ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অধীনস্থ কবি জসীমউদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিমকে সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এরপর বুধবার (৪ মার্চ) রাত ১১ টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হামিম।
ফেইসবুক পোস্টে হামিম বলেন, ক্লাস ৬ (২০১২) থেকে কলেজ জীবন (২০১৭) পর্যন্ত কোনো পদ ছিল না, ছাত্রদলের রাজনীতি করেছি। জানতে পারলাম, কবি জসীমউদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। আমি এ দলের একজন কর্মী, এতটুকু পরিচয়ই আমার জন্য প্রচণ্ড গর্বের, আলহামদুলিল্লাহ।
এর আগে, বুধবার রাতে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে শেখ তানভীর বারী হামিমকে সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে স্যার এ এফ রহমান হল শাখার সদস্য সচিব মাহদীজ্জামান জ্যোতিকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অধীনস্থ কবি জসীম উদ্দীন হলের সভাপতি তানভীর বারী হামিম ও স্যার এ এফ রহমান হলের সদস্য সচিব মাহদীজ্জামান জ্যোতিকে সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হলো। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইফতার মাহফিল ও কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতার আয়োজন করায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ দেখিয়ে জসীমউদ্দিন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর বারী হামিমকে শোকজ করে ছাত্রদল। অপরদিকে সম্প্রতি মাহদীজ্জামান জ্যোতির গাঁজা সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। এ ঘটনায় তাকে শোকজ করে ছাত্রদল।
এদিকে শোকজ নোটিশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামিমতে লিখিতভাবে অভিযোগের জবাব দিতে বলা হয়। তবে ওইদিন রাত ১টার দিকে ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিওতে নোটিশের জবাব তিনি দেবেন না বলে জানান হামিম।
পরে ভিডিও বার্তায় হামিম বলেন, তারা বলেছে লিখিত জবাব দিতে। আমি লিখিত জবাব চাইলেই দিতে পারতাম। কিন্তু আমি লিখিত জবাব দেব না। এমন কোনো বড় অন্যায় করিনি যে আমাকে পার্সোনালি পাঠানো যাবে না, ডিরেক্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ধরনের একটি শোকজ পত্র দিতে হবে। সারা বাংলাদেশের মানুষ এখন আমাকে ফোন করছে। সারা বাংলাদেশের মানুষ এখন জানতে চাচ্ছে, কী এমন অন্যায় করেছি।