Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গত মঙ্গলবার বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রধান উপদেষ্টার পদ বিলুপ্ত হয়। এরপরই আলোচনায় আসে—ড. ইউনূস কবে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ছাড়বেন এবং যমুনা ছাড়ার পর কোথায় উঠবেন।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চলতি মাসেই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ছেড়ে দেবেন। যমুনা ছেড়ে তিনি তার গুলশানের বাসভবনে উঠতে পারেন।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, ক্ষমতা ছাড়ার পর নিয়ম অনুযায়ী ড. ইউনূসের তিন মাস যমুনায় বসবাসের সুযোগ থাকলেও তিনি যমুনা ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে এরই মধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি যমুনা ছাড়ার পরই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রস্তুত করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য নতুন বাসভবন তৈরির আগ পর্যন্ত যমুনাতেই থাকতে পারেন তিনি।

এ ব্যাপারে গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক প্রকৌশলী বলেন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা চলতি মাসে যমুনা ছাড়ার কথা বলছেন। এরপর সেটাকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে বসবাসের উপযোগী করতে বেশ কিছুদিন অর্থাৎ এক মাসের মতো সময় লাগতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য নতুন বাসভবন তৈরি না হওয়া পর্যন্ত যমুনাতেই তিনি থাকবেন। সেভাবেই গণপূর্ত বিভাগ প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করার পর সরকারি আবাসন পরিদপ্তর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’কে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন হিসেবে নির্ধারণ করে। টানা ৫৫৯ দিন দায়িত্ব পালনের পর মঙ্গলবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘদিন শেরেবাংলা নগরের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন গণভবনে ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে তিনি দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর গণভবনে ব্যাপক লুটপাট ও ভাঙচুর চালিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়। পরে সেটাকে জুলাই জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

এদিকে নতুন প্রধানমন্ত্রীর স্থায়ী বাসভবনের জন্য গণভবনের পাশেই একটি জায়গা নির্ধারণ করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তবে সেটি নির্মিত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী যমুনায় থাকতে পারেন।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তর পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান (অতিরিক্ত সচিব) কালবেলাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যমুনা নাকি অন্য কোথাও থাকবেন—এই বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য আবাসন পরিদপ্তরের কাছে নেই।