Image description

মধুর ক্যান্টিনকে ‘ইশারাত মঞ্জিল’ নামে ফেরানোর অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, একাত্তরের অর্জন মুছে ফেলার কোনো অপচেষ্টা দেশের মানুষ মেনে নেবে না।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্ম দলের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মধুর ক্যান্টিন নিয়ে চলমান বিতর্কে ক্ষোভ প্রকাশ করে রিজভী বলেন, ‘একাত্তরের অর্জনকে মুছে ফেলার কোনো অপচেষ্টা এ দেশের মানুষ বরদাশত করবে না। সম্প্রতি ডাকসুসহ কয়েকটি জায়গায় অপতৎপরতা দেখা যাচ্ছে। মধুর ক্যান্টিনকে ‘ইসারাত মঞ্জিল’ বানানোর চেষ্টা শহীদ মধুর আত্মত্যাগের প্রতি চরম অপমান। মধুর ক্যান্টিনের মধু একাত্তরের শহীদ। একাত্তরের পরাজিত শক্তি যদি ভিন্ন কায়দায় এর প্রতিশোধ নিতে চায়, তবে এ দেশের মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা ও মুক্তিযোদ্ধারা তা প্রতিহত করবে।’

মানববন্ধনে মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি কর্নেল (অব.) জয়নুল আবেদীন, আনিসুজ্জামান খোকন, মেজর (অব.) মিজানসহ মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্ম দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ঢাকার শাহবাগের ঐতিহাসিক ‘ইশারাত মঞ্জিল’ কীভাবে কালক্রমে ‘মধুর ক্যান্টিন’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করল, তা নিয়ে বর্তমানে বুদ্ধিজীবী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের মধ্যে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উনিশ শতকে নির্মিত ঢাকার নবাব পরিবারের এই ভবনটি উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে ইতিহাসবিদদের একাংশ মনে করেন। ১৯০৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত মুসলিম নেতাদের সম্মেলন এবং নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সঙ্গেও ভবনটির নাম জড়িয়ে আছে।

দেশভাগের পর ১৯৫১ সালে ভবনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আসে। পরবর্তী সময়ে এটি প্রগতিশীল ছাত্ররাজনীতির অন্যতম কেন্দ্র ‘মধুর ক্যান্টিন’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সেমিনার ও আলোচনায় একপক্ষের অভিযোগ, বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ইতিহাস নির্মাণে ভবনটির নবাবী ও মুসলিম ঐতিহ্য যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। অন্যদিকে ভিন্নমতের ইতিহাসবিদ ও প্রগতিশীলদের মতে, একটি নবাবি জলসাঘর থেকে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ও অধিকার আদায়ের কেন্দ্র হিসেবে এর রূপান্তর ইতিহাসের স্বাভাবিক বিবর্তনেরই অংশ।