Image description

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও কিশোর কণ্ঠ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, গণভোটের রায় জনগণের। এই রায়কে যদি কেউ কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে যায়, তাহলে এর পরিণতি খুব ভয়াবহ হবে। তরুণ প্রজন্ম কাউকে ছেড়ে দিয়ে কথা বলবে না।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে কিশোর কণ্ঠ পাঠক ফোরামের মেধাবৃত্তি ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, নির্বাচনের পর যে দলটি ক্ষমতায় গিয়েছে তারা জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রচণ্ড গড়িমসি করছে। এর আগে তারা জুলাই সনদে অংশগ্রহণ করেছে, স্বাক্ষর করেছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ডাকে দিনের পর দিন আলোচনা অংশগ্রহণ করেছে। তারা যে বিষয়গুলোতে ঐকমত্য পোষণ করেছে, সেখানে ঐকমত্যের ভিত্তিতে গণভোটের আয়োজন করা হয়েছিল।

এই গণভোটের রায়কে আবার চ্যালেঞ্জ করে পরবর্তীতে হাইকোর্টে আমরা রিট দায়ের করতে দেখলাম। এই রিট দায়ের করার ক্ষেত্রে যেসব আইনজীবী অংশগ্রহণ করেছিল এবং রিট দায়ের করেছেন যিনি, তিনি বিএনপিমনা বা বিএনপি সমর্থিত। আমরা এটার ধিক্কার জানাই।

কিশোর কণ্ঠ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বলেন, জুলাই বিপ্লবে এত রক্তের বিনিময়ে যে বিপ্লব সংগঠিত হয়েছিল, যে বিপ্লব তাদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দিল, যে বিপ্লবের মাধ্যমে তারা দেশে আসতে পারল, এত রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে তারা কিভাবে সেই রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করতে পারে। আমরা লজ্জিত। 

 

বিগত সরকারের সমালোচনা করে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, আগে যখন ফ্যাসিবাদ মানুষের ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করত, তখন তারা কোর্টে যেত। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় তারা কোর্টের কথা বলে বারবার এই রায়কে প্রলুদ্ধ করার চেষ্টা করেছে এবং কোটাগুলোকে ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র করেছে। 

নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, এই কোর্টকে ব্যবহার করার পুরাতন ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি যারা আবার চালু করতে চায়, তাদের পরিণতি ওই ফ্যাসিবাদের মতোই হবে। তারা যদি জুলাই থেকে শিক্ষাগ্রহণ না করে, তরুণ প্রজন্ম জেগে আছে।

তারা কাউকে ছেড়ে দিয়ে কথা বলবে না।

 

শিবির সভাপতি বলেন, তারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করার মধ্যদিয়ে নির্বাচনে জিতেছে। উপদেষ্টাদের একটা বড় অংশ এখন কথা বলা শুরু করেছে। তারা এখন কথা বলতেছে যে জামায়াতে ইসলামীকে বা এই শক্তিকে যাতে ক্ষমতায় যেতে না পারে সেই জন্য তারা সজাগ ছিল, সচেষ্ট ছিল এবং তারা সেক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।

অনুষ্ঠানে কিশোর কণ্ঠের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আব্দুল মোহাইমেন, লেখক ড. আহসান হাবীব ইমরোজ, ডা. সিফাত সালেহ, কিশোর কণ্ঠ পাঠক ফোরাম কুমিল্লা মহানগরীর চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান, উপদেষ্টা কাজী আকিব আব্দুল্লাহ, কুমিল্লা মহানগরীর পরিচালক ফরহাদ হোসেন জারিফসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।