Image description

রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলোর পরিবহন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে মেট্রোরেলের পাশাপাশি এবার মনোরেল নেটওয়ার্ক চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বৃহত্তর ঢাকার দীর্ঘমেয়াদি পরিবহন নীতি—’রিভাইজড স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান’ (আরএসটিপি) আরও একবার সংশোধন করা হচ্ছে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, পুরান ঢাকার মতো জনবহুল এলাকা—যেখানে বাস সেবা সীমিত এবং মেট্রোরেলের কোনো সুবিধা নেই, সেসব এলাকায় মনোরেল ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর পাশাপাশি যাত্রীদের যাতায়াত সহজ ও নির্বিঘ্ন করতে মনোরেল লাইনগুলোকে বিদ্যমান মেট্রোরেল স্টেশনগুলোর সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মনোরেল নির্মাণের খরচ মেট্রোরেলের তুলনায় অনেক কম। তা ছাড়া এটি সহজে আঁকাবাঁকা ও সরু পথ দিয়েও চলাচল করতে পারে, যদিও এর যাত্রী ধারণক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম।

বৃহত্তর ঢাকার জন্য প্রথম ২০ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (এসটিপি) তৈরি করা হয়েছিল ২০০৫ সালে। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সময়ের জন্য ২০১৫ সালে এটি সংশোধন করা হয়। এই পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করেই মেট্রোরেল, বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি), এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং ফ্লাইওভারের মতো বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলো হাতে নেওয়া হয়েছে।

২০২৫ সালে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে এসটিপির আরেকটি সংশোধনী প্রস্তাব জমা দেয়। এরপর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের আগের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী খসড়া পরিকল্পনায় মনোরেইল অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

চলমান মেট্রোরেল ও বিআরটি প্রকল্প থাকা সত্ত্বেও রাজধানীতে যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আগের মতোই রয়ে গেছে। এর বাইরে কোম্পানিভিত্তিক বাস সেবা চালু, পথচারীবান্ধব সড়ক ব্যবস্থা এবং অননুমোদিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

পরিবহন পরিকল্পনার আরও সংশোধন, সম্ভাব্য সংযোজন এবং নীতিগত সমন্বয় নিয়ে মঙ্গলবার একটি সেমিনারের আয়োজন করেছে ডিটিসিএ। ডিটিসিএর অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রবিউল আলম বলেন, ‘নতুন ইউআরএসটিপিতে মনোরেলের প্রস্তাব করা হয়েছে।’

বুয়েটের অধ্যাপক শামসুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, আগের পরিবহন পরিকল্পনাটি মূলত মেট্রোরেল-কেন্দ্রিক একটি মহাপরিকল্পনায় পরিণত হয়েছিল। এ কারণেই নতুন হালনাগাদকৃত নীতিমালায় মনোরেল অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

তিনি আরও যোগ করেন, যেসব এলাকায় বাঁক নেওয়ার জায়গা এবং জায়গার স্বল্পতার কারণে মেট্রোরেল সম্প্রসারণ করা সম্ভব নয়, সেসব স্থানে মনোরেল চালুর বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে লাইসেন্সের আওতায় আনার উদ্যোগ নিচ্ছে ডিটিসিএ। কর্মকর্তারা বলছেন, সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চালকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনাই এর মূল লক্ষ্য।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি ঢাকার রাস্তা থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্ছেদের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

অধ্যাপক শামসুল হক অবশ্য ছোট ছোট এই যানবাহনগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, পুরান ঢাকা, বাসাবো, গোড়ান ও মাদারটেকের মতো অনেক জনবহুল এলাকায় বড় বাসের যাতায়াত নেই।

তিনি বলেন, ‘এই সব এলাকার মানুষকে যদি বলা হয় ই-বাইক বা রিকশা বন্ধ করে দেওয়া হবে, তাহলে মানুষ কীভাবে যাতায়াত করবে? এগুলো তুলে দেওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত হবে।’