জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর সরকারি খেজুর বিতরণ-সংক্রান্ত খবরে নানা আলোচনা চলছে। হাসনাতের এমন কাজ নিয়ে স্যাটায়ার পোস্ট দিয়েছেন ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান দ্য ডিসেন্টের এডিটর কদর উদ্দিন শিশির।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাস দেন তিনি।
স্ট্যাটাসে শিশির বলেন, ‘আপনাদের হয়তো পছন্দ হবে না, তবে সাহস করে স্রোতের বিপরীতে গিয়ে সত্য কথাটা বলতে চাই। হাসনাত আব্দুল্লাহ ‘জবাবদিহিতা’র নামে যা করেছে তা অত্যন্ত অনুচিত কাজ হয়েছে। এমপির কাজ ফেসবুকে জবাবদিহিতা দেয়া না। এভাবে জনসম্মুখে রাষ্ট্রের গোপনীয় বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরার মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে মবকেই উস্কে দেয়া হচ্ছে। এনসিপির নেতারা মব কালচার থেকে বের হতেই পারছে না। খেয়াল করলে দেখবেন গতকাল থেকে বিভিন্ন এলাকার মানুষজন তাদের এমপিদেরকে বা এমপির ঘনিষ্টজনদেরকে ফেসবুকে ট্যাগ করে তাদের এলাকায় সরকারি অনুদানের খেজুর কোথায় গেছে তা জানতে চাচ্ছে। এটা স্পষ্টতই এমপিদের এবং তাদের ঘনিষ্টজনদের বিরুদ্ধে মবকে উস্কে দেয়া।’
গণমাধ্যমের এই ফ্যাক্ট চেকার বলেন, ‘হ্যাঁ, সরকারি খেজুর খাওয়ার অধিকার জনগণের রয়েছে। কিন্তু কোন এলাকায় কত মণ খেজুর দেয়া হয়েছে এটা রাষ্ট্রীয় গোপনীয় তথ্য। এটা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা ছাড়া কাউকে জানালে খেজুরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা থাকে। পাশাপাশি রমজান মাসে ইফতারে খেজুর খাওয়া সুন্নত কাজ। মানে এটি একটি ইবাদতের সমতুল্য। আর ইবাদত যত গোপনে করা যায় তত সওয়াব। আপনি কত বেশি ইবাদত করছেন (এই ক্ষেত্রে কত বেশি খেজুর খাওয়ার ইবাদত করছেন) তা প্রকাশ্যে বলা ইসলামের দৃষ্টিতে ঠিক না। এতে রিয়া বা অহংকারের জন্ম হতে পারে। অহংকার একটি মহাপাপ।’
‘কিন্তু যখন একজন এমপি ফেসবুকে বিভিন্ন এলাকায় যাওয়া সরকারি খেজুরের পরিমাণ উল্লেখ করে পোস্ট দেন তাতে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা লঙ্ঘনের পাশাপাশি রমজান মাসে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গোপনে খেজুর খাওয়ার ইবাদত করার যে প্রচেষ্টা তা বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা থাকে।’
কদর উদ্দিন শিশির বলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ গতকালের ভিডিওর মাধ্যমে একইসাথে দেশীয় আইন লঙ্ঘন এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। আমি হাসনাতকে পছন্দ করি। কিন্তু সত্য কথা বলার সময় পছন্দের ব্যক্তির বিপক্ষে গেলেও সেটা বলতে হবে, আপনারা যাই মনে করুন না কেন।’