Image description

বিএনপি সরকার যে বিপদে পড়বে কয়টা কারণে তার মধ্যে দুটি হলো

১. দক্ষ (সিভিলিয়ান) পিআর টিমের অভাব
২. অনলাইন স্ফিয়ারে প্রভাবশালী এমন অনেক লোক যারা বিএনপির ওয়েলউইশার (বা যাদেরকে নানানভাবে ওয়েলউইশার বানিয়ে ফেলা যেত) তাদেরকে অতিদ্রুত ’বিরোধীপক্ষ’ বানিয়ে ফেলা।


সরকার এবং সরকারি দল পিআরে ফেইল করতেছে, ক্লিয়ারলি। অনেক মিস/ডিসইনফরমেশন/বিভ্রান্তি যেগুলো সহজেই মোকাবেলা করা যেত, সেগুলোকে মোকাবেলা করতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে ভুল করে ফেললেও সেটাকে দক্ষ পিআর ম্যানেজাররা নানান ধরনের এক্সপ্লেইনার দিয়ে, আগে/পরের কনটেক্সট দিয়ে ভালোভাবেই ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে সক্ষম হোন। যা ডিফেন্সিবল না, দক্ষ পিআর ম্যানেজারা তা শুরুতেই ধরে ফেলতে পারেন এবং সেটার জন্য আনকনডিশনাল এপোলজি/সারেন্ডার/পানশিমেন্ট বা অন্য উপায় সাজেস্ট করেন, যেটা অডিয়েন্সকে কনফিডেন্স দেয়।

এখন পর্যন্ত সরকারের কোন সেন্ট্রালাইজড মেসেজিং সিস্টেম নাই। অনেক বিষয়ে সরকারের নানান বিভাগ বা ব্যক্তিবর্গের বার্তা ইনকোহেরেন্ট। রিসেন্টলি দুইজন মুখপাত্র করা হয়েছে। কিন্তু তারা কতটা দক্ষ এবং ইকুইপট টিম দ্বারা সাপোর্টেড কিনা স্পষ্ট নয়। ডিজিটাল যুগে একটা সরকারের মতো ‘বিশাল ও জঠিল যন্ত্র’ নানামুখী বিরোধীপক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে নানান ইস্যুতে যথেষ্ট পরিমাণ বার্তা পাবলিককে দেয়া এবং অসংখ্য ভুল/বিভ্রান্তিকর বার্তা কাউন্টার করা কোন এক বা দুই ‘মুখপাত্র’ নামীয় ব্যক্তি বিশেষের কাজ নয়। আরও অনেক দায়িত্বে জর্জরিত ব্যক্তিদের দ্বারা এই বিশাল মেসেজিং সিস্টেম রান করা সম্ভব নয়। এটার জন্য নানান অভিজ্ঞ লোকদের সমন্বয়ে একটা শক্তিশালী ২৪/৭ রান করে এমন সিস্টেম দাঁড় করাতে হবে, যেখানে টপ ব্যক্তি/ব্যক্তিরা ছাড়াও সঠিক বার্তা সঠিক সময়ে পাবলিককের কাছে যাবে। এই পিআর এক্টিভ/প্যাসিভ সবভাবেই করতে হবে।

সমস্যা হলো, যখন সরকার সিভিলিয়ানদের দ্বারা পরিচালিত পিআর-এ |ফেইল করে, তখন সেই ভ্যাকুয়ামের সুযোগ নেয় সিকিউরিটি এজেন্সিগুলো। এবং সরকারও তখন বাধ্য হয়ে এজেন্সিগুলোর ওপর ডিপেন্ডেন্ট হয়। সিকিউরিটির লোকজন সরকারের রেপুটেশন ম্যানেজ করার দায়িত্ব পেলে তখন দুইটা কাজ শুরু করে। 

১. জোরপূর্বক মানুষের মুখ/সমালোচনা/মিসইনফরমেশন ছড়ানো বন্ধ করার চেষ্টা করা। মামলা দেয়া, কাইকে উঠিয়ে আনা, গোয়েন্দা অফিসে ডেকে শাসানো, গুম করা বা চূড়ান্ত হলে খুন করা-- এসব।
২. বেনামি সাইট/পেইজ/লেখক দিয়ে প্রোপাগান্ডা করা। এই প্রোপাগান্ডা কখনো হয় সরকারের পক্ষে আবার কখনো সরকারের সমালোচকদের বিপক্ষে। তখন তারা মানবাধিকার কর্মীর বিরুদ্ধেও প্রোপাগান্ডা করে, আবার সরকারের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা করছে এমন লোকের বিরুদ্ধেও প্রোপাড়ান্ডা করে। ডিসইনফরমেশন স্প্রেডারদের বিরুদ্ধে তারাও ডিসইনফরমেশন ছড়ায়! অনেক সময় এসব এজেন্সি সত্যিকারের একটা ডিসইনফরমেশন ডিবাঙ্ক করলেও জাস্ট তাদের হাতে থাকা আউটলেটগুলো বেনামি হওয়ার কারণে সেগুলো মানুষের আস্থা পায় না।

আওয়ামী লিগ যখন তুলনামূলক ভাল ছিল তখন তাদের হয়ে পিআরের কাজ আসলে দেশের মিডিয়া করেছে। স্বেচ্ছায় করেছে। কিন্তু দলটা যখন বেশি পচে গেছিল তখন তাদেরকে ডিফেন্ড করার জন্য আসলে কোন ক্রেডিবল মিডিয়াও ছিল না, অথবা অনেক মিডিয়া এগুলো করতে করতে ক্রেডিবিলিটি হারিয়েছিল।


এবং শেষের দিকে তারা এজেন্সির ওপর তাদের রেপুটেশন ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব দিয়ে আরও পচেছিল।


বিএনপির উচিত সিভিলিয়ান এক্সপার্টদের (প্রয়োজনে বিদেশ থেকেও লোক নিয়েও হোক) দিয়ে তাদের জনসংযোগ ম্যানেজ করা; সিকিউরিটি এজেন্সির উপর নির্ভরশীল হওয়ার আগে।

 

লেখক : এডিটর, দ্য ডিসেন্ট