জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর অর্পণ করেছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা।
একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, সংসদ চিরাচরিত নিয়মে বসবে না। যেহেতু আগের স্পিকার নেই, ডেপুটি স্পিকার নেই, আমরা সংসদ খালি চেয়ার দিয়ে শুরু করব।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় বিএনপির সংসদীয় দলের সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, ‘সংসদীয় দলের সভায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে আলোচনা হয়েছে। আমরা সংসদীয় দল সিদ্ধান্ত দিয়েছি, সংসদ নেতা স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার মনোনয়ন নির্ধারিত করবেন। এই পদে কে হবেন, তা আগামীকালকে আপনারা জানতে পারবেন।’
বেলা সোয়া ১১টায় সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় সভাপতিত্বে করেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সংসদের প্রথম অধিবেশনের দিনের কর্মসূচি তুলে ধরে প্রধান হুইপ বলেন, ‘সংসদীয় দলের সভায় সংসদ নেতা আজ একটা দিকনির্দেশমূলক বক্তব্য রেখেছেন। সেটা হচ্ছে সংসদে আমরা কেমন আচরণ করব এবং আমাদের কার্যক্রম কী হবে, সে বিষয়ে তিনি একটা কথা বলেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আপনাদের ধারণার জন্য বলছি, সংসদ চিরাচরিত নিয়মে বসবে না। যেহেতু পুরোনো স্পিকার নেই, ডেপুটি স্পিকার নেই, আমরা সংসদ খালি চেয়ার দিয়ে শুরু করব। একজন কোরআন তিলাওয়াত করবেন। প্রধানমন্ত্রী এই সভার সভাপতিত্ব করার জন্য একজন জেষ্ঠ নেতার নাম ঘোষণা করবেন। এরপর কোনো একজন সমর্থন করবেন, তারপর তিনি সেখানে সভাপতিত্ব করবেন। সেই সভায় আমরা স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করব।’
‘তারপর স্পিকার নির্বাচন হওয়ার পরে তিনি আসন গ্রহণ করলে সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন হবে, শোক প্রস্তাব উত্থাপন হবে এবং তা নিয়ে আলোচনা হবে। শোক প্রস্তাবে প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে আলোচনা হবে, জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে আলোচনা হবে, দেশবরণ্যে ব্যক্তিবর্গ যারা শাহাদাত বরণ করেছেন, তাদের নিয়ে আলোচনা হবে।’
অধ্যাদেশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘সংসদে ১৩৩টা অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হবে। অধ্যাদেশগুলো আইনমন্ত্রী উপস্থাপন করবেন। বিশেষ কমিটিতে ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য যাবে, যেটা লেপস হবে, যেটা গ্রহণ করার নিয়ম অনুযায়ী হবে। যেগুলো পাস করার তা আমরা সংসদে পাস করব ইনশাল্লাহ। ২০২৪ সালে কর্মকমিশনের প্রতিবেদন উত্থাপন হবে এবং এরপর সংসদ নেতা বক্তব্য রাখবেন।’
বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘সংসদের বিজনেস এডভাইজরি কমিটি, বিশেষ কমিটি, প্রিভিলাইজ কমিটি, সংসদ কমিটি—এসব কমিটি করার আমরা চেষ্টা করব। যদি কালকে না করা যায়, আমরা পরবর্তী দিনে এসব কমিটি করব।’
সংসদে ডেপুটি স্পিকারের পদ বিরোধী দল থেকে দেওয়ার প্রস্তুাব নিয়ে আলোচনা হয়েছেন কি না এবং বিরোধী দল থেকে এ ব্যাপারে কোনো সাড়া পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে প্রধান হুইপ বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা এখনো পজিটিভ কোনো রেসপন্স পাইনি। রেসপন্স পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
সংসদ উপনেতার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংসদ নেতা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন সংসদ উপনেতা হবেন কি হবেন না।’
জুলাই সদনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, ‘জুলাই সনদের ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট। আমরা শপথ নিইনি। আমরা শপথ নিইনি কারণ এটা সংবিধানে নেই সে জন্য। সংবিধানে ইনক্লুড করার পর পরবর্তী পরিস্থিতিতে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন এমপিদের শপথ অনুষ্ঠানের পর বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ত্রয়োদশ সংসদের নেতা নির্বাচিত করা হয়। সেদিন বিকালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি।
৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে দুটি আসনের নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে এবং প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনের নির্বাচন বাতিল হয়েছে। বাকি ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি আসন পেয়েছে।
এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসন পেয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৭টি আসনে।