের নোটিশ দিতে হবে। সে সময়ের মধ্যে শর্ত মেনে আপ টু ডেট না করলে সোজা লাইসেন্স বাতিল।
 
আমরা চমক চাই না। সমাধান চাই। “
 
সায়ন্থ ভাই নিজেও একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক। আমাদের চেয়ে তিনি হাসপাতাল বন্ধের প্রভাব ভালো বোঝেন। আজকে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর আদ্ব দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ করার পক্ষে দেয়া তার বক্তব্যর ভিডিও ক্লিপ দেখলাম। সেখানে তিনি , আদ্ব দ্বীনের মালিকের দিকে ইঙ্গিত করে বলছেন ওই ব্যাটাও জামাত করে। তার এই বক্তব্য থেকে মনে করার যথেষ্ঠ কারন আছে এই হাসপাতালটি বন্ধ করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা কাজ করছে। মালিক জামাত করলে হাসপাতাল বন্ধ করতে হবে? এছাড়া হাসপাতালের মালিক তার পেছেনে কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরছে বলে দাবি করেছেন – তার এই দাবি নিয়ে সন্দেহ করার কারন আছে। তাহলে কি ডাল মে কুছ কালা!
যাহোক সামনে দেশের চিকিৎসা খাতে ভয়াবহ সমস্যা আসছে। দেশের লাখ লাখ গরিব মানুষের চিকিৎসা বন্ধ হতে যাচ্ছে। কিভাবে? এর সাথে ইসলামী ব্যাংকের নিবিড় সর্ম্পক আছে। আমি আগেই বলেছি সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য গন বিচ্ছিন্ন বামদের প্ররোচনায় ইসলামী ব্যাংক দখলের পরিকল্পনা করছে।
 
ইতোমধ্যে ব্যাংকটি থেকে আমানত তুলে নেয়ার হিড়িকের কারনে এই ব্যাংক রান আউটের পথে। আজকে আড়াই হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু এ ধরনের টাকা সরবরাহ করে এই ব্যাংক টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।
 
ইসলামী ব্যাংকের আওতায় সারা দেশে ১১ টি হাসপাতাল আছে। যেগুলোতে তুলনামুলক স্বল্প মুল্য চিকিৎসা সুবিধা দেয়া হয়। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ প্রতি বছর তাদের অর্জিত বাণিজ্যিক মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সি এস আর খাতের অংশ হিসেবে ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনকে প্রদান করে। এই ফান্ডের একটি বড় অংশ হাসপাতালগুলোর পরিচালন ব্যয় ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহৃত হয়। ইসলামী ব্যাংকের আমানত কমে যাওয়া ও বিপর্যয়ের কারনে এই হাসপাতালগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।
 
সায়ন্থ ভাইয়ের কথায় বলতে হয় বন্ধ করা সহজ। প্রতিষ্ঠান গড়া খুব কঠিন । দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশের প্রায় অর্ধেক সময় বিএনপি দেশ পরিচালনা করেছে। বিএনপিতে শত শত কোটি টাকার মালিক আছে। তাদের অনেক ব্যাংক আছে। কিন্তু এরকম বড় আকারের হাসপাতাল নেটওয়ার্ক তারা তৈরি করে নাই। সে ধরনের ইচ্ছাও তাদের ছিলো না। কারন টাকা ওয়ালা বিএনপি নেতারা ছোটো খাটো অসুখ হলে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড নিদেন পক্ষে ভারতে চিকিৎসা নিতে যান। আর তাদের কর্মীরা ইসলামী ব্যাংক বা আদ্বদ্বীনের মতো হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পল্টনে বিএনপি অফিসের সামনে পুলিশের টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট বা গুলিতে যারা আহত হতেন তাদের বেশির ভাগকে কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে আগে ভর্তি করা হতো। সাংবাদিক হিসাবে বহুবার আহত বিএনপি নেতাকর্মীদের হাসপাতালে নিতে দেখছি। এই কর্মীদের প্রতি আপনাদের কোনো দায় নেই। এ ধরনের হাসপাতাল বন্ধ হলে যে দলের হাজারো নেতাকর্মী স্বল্প খরচে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে সেটি বোঝার মতো ক্ষমতা নেই।
 
বিএনপির নেতাকর্মীদের সরকারের এ ধরনের অমানবিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করা উচিত। মনে রাখতে হবে এসব করে জামাতের প্রভাব কমানো যাবে না। জামাত আমিরকে সাদা শকুন বলে গালি দেন। তিনি কিন্তু এই দেশে তার চিকিৎসা নিয়েছেন। হার্টের অপারেশন করেছেন। কিন্তু আপনাদের দলের প্রথম সারির নেতারা সর্দি কাশি হলেও দৌড়ে বিদেশ চলে যান। এই নেতারা এ দেশের স্বাস্থ্য সেবার জন্য কাজ করবে না। এ জন্য গরিব কর্মীদের সোচ্চার হতে হবে।
 
আলফাজ আনাম : সাংবাদিক
 
(লেখাটি লেখকের ফেসবুক টাইমলাইন থেকে সংগৃহীত)