বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল ইরান। লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠে ২-২ গোলে ম্যাচটি ড্র হওয়ার পর ইরানের ড্রেসিংরুমে হাজির হন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
তবে এর পরেই ফিফা সভাপতির কাছে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ইরান দলের নানা ভোগান্তি ও ‘অবিচারের’ কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির কোচ আমির ঘালেনোই।
খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক আবেগঘন বক্তৃতায় ইনফান্তিনো বলেন, ‘আজকের ম্যাচটি বেশ কঠিন ছিল। ভাগ্য একটু সহায় হলে তোমরাই জিততে পারতে।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি জানি তোমরা কীসের মধ্য দিয়ে গেছ, আমি সব বুঝতে পারছি। কিন্তু তোমরা যেকোনো পরিস্থিতির চেয়েও শক্তিশালী। আজ তোমরা পুরো স্টেডিয়ামকে এক সুতোয় বেঁধেছ এবং বিশ্বকে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছ।’
ফিফা সভাপতির এই সান্ত্বনার পরই কোচ আমির গালেনোই দলের ওপর হওয়া মানসিক ও টেকনিক্যাল নানা হয়রানির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, ‘সিঙ্গেল এন্ট্রি’ ভিসার জটিলতার কারণে স্ট্রাইকার মেহেদি তোরাবির ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এছাড়া অন্য স্ট্রাইকার মেহেদি তারেমি এবং কোচিং স্টাফের সদস্য সাঈদ আলহোইকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে আটকে রেখে হেনস্থা করা হয়েছে।
ফিফা সভাপতির উদ্দেশে ইরানি কোচ বলেন, ‘আমি চাই সবাই বিষয়টি শুধু টেকনিক্যাল দিক থেকে না দেখে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করুক। এই বিশ্বকাপে উদ্ভূত পরিস্থিতি ও নানা বিধি-নিষেধের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দলগুলোর একটি আমরা। এই দলটির সঙ্গে রীতিমতো অন্যায় করা হয়েছে।’
বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতেও বাধা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে গালেনোই অভিযোগ করেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সময়ের ব্যবধান প্রায় ১০ ঘণ্টার। এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য দলটির অন্তত দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানো উচিত ছিল। কিন্তু তাদের ম্যাচের মাত্র দুদিন আগেও সেখানে নামতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া আগের ম্যাচের পর খেলোয়াড়দের শারীরিক পুনরুদ্ধারের পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে দ্রুত ভ্রমণের বাধ্যবাধকতা দেওয়ায় ফুটবলাররা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে ইরান কোচ বলেন, ‘আমি আশা করি ভবিষ্যতে ফিফা আরও কঠোর ভূমিকা নেবে, যাতে অন্য কোনো দলকে এভাবে অবিচার ও অসম্মানের মুখোমুখি হতে না হয়। আমরা আপনার কাছ থেকেই শিখেছি যে ফুটবল হলো মানবতা ও আনন্দের জায়গা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, কখনো কখনো মানবতা আর আনন্দকে একপাশে সরিয়ে রাখা হয়।’
কোচের অভিযোগগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনার পর ইনফান্তিনো তাকে ধন্যবাদ জানান এবং ইরানের এই লড়াইকে ‘ইতিহাস সৃষ্টি করা’ বলে অভিহিত করেন। খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘হৃদয় উজাড় করে খেলো। মাঠের ভেতর নিজের সবটুকু দিয়ে দাও। নিজেদের জন্য, পরিবারের জন্য, দেশের জন্য এবং বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জন্য খেলো যারা তোমাদের ভালোবাসে।’
গ্রুপ পর্বে ইরানের পরবর্তী ম্যাচ আগামী রোববার রাত ১টায় বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে, লস অ্যাঞ্জেলেসেই। এরপর আগামী ২৭ জুন সিয়াটলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিশরের মুখোমুখি হবে ইরান।