Image description

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ইসিবি চত্বর এলাকার নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে আবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার খবর পেয়ে বিকাল ৪টায় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

নিউগিনি আবাসন প্রকল্পের মালিক মো. নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, দুর্বৃত্তরা তার প্রকল্পে আবারও হামলা চালিয়েছে।

ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গিয়াস উদ্দিন হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।’

 

থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফ জানান, ফোন করে একজনকে আটকে রাখার অভিযোগ করা হয়েছিল। খবর পেয়ে ওসির নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে যায়।

আগের ঘটনার মামলার বাদী সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, ‘আজকের হামলায় আগের সন্ত্রাসীরাই জড়িত। তাদের সঙ্গে স্থানীয় যুবলীগ নেতা বাবুল ও সন্ত্রাসী রুবেল যুক্ত ছিলেন। পুলিশ ইতোমধ্যে সাত থেকে আটজনকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে।’

 

তিনি আরও জানান, আগের হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। আর এবারের হামলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে নিরাপত্তা কর্মী ও মিস্ত্রিদের মোবাইল ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ কয়েকটি মোবাইল উদ্ধার করতে পারলেও প্রজেক্টের কাজে ব্যবহৃত ওয়াকিটকি এখনো পাওয়া যায়নি।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতেও নিউগিনি প্রপার্টিজের এই আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। ওই সময় প্রজেক্টে অবস্থিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, গত ২৬ সেপ্টেম্বরের হামলার নেপথ্যে ছিলেন ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম ওরফে ‘কিলার ইব্রাহিম’। ঘটনার দিন ইসিবি চত্বরের একটি খাবারের দোকানে বসে ১৩ জন মিলে হামলার পরিকল্পনা করেন।

 

মামলার ১ নম্বর আসামি শাহরিয়ার মাহমুদ এক কোটি টাকার চুক্তিতে ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ইব্রাহিম তার বাহিনীর সদস্য যুবরাজকে হামলার দায়িত্ব দেন। তবে সেই হামলার অন্যতম সমন্বয়ক যুবরাজকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবি সূত্র জানায়, ওই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া ও পরিকল্পনার অভিযোগে এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে। তবে তাদের মধ্যে আটজন ইতোমধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বর্তমানে হামলায় জড়িত আরও নয়জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।