পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সংকটের মূল কেন্দ্রে এখন এ দেশ দু’টি। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতভর উভয় দেশের সীমান্তে চলে তীব্র গোলাগুলি। যা শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়।
আফগানিস্তানের প্রধান প্রধান শহরে একযোগে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। উভয় দেশই আগে হামলা হওয়ার অভিযোগ করেছে। ইসলামাবাদের দাবি, বিনা উস্কানিতে সীমান্তে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান। জবাবে তালেবানদের বিরুদ্ধে ‘গজব লিল-হক’ নামের শক্তিশালী সামরিক অভিযান শুরু করে ইসলামাবাদ। একযোগে আকাশ ও স্থল পথে হামলা চালানো হয়। এতে পাঁচ শতাধিক তালেবান যোদ্ধা হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র। তালেবানরাও পাকিস্তানে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে বেশ কিছু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কাবুলের তুলনায় ইসলামাবাদই বেশি মারমুখী ছিল। দেশটির সেনাবাহিনী একশ’র মতো সীমান্ত চৌকি ধ্বংস এবং দখলের দাবি করেছে। এ ছাড়া ইসলামাবাদের হামলায় তালেবানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হাবিতুল্লাহ আখুন্দজাদা নিহত হয়েছেন বলেও গুঞ্জন ছড়িয়েছে। যদিও এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ, চীন, রাশিয়া, ইরান, সৌদি আরব, তুরস্কসহ বহু দেশ কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
প্রতিবেশী এ দুই দেশের বৈরী সম্পর্কের ইতিহাস নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে তালেবানদের সঙ্গে পাকিস্তান সরকারের সম্পর্ক বরাবরই খারাপ। তালেবানদের অভিযোগ পাকিস্তান সরকারের কারণেই তাদের দীর্ঘ সময় লড়াই করতে হয়েছে। ২০২১ সালে ক্ষমতায় আসে তালেবানরা। এরপর থেকে তারা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে সচেষ্ট হয়েছে। যা পাকিস্তানের মাথাব্যথার বড় কারণ। অন্যদিকে তালেবানদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে মদত দেয়ার অভিযোগ আছে। এসব বিষয় নিয়ে গত কয়েক মাসে একাধিকবার সংঘাতে জড়িয়েছে প্রতিবেশী এই দুই দেশ। তবে এবারের পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা আগের তুলনায় বেশি বলেই মনে করা হচ্ছে।
মূল ঘটনা
শুক্রবার পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আফগান বাহিনী সীমান্তের কাছাকাছি সামরিক অবস্থানগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসলামাবাদ আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে বিমান হামলা শুরু করে। তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল রাজধানী কাবুলসহ অন্যান্য শহর।
আল জাজিরার প্রতিনিধি নাসের শাদিদ জানিয়েছেন, পাকিস্তানের প্রথম হামলাটি স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত প্রায় ১টা ৫০ মিনিটে হয়। জবাবে আফগান বাহিনী বিমান বিধ্বংসী গোলাবর্ষণ শুরু করে।
শুক্রবার সকালে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ এক্স বার্তায় লিখেছেন, আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন আমাদের এবং আপনাদের মধ্যে প্রকাশ্য যুদ্ধ শুরু হলো। পাকিস্তান এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন গজব লিল-হক’। যার অর্থ হলো ‘ন্যায়সংগত ক্রোধ’।
আফগানিস্তানের যেসব শহর নিশানা করেছে পাকিস্তান
এদিকে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এক্স বার্তায় লিখেছেন, আফগানদের রাজধানী কাবুলসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পাকতিয়া প্রদেশ এবং দক্ষিণ কান্দাহারে অবস্থিত তালেবান প্রতিরক্ষা কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আফগান সরকারের মুখপাত্র মুজাহিদও এক্স পোস্টে তিন প্রদেশে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র রিপোর্ট বলছে, এই হামলায় আফগানিস্তানে দু’টি ব্রিগেড ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে। তারা পাকিস্তানের দু’জন সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পাকিস্তান টিভি একটি রিপোর্টে দাবি করেছে, দেশটির বাহিনী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তালেবানদের গুরুত্বপূর্ণ আস্তানা (ঘাঁটি) ধ্বংস করেছে। সংবাদমাধ্যমটির দাবি অনুযায়ী, আফগানিস্তানে লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল কান্দাহারে একটি তালেবান ব্রিগেড সদর দপ্তর ও গোলাবারুদ ডিপো। সেই সঙ্গে ওয়ালি খান সেক্টর, শাওয়াল সেক্টর ঘেঁষা এলাকা, বাজাউর সেক্টর এবং আঙ্গুর আড্ডার তালেবান পয়েন্টও হামলার শিকার হয়েছে।
পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের চিত্রল, খাইবার, মোহমান্দ, কুররাম এবং বাজাউর সীমান্তে তালেবান যোদ্ধাদের সঙ্গে গোলাগুলি হয়েছে। শুক্রবার ভোরে হামলা পরবর্তী সময়ে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার প্রধান তোরখাম সীমান্ত পারাপারের কাছে গোলাগুলি এবং শেল বর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।
ইসলামাবাদ থেকে আল জাজিরার কামাল হায়দার এবং এএফপি জানিয়েছে, সকালে সীমান্তের কাছে শেল বর্ষণের শব্দ শোনা গেছে। এএফপি জানিয়েছে, আফগান সৈন্যরা সীমান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।
অক্টোবরে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে লড়াইয়ের পর থেকে স্থল সীমান্ত মূলত বন্ধ থাকলেও, পাকিস্তান থেকে দলে দলে ফিরে আসা আফগানদের জন্য তোরখাম পারাপারটি খোলা রাখা হয়েছে।
হতাহত সম্পর্কে যা জানা গেল
আফগানিস্তানে গজব লিল-হক অভিযানে ২৭৪ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। পাকিস্তান সামরিক বাহিনী আরও জানায়, সংঘর্ষে অন্তত ৩১৪ জন তালেবান যোদ্ধা আহত হয়েছেন। এ ছাড়া তালেবানের ৭৩টি সামরিক চৌকি পুরোপুরি ধ্বংস এবং ১৭টি চৌকি পাকিস্তান সেনাবাহিনী দখলে নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি ১৩৩ তালেবান যোদ্ধা নিহত ও ২০০ জনের বেশি আহত হওয়ার দাবি করেছিলেন। দুই পক্ষের সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ২৭ পাকিস্তানি আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দেয়া হতাহতের এ সংখ্যার সঙ্গে তালেবান সরকারের তথ্যের বড় ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে। এর আগে তালেবান বলেছিল, তাদের মাত্র ৮ জন যোদ্ধা নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার বলেছে, গত রোববার আফগান সীমান্তের ভেতরে পাকিস্তানি হামলার প্রতিশোধ নিতে তারা শুক্রবার ভোরে সীমান্ত বরাবর পাকিস্তানি সামরিক ঘাঁটি এবং আউটপোস্টগুলোতে হামলা চালিয়েছে। তারা দাবি করেছে, তাদের বাহিনী ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেছে এবং দু’টি সামরিক ঘাঁটি ও ১৯টি সামরিক পোস্ট দখল করেছে। পাকিস্তান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
নানগারহার প্রদেশের আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রাদেশিক পরিচালক মৌলভি ফজল রহমান ফাইয়াজ বলেছেন, রোববারের হামলায় ১৮ জন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ ঐক্যের সঙ্গে তাদের প্রিয় মাতৃভূমি রক্ষা করবে এবং সাহসের সঙ্গে আগ্রাসনের জবাব দেবে। তিনি শুক্রবার এক্স পোস্টে লিখেছেন, পাকিস্তান যে সহিংসতা এবং বোমা হামলার সমস্যা তৈরি করেছে তা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারবে না তারা। বরং তাদের নিজেদের নীতি পরিবর্তন করতে হবে এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণ, সম্মান এবং সভ্য সম্পর্কের পথ বেছে নিতে হবে।
কেন সংঘাতে জড়ালো পাকিস্তান-আফগানিস্তান?
দুই দেশের মধ্যে বর্তমান এই সহিংসতার ভয়াবহ রূপ গত কয়েক মাসের উত্তেজনারই চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। ২০২৫ সালের অক্টোবরে, কাতার এবং তুরস্কের মধ্যস্থতায় আফগানিস্তান ও পাকিস্তান তাদের সীমান্ত জুড়ে এক সপ্তাহের তীব্র এবং প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর একটি তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার সীমান্তকে ‘ডুরান্ড লাইন’ বলা হয়। যা ২ হাজার ৬১১ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। আফগানিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে এই সীমান্তকে স্বীকৃতি দেয় না। তাদের যুক্তি হলো এটি একটি চাপিয়ে দেয়া ঔপনিবেশিক সীমানা যা অবৈধভাবে দুই দেশের মধ্যে পশতুন জাতিগোষ্ঠীর এলাকাগুলোকে বিভক্ত করেছে। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে এই প্রতিবেশীরা ঘন ঘন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিষয়ের বিশেষজ্ঞ সামি ওমারি আল জাজিরাকে বলেছেন, ২০২১ সাল থেকে আফগান ও পাকিস্তানি বাহিনীর মধ্যে ৭৫টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বিশেষ করে, পাকিস্তান চায় তালেবান যেন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে, যাদের আফগানিস্তান আশ্রয় দিচ্ছে বলে পাকিস্তান দাবি করে। ২০০৭ সালে পাকিস্তানে টিটিপি’র উত্থান হয় এবং এটি আফগানিস্তানের তালেবান থেকে আলাদা হলেও তাদের সঙ্গে গভীর আদর্শিক, সামাজিক এবং ভাষাগত মিল রয়েছে।
সম্পদসমৃদ্ধ বেলুচিস্তান প্রদেশে সক্রিয় টিটিপি এবং বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-এর সশস্ত্র হামলা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে বৃদ্ধি পেয়েছে। আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তান এই সহিংসতার মূল ধকল সইছে।
শুক্রবার পাকিস্তানের সাবেক অর্থমন্ত্রী মিফতাহ ইসমাইল বলেছেন, আফগানিস্তানের গর্বিত ও দরিদ্র নাগরিকদের বিরুদ্ধে দেশটির কিছু নেই। তিনি এক্স বার্তায় বলেন, সীমান্তের উভয় পাশের নির্দোষ বেসামরিক মানুষের স্বার্থে, আমি আশা করি তালেবান পাকিস্তানে অনুপ্রবেশ এবং সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করবে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগানিস্তান সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সম্ভাবনা কম। ইউএস-ভিত্তিক সংঘাত পর্যবেক্ষণ সংস্থা এসিএলইডি-এর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র বিশ্লেষক পার্ল পান্ডিয়া আল জাজিরাকে বলেছেন, আফগান তালেবান টিটিপি’র বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে অনিচ্ছুক বলে মনে হচ্ছে। এর আংশিক কারণ দুই গোষ্ঠীর মধ্যকার পূর্ববর্তী সখ্য। পান্ডিয়া আরও যোগ করেন, আফগান তালেবান যদি টিটিপি’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয় তবে সংঘাতের চরম বৃদ্ধি অনিবার্য।
ওয়াশিংটন ডিসি’র স্টিমসন সেন্টার থিঙ্কট্যাঙ্কের দক্ষিণ এশিয়া প্রোগ্রামের পরিচালক এলিজাবেথ থ্রেলকেল্ড আল জাজিরাকে বলেছেন, এই সাম্প্রতিক সংঘর্ষ অবাক করার মতো কিছু নয়, কারণ এটি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে কয়েক মাসের ক্ষয়িষ্ণু উত্তেজনারই ফল। তিনি পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আরও আক্রমণাত্মক এবং গতিশীল হামলা উল্লেখ করে বলেন, এটি কৌশল পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে।
দুই দেশের মধ্যে সশস্ত্র যুদ্ধ আফগানিস্তানের অনুকূলে যাবে না, কারণ পাকিস্তানের সরাসরি মোকাবিলা করার মতো সরঞ্জাম তাদের নেই। সিঙ্গাপুরের এস রাজারত্নম স্কুল অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের স্কলার আব্দুল বাসিত আল জাজিরাকে বলেছেন, আফগান তালেবানের পাকিস্তানের সমতুল্য কোনো সামরিক বাহিনী নেই, তাই তারা আক্রমণের অপ্রচলিত পদ্ধতি ব্যবহার করছে। বাসিত বলেন, তাদের আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী এবং কামিকাজে ড্রোন রয়েছে, যা আমার মনে হয় তারা বিপুল সংখ্যায় ব্যবহার করবে।
তদুপরি, আল জাজিরার কামাল হায়দার জানিয়েছেন, আফগানদের কোনো বিমান বাহিনী নেই, তাই সীমান্তের ওপারে হামলা করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানিরা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তারা কাবুল, কান্দাহার এবং অন্যান্য জায়গায় হামলা করেছে। তিনি আরও বলেন, এর মানে কি এই যে পাকিস্তানি সৈন্যরা সীমান্ত অতিক্রম করবে? এর সম্ভাবনা খুবই কম। তবে আমরা ভারী কামানের গোলা ব্যবহার করে সীমান্তের উভয় পক্ষ থেকে অবিরাম গোলাবর্ষণ বিনিময় হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে পারি না।