Image description

মা-বাবার ভালোবাসা পাওয়ার আশায় টিকটকে ভণ্ড কবিরাজের খপ্পরে পড়ে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা খুইয়েছে ১২ বছরের এক কিশোরী। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কবিরাজ চক্রের মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুরে পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তারকৃকরা হলো- জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের মুছা মিয়া (২৯) ও রফিকুল ইসলাম (২৮) এবং চক্রের মূল হোতা ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানা এলাকার মনির হোসেন। পিবিআই জানায়, শেরপুরের কাপড় ব্যবসায়ী সাইদুর রহমানের মেয়ে লুবানা (১২) স্থানীয় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তার মনে ধারণা জন্মায় যে, মা-বাবা তাকে কম ভালোবাসেন। এই ভাবনা থেকে সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও দেখে আসক্ত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে টিকটকে ‘খুরশেদ কবিরাজ’ নামে এক তান্ত্রিকের সন্ধান পায় সে। মা-বাবার ভালোবাসা পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই ভণ্ড কবিরাজ ইমো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লুবানার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। কবিরাজির ফি এবং বিভিন্ন সামগ্রী (যেমন: খাসি, জায়নামাজ, আগরবাতি, মোমবাতি, গরুর দুধ, ফল, জোড়া শূকর ও চন্দন কাঠ) কেনার কথা বলে গত ১লা মার্চ বিকাশের মাধ্যমে লুবানার কাছ থেকে ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা হাতিয়ে নেয়।

 এতেও কাজ না হওয়ায় ১০ই মার্চ তারা লুবানার কাছ থেকে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও আরও ১ লাখ টাকা নেয়। টাকা ও স্বর্ণালংকার নেয়ার পরও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় সর্বশেষ ঝাড়ফুঁকের কথা বলে লুবানার কাছে আরও ১ লাখ টাকা দাবি করে ভণ্ড কবিরাজ। লুবানা বিকাশের দোকানে টাকা পাঠাতে গেলে, অল্পবয়সী মেয়ের এত টাকা লেনদেনের বিষয়টি দেখে দোকানদারের সন্দেহ হয়। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে লুবানার বাবাকে ফোন করে বিষয়টি জানান। এরপরই পুরো ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। এ ঘটনায় লুবানার বাবা সাইদুর রহমান গত ১৭ই মার্চ শেরপুর সদর থানায় একটি মামলা করেন। লুবানার বাবা সাইদুর রহমান বলেন, আমার তিন সন্তানের মধ্যে লুবানা বড়। তার কেন যেন মনে হয়েছে, আমরা তাকে কম ভালোবাসি। এই চিন্তা থেকেই সে ইন্টারনেটে কবিরাজের খোঁজ করতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়। পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে জামালপুর পিবিআই মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। জামালপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত মুছা মিয়া ও রফিকুল ইসলামকে গত ৯ই এপ্রিল গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের মূল হোতা মনির হোসেনকে বুধবার রাতে ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার মাসকান্দা নতুনবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, মনিরের স্বীকারোক্তিতে তার বাড়ির পাশের বাগানের মাটি খুঁড়ে ২৫ ভরি ৯ আনা ৪ রতি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৫টি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।