Image description

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদ্‌দীন হল শাখা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম। ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী হয়ে দেশব্যাপী পরিচিতি পান তিনি। এরপর থেকে অনলাইনে কিংবা অফলাইনে নানা কারণে বারবার আলোচনায় উঠে আসছে তার নাম। ছাত্র রাজনীতির বর্তমান হালহকিকত, শিক্ষাঙ্গনের পরিস্থিতি, ছাত্রদলের কার্যক্রম থেকে শুরু করে তার দিনকাল নিয়ে এশিয়া পোস্টের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জাকারিয়া নূরী।

 

এশিয়া পোস্ট: ছাত্রদলের রাজনীতিতে আপনি কবে এবং কীভাবে যুক্ত হলেন? এতে কে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে?

 

শেখ তানভীর বারী হামিম: একটি রাজনৈতিক পরিবারে আমার জন্ম। আমার চাচা আজিজুল বারী হেলাল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ২০০১ থেকে ২০০৯-১০ সাল পর্যন্ত। ২০০৭ থেকে ২০০৮ সালে আমি ক্লাস থ্রিতে পড়ি। তখন তিনি খুলনা-৪ আসন থেকে ২০০৭-এর নির্বাচনে নমিনেশন পেয়েছিলেন। তখন থেকেই দেখতাম অনেক মানুষ তার কাছে আসে, কথা বলে, অনেক ভালোবাসে মানুষ তাকে। ঠিক তখন থেকেই আমার ভেতর প্রশ্ন জাগে—মানুষ কেন তাকে ভালোবাসে? রাজনীতি করলে হয়তো ভালোবাসা পাওয়া যায়। তখন থেকেই ছাত্র রাজনীতির প্রতি আমার ভালোবাসা, ছাত্রদলের প্রতি ভালোবাসা। সেখান থেকেই আমি চিন্তাভাবনা করি যে, আমি ভবিষ্যতে ছাত্রদল করব। তখন আমি বিভিন্ন মানুষকে জিজ্ঞেস করতাম—বড় ছাত্রনেতা হওয়ার জন্য কী করতে হবে? সবাই বলত—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হবে। আমি তখন ক্লাস থ্রি-ফোরে পড়ি। তখন থেকেই স্বপ্ন দেখি, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ব।

 

ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে আমার জড়িয়ে পড়া ক্লাস সিক্স থেকে। আমি তখন খুলনা জিলা স্কুলে পড়ি। তখনই প্রথম আমি ছাত্রদলের মিছিলে যাই। এরপর এসএসসি, এইচএসসি পাস করলাম। সেখানেও আমি ছাত্রদলের একজন অ্যাকটিভ কর্মী ছিলাম, সব মিছিল-মিটিংয়ে যেতাম। পরে ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাই। এর আগে আমি খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাহিত্য প্রকাশনা সম্পাদক পদে ছিলাম।

 
 

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার কিছুদিন আগেও সারা বাংলাদেশে একটি নিরাপদ সড়ক আন্দোলন হয়েছিল। তখন আমিসহ ১৩ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর নামে মামলা হয়েছিল, সেখানে একমাত্র কলেজছাত্র আমি যার নামে মামলা হয়েছিল। সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রায় ২২ দিন আগে আমাকে খুলনা থেকে পালিয়ে আসতে হয়েছিল। পরে চান্স পাওয়ার প্রথম দিন থেকেই আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতি করি। তারপর ২০২০ সালে করোনার আগে আমি কবি জসীমউদ্‌দীন হল ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক হলাম। এরপর করোনার সময়ে আবার এই কমিটি বর্ধিত হলো, তখন আমি প্রচার সম্পাদকই কিন্তু যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদা পেলাম। গত ২০২৪-এর ৫ আগস্ট-পরবর্তীতে এই নতুন একটি কমিটি হয়েছে। সেখানে আমি কবি জসীমউদ্‌দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছি। স্কুলজীবন থেকেই আমার ছাত্রদলের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া এবং আমার চাচা সবসময় আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।

 

এশিয়া পোস্ট: ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। কিন্তু বরাবরই আপনি ব্যতিক্রম কার্যক্রমে অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। যেমন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইফতার অনুষ্ঠান একটি। এ ব্যতিক্রম আয়োজনের পেছনে আপনার কোনো পরামর্শদাতা আছে, নাকি আপনি নিজে উদ্যোগ নেন?

 

শেখ তানভীর বারী হামিম: গত ২০২৪-এর জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের আগের রাজনীতি ছিল রাজপথের রাজনীতি। কিন্তু ৫ আগস্টের পরে দেশ যখন একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথে ধাবিত হতে শুরু করল, তখন আমাদের রাজনীতিটা বাংলাদেশ পুনর্গঠনের রাজনীতি। আমরা যেহেতু ছাত্র সংগঠন করি, ছাত্রদলের একজন কর্মী বা নেতা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব—ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রদের কল্যাণে কাজ করা। এখন আমাদের ছাত্র রাজনীতিকে আমরা তিনটি ভাগে ভাগ করতে পারি। একটি রাজপথে, দ্বিতীয়টি পলিসি গঠনে, আরেকটি ওয়েলফেয়ারে। তারপর থেকে ভাবলাম, আমাদের রাজপথের অধ্যায় তো প্রায় শেষ হয়েছে। এখন ফোকাস দেওয়া উচিত—আমরা পলিসি তৈরি করব, যে পলিসি রাষ্ট্র গঠনে সহায়ক হবে। যে পলিসির মাধ্যমে রাষ্ট্রের তরুণ শিক্ষার্থী, তরুণ প্রজন্মরা উপকৃত হবে এবং দেশ সমৃদ্ধ হবে। আরেকটি হলো ওয়েলফেয়ার অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের কল্যাণ। এ দুটির সমন্বয়ে ক্যাম্পাসে আমি বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়ার চেষ্টা করি। বর্তমানে ক্যাম্পাসে আমার যে পদচারণা সেটি সম্পূর্ণ পলিসি এবং ওয়েলফেয়ার ভিত্তিক। যেহেতু আমাদের রাজপথের অধ্যায় প্রায় চুকিয়ে এসেছে এজন্যই আমরা এদিকে মনোনিবেশ করেছি।

 

এশিয়া পোস্ট: ছাত্রদলের রাজনীতি নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

 

শেখ তানভীর বারী হামিম: ছাত্রদলের রাজনীতি নিয়ে আমি যে পরিকল্পনা করি সেটি হলো—ক্যাম্পাসগুলোতে আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করব, যেখানে প্রত্যেক ছাত্র গণতান্ত্রিক মতাধিকার পাবে। কোনো ছাত্রকে কখনো পূর্বের মতো তার মত প্রকাশে বাধাগ্রস্ত করা হবে না। তার মত পার্থক্যের কারণে সে যখন চাকরি পরীক্ষা দিতে যাবে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে তাকে বাধাগ্রস্ত হতে হবে না।

 

আমাদের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বিভিন্ন মফস্বল শহর থেকে আসে, ঢাকায় শিফট হয়। সেক্ষেত্রে একজন ছাত্র হঠাৎ ঢাকায় এসে এক ধরনের মহাসমুদ্রে পড়ে। সে এখানে এসে না পায় নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা, না পায় একটা ভালো আবাসস্থলের নিশ্চয়তা। আমরা ক্যাম্পাসগুলোতে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই—যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের নিরাপদ বাসস্থান অর্থাৎ হল এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে পারে। অর্থাৎ তাদের মৌলিক অধিকারগুলো যখন নিশ্চিত করতে পারবে তখনই তারা তাদের শিক্ষা কার্যক্রমে আরও বেশি মনোনিবেশ করতে পারবে।

 

এশিয়া পোস্ট: ছাত্রদলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে যদি আপনাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে সংগঠনটির পরিচালনার ক্ষেত্রে আপনার পরিকল্পনা কী?

 

শেখ তানভীর বারী হামিম: বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল। বিএনপি যেহেতু এখন রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আছে, সেহেতু ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিভিন্নভাবে রাষ্ট্র গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে বা পলিসি দিতে সক্ষম। আমরা কোয়ান্টিটি থেকে কোয়ালিটিকে বেশি গুরুত্ব দেব, কেননা আমরা এখন রাষ্ট্র গঠন করছি। আমরা চাইব, আমাদের ছাত্রদলের কর্মী সংখ্যা যতই হোক না কেন নেতার সংখ্যা যেন কোয়ালিটি সম্পন্ন হয়। আমরা যদি কোয়ালিটিকে ফোকাস করতে পারি সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রের যেমন সহযোগিতা হবে, ঠিক একইভাবে ছাত্র সংগঠন হিসেবে আমরাও ভালো করব। এতে ক্যাম্পাসগুলোতেও আমাদের অবস্থান ভালো হবে এবং শিক্ষার্থীদের বেশি আকৃষ্ট করবে। সুতরাং আমার পরিকল্পনাটি হবে—একটি কোয়ালিটি সম্পন্ন ছাত্রদল যেন আমরা তৈরি করতে পারি।

 

এশিয়া পোস্ট: ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রাবাসে যে সংঘর্ষ হয়েছে, এর মূল ঘটনাটি কী?

 

শেখ তানভীর বারী হামিম: আমি যখন শুনলাম ছাত্রশিবির ছাত্রদলের ওপর হামলা করেছে, তখন আমি ঢাকা মেডিকেলের ইমারজেন্সিতে গিয়েছি। সেখানে দেখলাম, আমাদের ছাত্রদল নেতা সাদিকের শরীরে দুই-তিনটি ছুরিবিদ্ধ হয়েছে। দেখেছি তার অপারেশন চলছে। ডক্টর বলছে একটুর জন্য তার ফুসফুসটি বিদ্ধ হয়নি। পরবর্তীতে আমি সেখানে শিক্ষার্থীদের কাছে জিজ্ঞেস করলাম, তারা বলল—সেখানে সাদিকের ওপর প্রথম ছাত্রশিবিরের একজন নেতা হামলা করেছে, পরবর্তীতে সেখান থেকে সংঘর্ষ হয়। সেখানে ছাত্রশিবির দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এক ধরনের পূর্ব পরিকল্পনায় ছিল। তারা যেভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করেছে, তার বিপরীতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা খালি হাতে নিজেদের ডিফেন্স করার জন্য যেটুকু চেষ্টা করা দরকার সেটুকু করেছে। আমি দেখলাম প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছে।

 

এশিয়া পোস্ট: শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশের জন্য ক্যাম্পাসগুলোতে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর করণীয় কী বা কী কর্মসূচি থাকা উচিত?

 

শেখ তানভীর বারী হামিম: আমরা তো বলছি, বাংলাদেশে কোনো ধরনের যদি অন্যায়-অনিয়ম হয় সেক্ষেত্রে আমরা সবাই কনস্ট্রাক্টিভ সমালোচনা করব, আন্দোলন করব, বিক্ষোভ করব। আমরা রাজনীতিতে একটি সুস্থ ধারার পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই, সুস্থ ধারার একটা কালচার রাজনীতিতে নিশ্চিত করতে চাই। আমাদের ভেতর পলিসি ডিবেট হবে, প্রতিযোগিতা হবে ভালো কাজের। আমাদের ভেতর ইডিওলজিক্যাল বিভিন্ন ধরনের পার্থক্য থাকবে কিন্তু দিনশেষে বাংলাদেশের স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অর্থাৎ রাজনীতির অঙ্গনেই রাজনীতির কথাবার্তা বা রেটোরিক আমরা ব্যবহার করব; কিন্তু তার বাইরে আমাদের যে একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে সেটি যেন বাংলাদেশের প্রশ্নে বিরাজমান থাকে। তাহলেই আমরা একটি সুস্থ সুন্দর ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারব।

 

এশিয়া পোস্ট: সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় ছাত্রদল থেকে আপনাকে শোকজ করা হয়েছিল। আপনার সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কি কোনো ধরনের বিবাদ সৃষ্টি হয়েছে?

 

শেখ তানভীর বারী হামিম: না না। আমি যা কিছু করি, দলের জন্যই করি। আমি যে কর্মসূচিগুলো করেছি, আলটিমেটলি দলের ভালোর জন্যই করেছি। কিন্তু আমি যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে এ দলটি করি, হঠাৎ করে যখন দেখব আমাকে শোকজ করা হয়েছে এবং সেটা আমি ব্যক্তিগতভাবে না পেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখলাম, তখন আমি স্বাভাবিকভাবে মানসিকভাবে তা মেনে নিতে পারিনি। সেক্ষেত্রে আমি একটি প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে আমি ভাবলাম—কেউ সংগঠনের চেইন অব কমান্ডের ঊর্ধ্বে না। প্রতিটি সংগঠনের একটি নিয়ম-শৃঙ্খলা আছে।

 

সুতরাং আমার মনে হয়েছে আমার জবাবটি দেওয়া উচিত। তবেই সংগঠনের চেইন অব কমান্ড রক্ষা হবে, সংগঠনের যে শৃঙ্খলা সেটি থাকবে। ইতিহাস বিশ্লেষণ করে এবং রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার মনে হয়েছে—শোকজের উত্তর দেওয়াটা একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ অবস্থান। এর জন্য ইতোমধ্যে আমি জবাব দিয়েছি।

 

এশিয়া পোস্ট: অনেকেই বলেন, আপনার নিকটাত্মীয়—আপনার চাচার প্রভাব খাটিয়ে আপনি ছাত্রদলের রাজনীতি করেন। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

 

শেখ তানভীর বারী হামিম: আমার চাচা আজিজুল বারী হেলাল। একটা দুঃখের কথা বলি, আমি যখন স্কুলজীবন থেকে ছাত্রদল করি, তিনি কখনো চাননি আমি ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ি। তিনি সবসময় চেয়েছেন আমি যেন পড়াশোনা করে একটা ভালো সরকারি চাকরি করি, বিসিএস ক্যাডার হই অথবা দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষার জন্য যাই। আমার পরিবারে কেউ কখনো চায়নি যে, আমি রাজনীতি করি। যেমন— আমি যখন কলেজ জীবনে ছাত্রদলের রাজনীতি করি, আমার কলেজে পোস্ট পাওয়ার কথা, তখন কমিটি হওয়ার গুঞ্জন উঠেছে। আমার চাচা কোনোভাবে এটা জানতে পেরেছেন। তিনি তৎকালীন সময়ে ছাত্রদলের সেক্রেটারি আকরাম ভাইকে ফোন করে বলেছিলেন— ও যেন কোনোভাবে পদ না পায়। অর্থাৎ আমাকে যেন পদ না দেওয়া হয়, আমি যেন ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত না হতে পারি, তিনি কিন্তু সর্বোচ্চ বাধা দিয়েছিলেন।

 

এমনকি আপনি অবাক হবেন, আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি, বিএনপির এমন অনেক প্রোগ্রাম আছে যেখানে আমার চাচা আজিজুল বারী হেলাল স্টেজে আসবেন। সেখানে তার আগে আমি চলে গিয়েছি। আমি যেই দেখেছি তিনি স্টেজে উঠেছেন, আমি মুখ লুকিয়ে এক পাশে গিয়ে অবস্থান করেছি। অথবা আমার বড় ভাইরা বলছে, ‘এই তোর চাচা আসছে সরে যা।’

 

পরিবার থেকে আমাকে যদি সম্পূর্ণ সাপোর্ট দেওয়া হতো, সেক্ষেত্রে না হয় প্রভাব খাটাতে পারতাম। কিন্তু আমাকে সবসময় রাজনীতির ক্ষেত্রে অনুৎসাহিত করা হয়েছে। আমি হ্যাঁ, তাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমি রাজনীতি করি—এটা আমার পরিবার এখনো চায় না।

 

এশিয়া পোস্ট: সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে এবং সেখানে বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে কি না—এ বিষয়ে জুলাই যোদ্ধারা শঙ্কা প্রকাশ করছে, অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে। ছাত্রদলের যারা জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছে এবং ভূমিকা রেখেছে তারা এ বিষয়টিকে কীভাবে নিয়েছে বা কী করণীয় বলে মনে করেছে?

 

শেখ তানভীর বারী হামিম: দেখুন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অবশ্যই হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে বলেই কয়েক দিন আগে বাজারে একটি আওয়াজ উঠেছিল—ওই সময় যেসব পুলিশ ছাত্রদের ওপর হামলা করেছিল, সে হামলা বা সংঘর্ষে অনেক পুলিশ সদস্য মারা গিয়েছে। তো সেই পুলিশ হত্যার বিচার নিয়ে একটি আওয়ামী বয়ান উঠেছিল। কিন্তু আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ খুব সুন্দরভাবে ক্লিয়ার করেছেন যে, ওই পুলিশ হত্যার বিচার হওয়া সম্ভব না। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে—এটি তার একটি উদাহরণ। আবার একইভাবে আমরা বলেছি, জুলাই সনদে আছে ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হবে। ইতোমধ্যে আমরা বলেছি—হ্যাঁ, ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকেই হবে। সুতরাং জুলাই সনদের পক্ষে আমরা অবশ্যই আছি। কিন্তু আপনার প্রশ্ন থাকতে পারে যে, আমরা কেন সেদিন শপথ নিলাম না। কেননা আমরা সেদিন সেখানে শপথ নেওয়ার কোনো সংবিধানেই নেই, সংবিধানসম্মত নয়। আমরা অবশ্যই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব, কিন্তু সেটি হবে সংসদের অধিবেশনের মাধ্যমে। সংসদের অধিবেশনে অধিকাংশ দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ যখন একমত হবে তখনই সেটি হবে। এজন্যই কিন্তু আমরা সেদিন শপথ গ্রহণ করিনি। কেননা সেদিন যদি আমরা শপথ গ্রহণ করতাম, সংবিধানে একটি সংকট দেখা দিত।