ইরান যুদ্ধের পর থেকেই কার্যত বন্ধ হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের ২০ শতাংশ এ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। মূলত, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি এ পথে বিশ্বে পৌঁছায়। কোনোভাবেই অতি গুরুত্বপূর্ণ এ প্রণালি চালু করতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র। হুমকি বা চুক্তি, কোনও কিছুতেই রাজি হচ্ছে না ইরান। এমনকি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তো পশ্চিমা মিত্র ও চীনকে হরমুজ প্রণালি খুলতে সামরিক অভিযানে অংশ নিতে আহ্বানও জানিয়েছে। তবে, কেউই তার আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না।
এমন যখন পরিস্থিতি ঠিক তখন প্রণালিটি নিয়ে বৈঠক করেছে ৩৫টি দেশের প্রতিরক্ষা প্রধান। আজ (বৃহস্পতিবার) বৈঠকটি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফ্রান্স। খবর এপির।
বৈঠক শেষে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সংঘাতের তীব্রতা যথেষ্ট পরিমাণে কমলে কীভাবে প্রণালিটি পুনরায় চালু করা যায়, সে বিষয়ে আজকে প্রতিরক্ষা প্রধানদের ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এর আওতায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে এসকর্ট করা এবং নৌচলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের জন্য একটি প্রতিরক্ষামূলক অভিযান অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
তবে, কোন কোন দেশের প্রতিরক্ষা প্রধানরা বৈঠকে উপস্থিত ছিল সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও তথ্য দেয়নি ফ্রান্স।
এদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। সংযুক্ত আরব আমিরাত আজ ১৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১১টি ড্রোন হামলার খবর জানিয়েছে। সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, “আজ আমাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন মোকাবিলা করছে।”
ইরান যুদ্ধের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আরব আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৩৭২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও এক হাজার ৮২৬টি ড্রোন হামলা ঠেকিয়েছে।
ইরানের হামলায় দেশটির সামরিক বাহিনীর দুই সদস্য ও সামরিক বাহিনী সংশ্লিষ্ট একজন মরোক্কোন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া আট বিদেশি নিহত হয়েছে। নিহতরা পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ, ফিলিস্তিন ও ভারতের নাগরিক ছিল।