রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসন করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আজ রোববার সন্ধ্যায় এনসিপির যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান।
একই অনুষ্ঠানে একই ধরনের দাবি জানিয়েছেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সংসদকে যদি আপনারা অপবিত্র হতে না দিতে চান, আপনারা যদি এই সংসদ অধিবেশন শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের এক্সটেনশন হিসেবে শুরু না করতে চান, তাহলে অবশ্যই প্রথম অধিবেশনেই সেই রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে হবে। যিনি গণহত্যার সময় নিশ্চুপ ছিলেন এবং গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়েও নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।’
আজকের এই ইফতার মাহফিলে সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই যে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রপতি, এই রাষ্ট্রপতির অভিশংসন করে তাঁকে গ্রেপ্তারের আওতায় আনতে হবে। আমরা কোনো ফ্যাসিবাদের চিহ্ন বাংলাদেশে রাখব না। জুলাই অভ্যুত্থানের সেই দাবিগুলোতে আমাদের যুবশক্তি ভূমিকা রাখবে।’
আগে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হলে তারপর অন্য সব কথা শুনবেন বলে জানান নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ‘১৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। ৩০ হাজারের ওপর আমাদের ভাইবোনেরা আহত আছে। সে আহত ভাইবোন এবং শহীদদের সে হত্যার বিচার আমরা আদায় করে ছাড়ব ইনশা আল্লাহ। শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার আমরা আদায় করে ছাড়ব ইনশা আল্লাহ। আগে এই জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তারপর অন্য সব কথা আমরা শুনব।’
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারিকৃত অধ্যাদেশগুলোর অনুমোদন প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘এই অধ্যাদেশগুলোকে অনুমোদন দেওয়ার দায়িত্ব হচ্ছে বর্তমান যে সংসদ অধিবেশন হবে, সেই সংসদের। সংসদ সব অধ্যাদেশ অনুমোদন করবে এটা আমরা আশা করব। সরকারি দল, বিরোধী দল সবাই সেই জায়গায় সম্মত হবে; কারণ, এই নির্বাচন এই সংসদ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখতে হবে এবং সংসদকেও অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে, শপথ নিতে হবে।’
ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় বেনিফিশিয়ারি হলো বিএনপি। ক্ষমতায় গিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে তারা যে গড়িমসি করছে, আমি মনে করি এটা সুস্পষ্ট জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে গাদ্দারি এবং বিশ্বাসঘাতকতা। রক্তের সঙ্গে বেইমানি করলে তারা কোনো দিনও সফলকাম হতে পারবে না।’
ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে দেন এসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বিএনপি সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত দলটি দুর্নীতির সঙ্গে নিমজ্জিত হয়ে যে ভুল করেছিল, এবার আর করবে না, এমনটাই প্রত্যাশা। এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের বিভিন্ন বড় পদগুলো ৫০ কোটি, ১০০ কোটি, ২০০ কোটি টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের তরুণ সমাজই আগামী বাংলাদেশের কান্ডারি। বাংলাদেশের তরুণ সমাজ যদি রাজনীতি নিয়ে সচেতন থাকে, তারা যদি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মতো করে বাংলাদেশের মধ্যে রাজনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে, তাহলে তারা বাংলাদেশকে বদলে দিতে পারবে। এ সময় তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
জাতীয় যুবশক্তির মুখ্য সংগঠক ফরহাদ সোহেলের সঞ্চালনায় এ সময় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, জাভেদ রাসিন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মোজাহিদ, যুবশক্তির সদস্যসচিব জাহেদুল ইসলাম, এবি পার্টির শাহদাত উল্লাহ, জাতীয় যুব সংহতির আহ্বায়ক হারুনুর রশিদ, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার প্রমুখ।