Image description

বাংলাদেশি ক্যানসার রোগীদের সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের হাসপাতালের চেয়েও কম খরচে সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা দেওয়ার কথা জানিয়েছে চীনের বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান গুয়াংজু মডার্ন ক্যানসার হাসপাতাল। প্রতি মাসে বর্তমানে অন্তত ৩০ জন বাংলাদেশি ক্যানসার চিকিৎসায় এ হাসপাতালে যাচ্ছেন বলেও জানিয়েছে হাসপাতালটি।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে গুলশানে বাংলাদেশ চায়না আপন মিডিয়া ক্লাব ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) সঙ্গে এক আলোচনা সভায় হাসপাতালটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আন্তর্জাতিক বিভাগের পরিচালক হি ল্যাংবিং এ তথ্য জানান।

 

এ সময় গুয়াংজু মডার্ন ক্যানসার হাসপাতালের অনকোলজি স্পেশালিস্ট উ উই ও বিএইচআরএফ সেক্রেটারি মুজাহিদ শুভ উপস্থিত ছিলেন।

 

আলোচনা সভায় হি ল্যাংবিং বলেন, ‘গুয়াংজু ক্যানসার হাসপাতালের ২০ বছর ধরে বিদেশি রোগীদের চিকিৎসায় সেবা দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমাদের প্রতিষ্ঠান জেসিআই সার্টিফাইড। এ হাসপাতালে ক্যানসারের সর্বাধুনিক ও ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ আক্রমণাত্মক ক্যানসারের চিকিৎসা রয়ছে। ফুসফুস, লাংগ ও স্তন ক্যানসারের সর্বাধুনিক চিকিৎসা দিয়ে আসছি আমরা। সামনে লিভার ও প্যানক্রিয়াটাইটিসের চিকিৎসায় আলাদা বিভাগ চালু করার চিন্তা চলছে।’

 

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১০৩টি দেশের নাগরিক এ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

হি ল্যাংবিং বলেন, ‘কয়েক বছর থেকে বাংলাদেশি রোগীরা যাচ্ছেন। বিশেষ করে গত বছর থেকে যাওয়ার হার তুলনামূলক অনেক বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি মাসে ৩০ জন বাংলাদেশি ক্যানসার রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন। যারা চিকিৎসা নিয়েছেন, অধিকাংশের জীবনমানের পরিবর্তন হয়েছে, কেউবা স্থায়ীভাবে ক্যানসার মুক্তও হয়েছেন।’

 

অনকোলজি স্পেশালিস্ট উ উই বলেন, ‘চিকিৎসায় নিতে গিয়ে রোগীদের শারীরিক অবস্থা যাতে খারাপ না হয়, সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে আমাদের। ক্যামেথেরাপি কিংবা রেডিওথেরাপি নিতে গিয়ে রেডিয়েশনের যে প্রভাব, সেটি থেকে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে আমাদের প্রযুক্তির। এ কারণে আমরা রোগীদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছি।’

 

তিনি বলেন, ‘ক্যানসারের অ্যাডভান্স চিকিৎসায় আমাদের হাসপাতালের খরচ ভারতের থেকে সামান্য বেশি। কিন্তু সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের তুলনায় অনেকটা কম। দীর্ঘ সময় ধরে আমরা অত্যন্ত আস্থা ও সুনামের সঙ্গে চিকিৎসা দিয়ে আসছি। কাজেই বাংলাদেশিদের আস্থা ফেরাতে এদেশে আমাদের পরামর্শক কেন্দ্রও চালু করা হয়েছে। চিকিৎসা সংক্রান্ত যেকোনো পরামর্শ তারা এখান থেকে নিতে পারবেন।’