আলবেনিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। রাজধানী তিরানায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ইট-পাথর ও পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করেন, দোকানপাট ভাঙচুর করেন এবং বিভিন্ন ভবনে আগুন ধরিয়ে দেন। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগের দাবিতে টানা সাত দিনের বিক্ষোভের মধ্যে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবন, ব্যাংক ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও হামলা চালান। এ সময় একটি পুলিশ স্টেশন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রবেশপথে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।
সপ্তাহান্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে হাজারো মানুষ জড়ো হন। তারা প্রধানমন্ত্রী রামার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং দাঙ্গা পুলিশের দিকে ইট-পাথর ছোড়েন। পরে সংঘর্ষ শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা ময়লার পাত্রে আগুন ধরিয়ে দেন এবং ক্ষমতাসীন সোশ্যালিস্ট পার্টির সদর দপ্তর ভাঙচুর করেন।
ক্রমবর্ধমান সহিংসতার মধ্যে আলবেনিয়ার পার্লামেন্ট ভবন লক্ষ্য করেও পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করা হয়।
দুর্নীতির অভিযোগ, শিক্ষার নিম্নমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ ফি এবং কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে ক্ষোভ থেকে এ বিক্ষোভের সূত্রপাত। পরে এটি বৃহত্তর সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা এদি রামার সরকারের জন্য এটি এখন পর্যন্ত অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছর তিনি চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসেন।
তবে পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন রামা। তার দাবি, বিক্ষোভ তার সরকারের চেয়ে আলবেনিয়ার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আকাঙ্ক্ষার জন্য বেশি হুমকি তৈরি করছে। অস্থিরতার পেছনে নাম উল্লেখ না করে বিদেশি স্বার্থও দায়ী করেন তিনি।
সহিংসতায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আলবেনিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রবিবারের সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য, বিক্ষোভকারী, পথচারী ও একজন সাংবাদিকসহ ২৮ জন আহত হন। শনিবারের বিক্ষোভে আহত হন ৬৫ জন। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে রবিবার পর্যন্ত আহতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭২ জনে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিলাসবহুল উপকূলীয় উন্নয়ন প্রকল্পের বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরে চলা বিক্ষোভের পর নতুন করে এই আন্দোলন শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশন সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে অভিযোগ ও ক্ষোভের সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। তিরানায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।