Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণার হিড়িক। দলীয় কর্মী ও দলের ফেসবুক পেজ ছাড়াও খোদ প্রার্থীরাও নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও ক্লিকবেইট জার্নালিজমের প্রবণতায় ছড়াচ্ছে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য। চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগেই একই সংবাদমাধ্যমে একই আসনের দুজন একাধিক প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করে ফটোকার্ড ছড়িয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সারাদেশের ফল ঘোষণা চলমান থাকা অবস্থায় এ ধরণের ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রার্থী ও দলগুলোর বিভিন্ন পেইজ ঘেঁটে এসব তথ্য দেখা গেছে।

জামায়াত আমিরের জয়ের ঘোষণার পর ‘বিজয়ী’ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী
দেখা যায়, ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বিজয়ী হওয়ার পরও ওই আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মিল্টন নিজেকে বিজয়ী বলে ঘোষণা করেছেন। তার ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। ঢাকা-১৫ আসন শফিকুল ইসলাম মিল্টন।’

যদিও এই আসনে ২০ হাজার ৭২৫ ভোটের ব্যবধানে জামায়াত আমির বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, আসনটির মোট ১২৭টি কেন্দ্রের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ডা. শফিকুর রহমান পেয়েছেন ৮২ হাজার ৬৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ৬১ হাজার ৯২০ ভোট। ফলে ২০ হাজার ৭২৫ ভোটের ব্যবধানে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান বিজয়ী হয়েছেন।

ফল গণনা শেষ হওয়ার আগেই বিজয়ী তারেক রহমান
ঢাকা-১৭ আসনের ফল গণনা শেষ হওয়ার আগেই বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে দলটি। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ৫৭ মিনিটেই বিএনপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে তারেক রহমানকে বিজয়ী ঘোষণা করে পোস্ট দেওয়া হয়। এর পরপরই পেইজ থেকে পাবলিশ করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তারেক রহমানের জয়ের খবরে গুলশান কার্যালয়ে উল্লাস করছেন নেতাকর্মীরা। যদিও সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-১৭ আসনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা দূর, এখনও বেশ কয়েকটি কেন্দ্রের গণনা শেষ হয়নি।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সর্বশেষ রাত সাড়ে ১২টার তথ্য বলছে, ঢাকা-১৭ আসনের ১২৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৭টির ফলাফল পাওয়া গেছে। এতে তারেক রহমান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৫১১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের এসএম খালিদুজ্জামান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬১ হাজার ২ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৩ হাজার ৫০৯ হলেও এখনও ১৭টি কেন্দ্রের ফল বাকি রয়েছে।

ঢাকা-১৩ আসনে কে বিজয়ী?
ঢাকা-১৩ আসনে ১১ দল সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হককে বিজয়ী ঘোষণার পর ফটোকার্ড ডিলিট করে ধানের শীষের প্রার্থী ববি হাজ্জাজকে বিজয়ী করার ঘটনা ঘটেছে। একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যম থেকে এ সংক্রান্ত ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনার পর বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজের প্রাপ্ত ভোটসংখ্যার ‘কাটাকাটি’ করা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ভাইরাল হওয়া একাধিক কেন্দ্রের ফলের ছবিতে দেখা যায়, রেজাল্ট শিটে ববি হাজ্জাজের নামের পাশে লেখা ভোটসংখ্যার ওপর কাটাকাটি করে নতুন সংখ্যা বসানো হয়েছে। এ নিয়ে ফলাফল পরিবর্তনের অভিযোগ তুলছেন তার নেটিজেনরা।

ঢাকা-১৩ আসনে পাওয়া শতাধিক কেন্দ্রের ফলাফলে প্রথম দিকে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত মাওলানা মামুনুল হক এগিয়ে ছিলেন। পরে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ববি হাজ্জাজ মামুনুল হককে ছাড়িয়ে যান। এ আসনে ১৩৮ কেন্দ্রের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১০২ কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে। এতে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ববি হাজ্জাজ পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১৪০ ভোট। অন্যদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৯ হাজার ২৬৫ ভোট। দুজনের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ৬ হাজার ৮৭৫।

ফল ঘোষণার আগেই ‘চিরকৃতজ্ঞ’ আফরোজা আব্বাস
ঢাকা-৮ আসনের ফল ঘোষণা স্থগিত হলেও স্বামী মির্জা আব্বাসের জয়ের ইঙ্গিত করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন স্ত্রী আফরোজা আব্বাস। সরাসরি বিজয়ের ঘোষণা না দিলেও বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১১টা ২৮ মিনিটে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া। আমার প্রাণের ঢাকা ৮ আসন এর এলাকাবাসীর কাছে চিরকৃতজ্ঞ।’

জামায়াত-বিএনপি-গণমাধ্যমে সংখ্যার বিভ্রাট
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধান দুটি দলের বিজয়ের তালিকা আর সংবাদমাধ্যমের তালিকায় বিস্তর ফারাক লক্ষ্য করা গেছে। বিএনপির পেজে নিজেদের বিজয়ী প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখ করা না হলেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাতে বিজয়ী প্রার্থীদের পৃথক ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়েছে। তবে সর্বশেষ রাত ১১টা ৪২ মিনিটে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় পেজে দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় তাদের ৮০ এবং বিএনপির ৭৭ জন বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও বিজয়ী হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে সংবাদমাধ্যমের তথ্যে গড়মিল থাকলেও সর্বশেষ ১৫০টির অধিক আসনে বিএনপির প্রার্থীদের জয়ের তথ্য পাওয়া গেছে।