Image description

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব শেষ হওয়ার পরও সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক বছরের জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) নিরাপত্তা নেওয়ায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ড. ইউনূস কি মবের ভয়ে এক বছর পর্যন্ত এসএসএফ নিরাপত্তা নিয়েছেন?—এ প্রশ্ন তুলেছেন সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল। 

রবিবার (১ মার্চ) নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘কথা’তে মাসুদ কামাল এসব কথা বলেন।

মাসুদ কামাল বলেছেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যত দায়িত্ব শেষ হয়।

পরবর্তীতে নবনির্বাচিত সরকার শপথ নেয় এবং মন্ত্রিসভা গঠন সম্পন্ন হয়। তবে দায়িত্ব হস্তান্তরের পরও প্রায় দুই সপ্তাহ সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’য় অবস্থান করেন ড. ইউনূস। পরে তিনি গুলশানের ব্যক্তিগত বাসভবনে চলে যান।

 

তিনি আরো বলেছেন, ২০০৬ সালের বিশেষ নিরাপত্তা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর তিন মাস পর্যন্ত রাষ্ট্রের “অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি” (ভিআইপি) হিসেবে বিবেচিত হন এবং এসএসএফসহ নির্ধারিত নিরাপত্তা সুবিধা পান।

 

মাসুদ কামাল জানিয়েছেন, চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি জারি হওয়া এক সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য ড. ইউনূসকে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি হয় এবং তা অবিলম্বে কার্যকর করা হয়।

মাসুদ কামাল তার বক্তব্যে বলেছেন, ‘আগের আইনে যেখানে তিন মাসের বিধান ছিল, সেখানে নতুন করে এক বছর করা হলো কেন? এটি কি সম্ভাব্য জনরোষ বা মব পরিস্থিতির আশঙ্কা থেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত?’

তার দাবি, দায়িত্বে থাকার সময় নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তের কারণে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়ে থাকতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে কি না—সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।

 

মাসুদ কামাল সমালোচনা করে বলেছেন, যদি নিরাপত্তা প্রয়োজন হয়, তবে সমপর্যায়ের অন্য সাবেক রাষ্ট্রীয় পদাধিকারীদের ক্ষেত্রেও একই সময়সীমা প্রযোজ্য হওয়া উচিত। অন্যদিকে ড. ইউনূসের সমর্থকদের যুক্তি, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় এক বছরের নিরাপত্তা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়।

মাসুদ কামালের মতে,  বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত নিরাপত্তার নয়; বরং নীতিগত সমতার প্রশ্নও এখানে জড়িত। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দায়িত্ব পালনকারী কারও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি আইনের প্রয়োগে সমতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।