প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানে সৌজন্য উপহার হিসেবে মৌসুমি আম পাঠিয়ে অতীতে আলোচনায় এসেছে ‘ম্যাঙ্গো ডিপ্লোমেসি’। তবে এবার কূটনৈতিক আলোচনায় এসেছে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। সেটি হলো ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের একটি মহিষকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি।
নারায়ণগঞ্জের একটি খামারে থাকা বিরল সাদা বা অ্যালবিনো মহিষটি কয়েক সপ্তাহ ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় ছিল। কপালের সামনের সোনালি চুলের কারণে খামার মালিকের পরিবার মজা করে মহিষটির নাম দেয় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। পরে ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হলে দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমেও বিষয়টি আলোচনায় আসে। মহিষটি দেখতে ভিড় জমাতে শুরু করেন কৌতূহলী মানুষ।
ঈদুল আজহা সামনে রেখে মহিষটি কোরবানির জন্য বিক্রি হলেও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদল হয়। সরকারের পক্ষ থেকে মহিষটিকে কোরবানি না দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক মহলেও নানা আলোচনা শুরু হয়।
তবে সরকারি সূত্রের ভাষ্য ভিন্ন। তাদের দাবি, বিরল বৈশিষ্ট্যের এই মহিষকে ঘিরে অতিরিক্ত জনসমাগম, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং প্রাণীটির বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে সেটিকে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই বিবেচনায় মহিষটিকে ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
প্রথম দৃষ্টিতে ঘটনাটি নিছক হাস্যরস কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভাইরাল সংস্কৃতির অংশ মনে হতে পারে। কিন্তু এর ভেতরে কূটনৈতিক সংবেদনশীলতার একটি সূক্ষ্ম মাত্রাও রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক এমন এক সময়ে রয়েছে, যখন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে পারস্পরিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতায় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের মহিষটি কোরবানি হওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ভুল ব্যাখ্যা বা অপ্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হোক, এমন ঝুঁকি নিতে হয়তো সরকার আগ্রহী ছিল না। যদিও সরকারিভাবে এমন কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবু ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে জনমনে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন বললেন, 'কূটনীতি কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। অনেক সময় এমন কিছু বিষয় কূটনীতিতে ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়, যা আমাদের ভাবনায়ও থাকে না। বাংলাদেশের বিরল বৈশিষ্ট্যের মহিষটি তেমনই একটি বিষয়। বিষয়টি যেভাবে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় এসেছে, তাতে কোরবানি হলে অনেকেই রক্তাক্ত ছবি দিয়ে লিখতে পারতেন, বাংলাদেশে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে কোরবানি করা হলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে তা সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়তে পারত, যা ভিন্ন বার্তা দিতে পারত। বাংলাদেশ হয়তো সেটি হতে দিতে চায়নি। তা ছাড়া এটি কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।'