গাজীপুরে ছোট ভাইকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মাটি চাপা দেওয়ার ঘটনায় বড়ভাই ও তার এক সহযোগীসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জয়দেবপুর থানার পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- নিহতের বড় ভাই আল আমিন (২৩) ও তার বন্ধু আশিক আহমেদ (২০)।
বুধবার (৪ মার্চ) সকালে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু খায়ের, মো. মোজাম্মেল হোসেন, মো. আমিনুল ইসলাম, মো. মহাবুবুর রহমান ও লিপি রাণী সিনহা এবং জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সুপার জানান, পিতার কাছে মোবাইল কেনার বায়না ধরে মাদরাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া আ. রাহিম (১৩)। বিষয়টি তার বড় ভাই আলামিন হোসেন দেখে তার ছোট ভাইকে ভয় দেখানোর জন্য গত ১ ফেব্রুয়ারি বাড়ির অদূরে নিয়ে যায়। সেখানে রাহিমকে মাফলার দিয়ে গজারি গাছের সঙ্গে বাঁধে এবং মুখ স্ক্রচটেপ দিয়ে প্যাঁচায়। বড়ভাই আলামিন হোসেন ছোট ভাই রাহিমকে চর-থাপ্পর মেরে মুখে স্ক্রচটেপ খুলে দিলে রাহিম পুরো ঘটনা তার বাবার নিকট বলে দিবে বললে আলামিন তার ছোটভাই রাহিমকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়।
আল আমিন তার বন্ধু আশিক ও সুমনের সঙ্গে পরিকল্পনা করে জয়দেবপুর থানার বিকেবাড়ি পদ্মপাড়া এলাকার বাঁশরী রিসোর্টের দক্ষিণ পাশে বিটিআই গ্রুপের বাউন্ডারি ওয়ালের পশ্চিম পার্শ্বে শালবনের ভেতরে নিয়ে রাহিমকে মাটিতে ফেলে গলাটিপে হত্যা করে। পরবর্তীতে আলামিন তার অন্য সহযোগী আশিক ও সুমনের সঙ্গে পরামর্শ করে ঘটনাস্থলের পাশেই গর্ত করে লাশ মাটি চাপা দেয়। রাহিমের গায়ের জ্যাকেটটি বড়চালা এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
এদিকে রাহিম নিখোঁজ হওয়ার পর তার পিতা নুরুল ইসলাম জয়দেবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে পুলিশ ওই স্থানে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় একজন অজ্ঞাতনামা ১৩/১৪ বৎসর বয়সী ছেলের মৃতদেহ অর্ধগলিত অবস্থায় উদ্ধার করে। নিহতের পিতা শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে মরদেহের পরিহিত পোশাক দেখে তার ছেলে আ. রাহিমকে শনাক্ত করে। এ ঘটনায় ২৭ ফেব্রুয়ারি জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন পিতা নুরুল ইসলাম।
পরে পুলিশ এ ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে তথ্য প্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্র ব্যবহার করে সন্দেহভাজন নিহতের বড়ভাই মো. আলামিন হোসেন (২৩) ও তার বন্ধু আশিক আহমেদকে (২০) অভিযান চালিয়ে গত মঙ্গলবার ভোরে জয়দেবপুর থানাধীন মির্জাপুর এলাকা হতে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মঙ্গলবার গাজীপুর আদালতে হাজির করা হলে তারা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
শীর্ষনিউজ