Image description

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভাবনীপু কেন্দ্রের নির্বাচনি ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) এ বিষয়ে হাইকোর্টে ইলেকশন পিটিশন জমা দেন তিনি। এদিন মমতার সঙ্গে আদালতে ছিলেন মমতাপন্থি সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন ও দোলা সেন, তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

এ বছর বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে মুখোমুখি লড়াই ছিল মমতার। সেখানে মমতাকে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে পরাজিত করেন শুভেন্দু।

 

এদিন দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টে পৌঁছান মমতা। হাইকোর্টে গিয়ে সোজা ভেতরে ঢুকে যান মমতা। আবার আদালত থেকে বেরিয়েও গাড়িতে উঠে যান তিনি। পরে জানা যায়, ভবানীপুরে শুভেন্দুর জয়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পিটিশন জমা দিয়েছেন। এর আগে, ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে পরাজয়ের পরও আদালতের দ্বারস্থ হন মমতা। সেই মামলার নিষ্পত্তি হয়নি আজও।

 

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর আসনে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও প্রথম থেকে এই হার মানতে নারাজ মমতা। গত ৪ মে ভোটের ফল প্রকাশ হয়। পরদিন ৫ মে কালীঘাটের বাড়ি থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন মমতা। বলেছিলেন, ‘আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করেছে।’ এবার সেই ভোটের ফলকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গেলেন তিনি।

 

মমতার হাইকোর্টে আপিল করার এমন ঘটনাকে রীতিমতো কটাক্ষ করেছে বিজেপি। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে খোঁচা দিয়ে মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেছেন, নন্দীগ্রামে হারার পরেও তিনি একইভাবে আদালতে গিয়েছিলেন। এবার পুরো দলটা (তৃণমূল) সাফ হয়ে যাওয়ার পর আবার আদালতে গেছেন। আমি মনে করি, তার এই যে ‘ভ্রান্তিবিলাস’, সেটা এবার চিরতরে দূর হবে। উনি এক দিন ‘সততার প্রতীক’ হিসেবে বাংলার রাজনীতিতে এসেছিলেন, আর আজ ‘দুর্নীতির প্রতীক’ হিসেবে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়েছেন।

অন্যদিকে আজও মমতাকে বিধানসভায় জেতানোর কথা বলতে শোনা গিয়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে। তাকে বলতে শোনা যায়, মমতাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না। আমার সাপোর্ট চাইলে আমি করব। উনি রেজিনগর থেকে লড়লে জেতানোর জন্য সবরকম সাহায্য করব আমি। বসিরহাট থেকে লড়লেও, তার বিরুদ্ধে প্রার্থী দেব না। তবে মমতা এখনও পর্যন্ত পুনরায় নির্বাচনে লড়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি।

 

এদিন মমতা যখন আদালতে, সেই সময় সিআইডির দপ্তরে হাজিরা দিতে উপস্থিত হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সই জালকাণ্ডের পর ভোটপ্রচারে বেরিয়ে উসকানিমূলক মন্তব্যের জেরে হওয়া আরেক মামলায় মঙ্গলবার তলব করা হয় তাকে। গতকালও ১১ ঘণ্টা ধরে সিজিওতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে।