Image description
রাজিব আহম্মদ
 
১. তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর প্রচুর নির্যাতন হবে। দলটির নেতাকর্মীদের বাড়িঘর, অফিস-টপিফে হামলা হবে। ভারতের অন্যান্য রাজ্যে এই কালচার নেই। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ যেহেতু বাঙালি জাতির রাজ্য, তাই এটা অবধারিত। যেমন ত্রিপুরায় বিজেপি জেতার পর বাম, কংগ্রেস ও তৃণমূল মাইরের মুখে প্রায় নিশ্চিহ্নের পথে।
তৃণমূল এই কাজটা এতদিন করতে পারেনি, কারণ দিল্লীতে বিজেপি ক্ষমতায়। কেন্দ্রীয় সরকার প্রটেক্ট করেছে রাজ্য বিজেপিকে। তৃণমূল এখন যেহেতু সর্বহারা, তাই ঢোলের মত মার খাবে।
ইডি, সিবিআইসহ নানা কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে রাজ্য পুলিশ, সিআইডির চাপে থেকে বাঁচতে তৃণমূল নেতারা দল বেঁধে বিজেপিতে যেতে পারে। (তূণমূল শুধু কলকাতার ক্ষমতাতেই তৃণমূলের ৯ জন বিধায়ককে গত সাড়ে বছরে দলে এনেছে। এবার তো ডাবল ইঞ্জিন সরকার)।
 
২. উত্তরপ্রদেশ, আসাম, উত্তরাখন্ডে ক্ষমতা পরিবর্তনে রাজ্যগুলোর বিরোধীদল সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেসের ওপর সেইভাবে নির্যাতন হয়নি। কারণ প্রতিহিংসার কালচার কম। কিন্তু বিশেষ করে এই তিন রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলমানদের জীবন বিষিয়ে দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও তাই ঘটবে।
সরকারি জমি দখলমুক্ত করার নামে মুসলমানদের কিছু বাড়িঘর, দোকান, মসজিদ ভাঙা হবে, রাস্তাঘাটে নামাজ পড়লে মারবে, হিন্দু ধর্ম অবমাননার নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, লাভ জিহাদের নামে, খাঁটি ভারতীয় কিনা তা পরীক্ষার নামে হেনস্তা করা হবে। বাংলাদেশি তকমা দিয়ে অপদস্ত করবে।
রাজ্য সরকার কিছু আইন করবে, শুধুমাত্র মুসলমানদের সেকেন্ড ক্লাস নাগরিক ফিল করানোর জন্য। মুসলমানরা ভয়ে ভয়ে আতঙ্কে থাকবে। উত্তরপ্রদেশ ও আসামের চিত্র মুসলমানদের জানা। ফলে যতই নির্যাতিত হোক, পাল্টা কিছু করে আরও নিপীড়নে পড়ার সাহস করবে না।
 
৩. পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের মানে এই নয়, মুসলমানদের ধরে ধরে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে। এটা করলে, আসাম ত্রিপুরায় ক্ষমতায় আসার পরও করত। পশ্চিমবঙ্গের কিছু ঘটনার কারণে, বাংলাদেশে মাঝেমধ্যে উত্তেজনা হবে। তবে তা মাত্রা ছাড়াবে না।
 
৪. পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার যত চোটপাটই করুক, তারা বাংলাদেশের কাউন্টার পার্ট নয়। কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে দিল্লী ঢাকার সমকক্ষ।
দিল্লী সরকার এই মুহুর্তে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো ক্যাচাল লাগানোর মুডে নাই। তারা সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাইছে। তাদের অস্বস্তি ছিল, দিল্লীর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যর্থতার প্রতীকে পরিণত হওয়া ইউনূস সরকার। এটা ছিল তাদের জন্য ব্ল্যাক হোলের মত।
 
দিল্লী মুখিয়ে ছিল বাংলাদেশে একটি নির্বাচনের জন্য। তা হওয়ায় ব্ল্যাক হোল থেকে মুক্তি পেয়েছে। যে কারণে ভারত সরকার প্রায় ১৮ মাস ধরে ইনক্লুসিভ ইলেকশনের আলাপ করলেও, নির্বাচনের পরেরদিন তারেক রহমানকে ফোন করে মোদী অভিনন্দন জানিয়েছেন। সরকারের শপথে স্পিকারকে পাঠিয়েছে। খালেদা জিয়ার জন্য শোক প্রকাশে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠিয়েছে।
শুভেন্দুরা আলবাল বকলেও, এবারের পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামের নির্বাচনে মোদী ও অমিত শাহদের মতো শীর্ষ নেতারা বাংলাদেশ বিরোধী ভাষণ দেননি। ঢাকায় মিত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময়ে মোদী ও অমিত শাহ বাংলাদেশ বিরোধী ভাষণে বরং সরগরম ছিলেন।
 
৫. আরও তাৎপর্য ছিল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হওয়ার পরও ভারতের নিরবতা। গত ২৩ এপ্রিল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে প্রসঙ্গটি উঠলে ভারত সরকার এক লাইনে কথা সেরেছে। তা হলো, 'আমরা পর্যবেক্ষণ করছি'। আর নিশ্চয় জানেন, কূটনীতিতে পর্যবেক্ষণ মানে কিছুই করছি না।
 
শুধু বার্ষিক ২০ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য ও আর্থিক সম্পর্ক নয়, উত্তরপূর্বের সিকিউরিটির জন্য ঢাকার সঙ্গে বন্ধুত্ব দরকার ভারতের। ঢাকা যদি উত্তরপূর্ব নিয়ে না গলায়, দিল্লী মানিয়ে চলবে। চলতে হবে।
তাই কবি বলেছেন, বেগানা শাদি ম্যা আবদুল্লাহর দিওয়ানা হওয়া বোকামি।