Image description

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতা ভোগের জন্য নয়, জনগণের সেবার দায়িত্ব হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন তার প্রেস সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র শালেহ শিবলী।

বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের গত এক মাসের কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন প্রধান উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।

তিনি বলেন, জনগণ যে রাষ্ট্রের মালিক—সরকারের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে জনগণ তা অনুভব করতে শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী তার দৈনন্দিন কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণকে এই অনুভূতি দিতে সক্ষম হয়েছেন যে, জনগণই রাষ্ট্রের মালিক।

শালেহ শিবলী বলেন, বর্তমান সরকার একটি জবাবদিহিমূলক সরকার। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম মানুষের সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ হিসেবে প্রতিদিনের ঘটনাগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরছে এবং সরকারের সঙ্গে জনগণের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছে।তিনি বলেন, সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় বিভিন্ন তথ্য জাতীয় সংসদের মাধ্যমে জনগণের কাছে আসে। জনপ্রতিনিধিরা ও মন্ত্রণালয়গুলোও বিভিন্ন তথ্য জনগণকে জানায়। তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতি মঙ্গলবার সরকারের তথ্য উপদেষ্টা নিয়মিতভাবে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কার্যক্রম পিএমও বাংলাদেশের মাধ্যমে জানানো হচ্ছে।

বিশেষ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্রের মাধ্যমেও তথ্য জানানো হয়। জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকারের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবেই মাঝে মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন কার্যক্রম তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করছেন। তিনি নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পত্রপত্রিকা দেখছেন। সেখানে কোনো সমস্যা বা মানুষের কোনো অভিযোগ উঠে এলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ, মন্ত্রী, কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তা সমাধানের জন্য নির্দেশনা দিচ্ছেন। ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণার বিষয়েও তিনি নজর রাখছেন। অনেক সময় বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডেকে সরাসরি কথা বলছেন।

তিনি বলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ সরকারের ২১২ দিন চলছে। এরই মধ্যে সরকারের অনেক কাজের ফল মানুষ পেয়েছে, আবার কিছু কাজের ফল পেতে আরও সময় লাগবে। এসব কাজ এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে। রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের যে লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে, সেটির ফল পেতে সময় প্রয়োজন। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে বলে আমরা মনে করি।

গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শালেহ শিবলী বলেন, দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, বর্তমানে তা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আশা করা যায়, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের স্বাভাবিক পরিস্থিতির ফল মানুষ খুব শিগগিরই পাবেন।

তিনি বলেন, ২০২২ সালের আগস্টে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর তৎকালীন সরকার বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছিল। স্কুলের ছুটি বাড়ানো, অফিসের সময় সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা করা এবং ব্যাংকিং সময় পরিবর্তনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল। ২০০৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার পরও ওই সরকারকে এমন বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল।

শালেহ শিবলী বলেন, বর্তমান সরকার ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই দায়িত্ব নিয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি এখন মধ্যপ্রাচ্যেও যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই সরকার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। বিষয়টি কেন তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে সরকার বিভিন্ন সময়ে টেলিভিশনসহ গণমাধ্যমে ব্যাখ্যা দিয়েছে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই সরকার পরিস্থিতি সামাল দিয়ে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, জনজীবনে স্বস্তি, শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। জনগণ যে রাষ্ট্রের মালিক—এটি জনগণ এখন অনুভব করতে শুরু করেছে।

জনগণের রাষ্ট্রের মালিকানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায়ই নেতৃবৃন্দ, রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছ থেকে শুনি—জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। কিন্তু জনগণকে কীভাবে তা অনুভব করানো যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ এখন অনুভব করতে শুরু করেছে যে তারাই রাষ্ট্রের মালিক। তারা দেখছে, তাদের প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে আছেন।

সরকারি ব্যয়ের প্রসঙ্গে শালেহ শিবলী বলেন, ১৫০ টাকার খাবার বা ১ হাজার টাকার খাবার—কোনটি খাওয়া হচ্ছে, সেটি বড় বিষয় নয়। বড় বিষয় হচ্ছে, জনগণের হাজার হাজার টাকা একটি খাবারের প্যাকেটের পেছনে ব্যয় না করে জনগণের সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১৫০ টাকার মধ্যে সুশৃঙ্খল ও সুষম খাবারের ব্যবস্থা করা। জনগণের টাকার প্রতি সম্মান দেখানো এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকা—এটাই বড় বিষয়।

তিনি বলেন, জনগণ যাতে মনে করে সরকার তাদের মতো করেই চলছে এবং সরকারকে তারা বিশ্বাস করতে পারে, সে জন্য সরকার কাজ করছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তার দৈনন্দিন কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণকে অনুভব করাতে সক্ষম হয়েছেন যে, জনগণই রাষ্ট্রের মালিক।

শালেহ শিবলী বলেন, ক্ষমতা ভোগের জন্য নয়, এটা একটি দায়িত্ব। সরকারের সঙ্গে যারা আছেন তারা যেমন বিষয়টি বুঝছেন, তেমনি জনগণও তা অনুভব করতে শুরু করেছেন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর—এই তিন মাস ডেঙ্গুর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এ সময়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হতে পারে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার চেয়ে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করে আগেই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। ঘরে এসির পেছনে জমে থাকা পানি, বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি কিংবা আশপাশের গর্তে জমে থাকা পানি থেকে এডিস মশার লার্ভা তৈরি হয়। তাই এসব জায়গা পরিষ্কার রাখতে হবে।

শালেহ শিবলী বলেন, গত সপ্তাহের আহ্বানে প্রধানমন্ত্রী স্কাউটস, কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সামনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অন্তত প্রতিদিন পাঁচ মিনিট সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মানুষ যদি প্রতিদিন পাঁচ মিনিট সময় দেয় এবং প্রতি শনিবার নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে, ঘরে ও আশপাশে ময়লা পানি জমতে না দেয়, তাহলে ডেঙ্গুর মরণঘাতী পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমকর্মী, মন্ত্রী কিংবা সাধারণ মানুষ—মশা কাউকে আলাদা করে চেনে না। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রত্যেককেই নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করতে হবে। সবাই যদি আজ থেকেই নিজের চারপাশ পরিষ্কার করা শুরু করেন, তাহলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গণমাধ্যমের ভূমিকার বিষয়ে শালেহ শিবলী বলেন, সরকারের কাজ শুধু রাজনৈতিক বিতর্ক বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাষ্ট্রের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনাও সরকারের দায়িত্ব। গত এক মাসে সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হবে।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমে বর্তমানে অনেক গুজব ও গুঞ্জন ছড়াচ্ছে। কোনটি সত্য আর কোনটি মিথ্যা—অনেক সময় গণমাধ্যমকর্মীরাও তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারেন না। তাই দেশের টেলিভিশন চ্যানেল ও পত্রিকাগুলো প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় নিয়ে গুজব, গুঞ্জন, সত্য-মিথ্যা বা ফ্যাক্টচেক নিয়ে নিয়মিত অনুষ্ঠান ও প্রতিবেদন করতে পারে।

তিনি বলেন, সারা দিন মানুষ যে ধরনের গুজবের মধ্যে বসবাস করেছে, দিনের শেষে ঘুমাতে যাওয়ার আগে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান বা পত্রিকার প্রতিবেদন দেখে যেন তা যাচাই করে নিতে পারে—সকাল থেকে দেখা বা শোনা তথ্যের কোনটি সত্য এবং কোনটি মিথ্যা। গণমাধ্যমকর্মীরা এ ধরনের উদ্যোগ নিলে গুজব ও গুঞ্জনের সময় থেকে মানুষকে বের করে আনা সম্ভব হবে।

শীর্ষনিউজ