বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ‘ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক’ (ইউটিএল) কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তিক সংগঠন নয় বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে এর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সংগঠনটিকে ‘জামায়াতপন্থী’ বা ‘বিএনপিপন্থী’ হিসেবে তকমা দিয়ে শিক্ষকদের ওপর জুলুম করার চেষ্টা করা হলে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে ইউটিএল-এর কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন এসব তথ্য জানান। বিবৃতিতে তিনি ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে ‘ট্যাগিংয়ের রাজনীতি’ বন্ধের জোর দাবি জানান।
বিবৃতিতে অধ্যাপক বিলাল বলেন, 'প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউটিএল-কে কখনও বিএনপি, কখনও জামায়াত আবার কখনও এনসিপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন বলে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। আমরা পরিষ্কার করতে চাই এটি কোনো দলের অনুসারী সংগঠন নয়। বরং জ্ঞান, আত্মমর্যাদা, বিশ্বাস ও স্বাধীনতা-এই চার মূলনীতি এবং জুলাই বিপ্লবের স্পিরিটকে ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন এমন ডানপন্থী, ইসলামপন্থী, মধ্যমপন্থী ও ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষকদের একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম।'
গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর একটি ‘সুবিধাবাদী গোষ্ঠী’ ইউটিএল-কে জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে এর সদস্যদের ওপর হয়রানির পাঁয়তারা করছে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়। এ প্রসঙ্গে সদস্য সচিব বলেন, 'আপনি ইউটিএলকে জামায়াতপন্থী বলবেন নাকি বিএনপিপন্থী বলবেন; এটা আপনার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। আমরা এতে চিন্তিত নই, তবে কারো মতলবি চিন্তার কারণে যদি কোনো শিক্ষককে ইউটিএল-এ সম্পৃক্ত থাকার জন্য ন্যূনতম ক্ষতির শিকার করা হয়, তবে আমরা তা সহ্য করব না।'
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ২৬ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইউটিএল-এর প্রতিটি কার্যক্রম এবং কমিটির তালিকা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। স্বল্প সময়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করে সংগঠনটি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষকের মাঝে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ শান্ত রাখতে এবং শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় সুবিধাবাদী মহলকে ‘নোংরামি’ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান অধ্যাপক বিলাল হোসাইন।