Image description

তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী, দেশের পরিচিত বিরোধী নেত্রী তবু নিজের বাড়ির সামনেই কি নিরাপদ নন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কালীঘাটে তার বাড়ির কাছে ছুরি হাতে এক নারীর হামলাচেষ্টার অভিযোগ ঘিরে ওঠেছে এমন এক প্রশ্ন। তৃণমূলের দাবি, জেড-প্লাস নিরাপত্তা পাওয়া মমতার কাছাকাছি কীভাবে অস্ত্র হাতে পৌঁছে গেলেন ওই নারী, সেই জবাব দিতে হবে প্রশাসনকে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলাকার মিলন সংঘের দুর্গাপূজার মণ্ডপে যাচ্ছিলেন মমতা। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেনের অভিযোগ, এ সময় ছুরি হাতে মমতার দিকে এগিয়ে যান তন্নিষ্ঠা সাহা। নিজেকে মমতার ভাইঝি পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি তিনি গালিগালাজ করেন বলেও রয়েছে অভিযোগ। এ ঘটনায় কালীঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন দোলা সেন।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার ভিডিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য বা কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ বিষয়।

নিরাপত্তা নিয়ে পুরনো বিতর্ক

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মমতার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আগের বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। জুন মাসে নতুন রাজ্য সরকার মমতার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের বদলে নিয়োগ করেছিল নতুন কর্মী। তৃণমূলের দাবি, মমতা নতুন নিরাপত্তারক্ষীদের গ্রহণ করেননি এবং তার কালীঘাটের বাড়িতে সরকারি নিরাপত্তা নেই। দলের তরফ থেকে তখন দুজন ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীর ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়।

অর্থাৎ, মমতার জেড-প্লাস নিরাপত্তার মর্যাদা থাকা এবং বাস্তবে তার বাড়ি বা বাইরে কতটা নিরাপত্তা মোতায়েন ছিল দুটি আলাদা প্রশ্ন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত নীতি অনুযায়ী, নিরাপত্তার স্তর নির্ধারণ হয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রতি হুমকির মূল্যায়নের ভিত্তিতে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নিরাপত্তা বাড়ানো, কমানো বা প্রত্যাহারও করা যায়। জেড-প্লাস মানেই সর্বত্র একই সংখ্যক রক্ষী থাকবেন, এমন কোনও স্থির নিয়ম নেই।

কেন প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে?

তৃণমূলের বক্তব্য, জেড-প্লাস নিরাপত্তা পাওয়া একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কাছাকাছি যদি ছুরি হাতে কেউ পৌঁছে যেতে পারেন, তাহলে নিরাপত্তার কার্যকারিতা খতিয়ে দেখা জরুরি। দোলা সেন তার অভিযোগে ঘটনাটিকে সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের দিক থেকেও তদন্ত করার আর্জি জানিয়েছেন।

তৃণমূল নেতা ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘এটা পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে।’ তার দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন ওই নারী তার সামনে এসে পড়েন এবং গালিগালাজ শুরু করেন। তার হাতে ছুরি ছিল এবং সেটা দিয়ে মমতার পায়ে আঘাত করার চেষ্টা করেন।

অন্যদিকে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাকেত গোখলে প্রশ্ন তুলেছেন, জেড-প্লাস নিরাপত্তা পাওয়া এবং তিন বারের মুখ্যমন্ত্রী হয়েও মমতা যদি নিরাপদ না হন, তাহলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা কোথায়? ঘটনাটির পেছনে বিজেপির হাত আছে কিনা, এ বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবিও করেছেন তিনি।