চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন শহীদ ওসমান পাটোয়ারীর (২২) বাবা মো. আব্দুর রহমান। তিনি লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের একজন পল্লী চিকিৎসক।
প্রসিকিউশনের ৭ম সাক্ষী হিসেবে বুধবার (৪ মার্চ) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ তিনি সাক্ষ্য দেন।
সাক্ষ্যে আব্দুর রহমান জানান, তার এক মেয়ে ও দুই ছেলে ছিল।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ঢাকায় ছিলেন জানিয়ে আব্দুর রহমান সাক্ষ্যে বলেন, “সেদিন সকালে তার ছোট ছেলে ওসমান পাটোয়ারী তাকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘আব্বু, আমি আজ আন্দোলনে যাব। আমার সঙ্গে হয়তো তোমার আর দেখা হবে না।
ছেলেকে আন্দোলনে যেতে না করেছিলেন উল্লেখ করে সাক্ষী ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ছেলের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি তার স্ত্রীকে ফোন করেন। ওসমানকে কেন আন্দোলনে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন, জানতে চান স্ত্রীর কাছে। তখন স্ত্রী তাকে বলেন, ‘ওসমান আমাকে জড়িয়ে ধরে আমার দুই গালে ও কপালে চুমু খেয়ে বলেছে, আম্মু তুমি আমাকে আয়াতুল কুরসি পড়ে ফুঁ দিয়ে দেও আল্লাহ যেন আজকে আমাকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন।
সাক্ষ্যে তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা তাহেরের ছেলে সালাউদ্দিন টিপু ও তার সহযোগীরা গুলি করে তার ছেলেসহ দুজন আন্দোলনকারীকে হত্যা করেছে। টিপু ও তার ছোটভাই বিপ্লব, শাহীন, শিবলুসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা লক্ষ্মীপুরে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও এই মামলার সাত আসামি, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের সন্ত্রাসীদের নির্দেশ ও উসকানিতে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন আব্দুর রহমান।
ওবায়দুল কাদের ছাড়া এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।