Image description

পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ বাংলাদেশি সন্দেহে মাঝরাতে বাড়িতে হানা দিয়ে একাধিক মুসলিম নাগরিক ও শিশুদের আটক করে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে। গত জুন মাস থেকে এ পর্যন্ত অন্তত নয়জন মুসলিম পুরুষ ও দুটি শিশুকে আটকের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীরা এই ধরনের পুলিশি অভিযানকে সম্পূর্ণ বেআইনি ও অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করেছেন।

নিপীড়নের শিকার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গভীর রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ কোনও ওয়ারেন্ট, রিমান্ড অর্ডার বা এফআইআরের অনুলিপি দেখায়নি। আটককৃতদের মধ্যে অনেকের কাছেই আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, এমনকি নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের ভোটার তালিকাভুক্ত বৈধ কাগজপত্র থাকলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।

মুর্শিদাবাদের রামকান্তপুর গ্রামের ইব্রাহিম শেখের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত মাসে একদল পুলিশ পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে তার কাছে নাগরিকত্বের নথি দেখতে চায় এবং ‘বাংলাদেশি না ভারতীয়’- তা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে ষাটোর্ধ্ব অসুস্থ ইব্রাহিমকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে কলকাতা হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন দাখিল করা হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সরকারি নির্বাহী আদেশের নির্দেশিকা মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।য়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি কোথাও কোথাও আটকদের পুশ-ব্যাক বা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত বা সুও মোটো) মামলা দায়েরের ঘটনাও ঘটেছে। 

মানবাধিকার সংগঠন ও আইজীবীরা বলছেন, কোনও সুনির্দিষ্ট তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া নাগরিকদের এভাবে আটক করা মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন। 

 

সূত্র: স্ক্রল ডট ইন