Image description

রাষ্ট্রীয় সফরে প্রথমবারের মতো শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) নিজ নির্বাচনি এলাকা ঝিনাইদহের শৈলকুপায় যাচ্ছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তার আগমন ঘিরে বিশাল গণসংবর্ধনায় আয়োজন করেছে বিএনপি। শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে ইতোমধ্যে মঞ্চ তৈরি ও সাজসজ্জার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনি এলাকার সড়ক-মহাসড়কে নির্মাণ করা হয়েছে ৩০টিরও বেশি সুদৃশ্য তোরণ। খুলে দেওয়া হয়েছে যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ শহরের ভাঙা ব্রিজের দুপাশের ব্যারিকেডও।

জানা গেছে, দলের অঙ্গ সংগঠন ও নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, মন্দিরসহ নানা সংগঠনও বিশাল বিশাল ব্যানারসহ প্রতিষ্ঠান-সংগঠনের নামে আইনমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এসব তোরণ নির্মাণ করেছে।

বাজার কমিটি, বণিক সমিতিসহ নানা সংগঠনের তোরণে শৈলকুপা যেন ভিন্নরূপে সেজেছে। খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের শৈলকুপা-গাড়াগঞ্জ অংশসহ গাড়াগঞ্জ থেকে শৈলকুপা শহরে পৌঁছানোর ৬ কিলোমিটার সড়কে ২০০ থেকে ৩০০ গজ পর পরই চোখ ধাঁধানো এসব তোরণ চোখে পড়ছে। শৈলকুপা যেন সুদৃশ্য দৃষ্টিনন্দন তোরণের শহর।

তোরণ নির্মাণে খরচের বিষয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেউ কেউ বলছেন তারা নিজেদের পকেটের অর্থেই এসব তোরণ নির্মাণ করেছেন।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সড়ক-মহাসড়কের কলেজ গেট, চৌরাস্তা মোড়, পুরাতন ব্রিজ কদমতলা, তিন রাস্তার মোড় কবিরপুর, শৈলকুপা-গাড়াগঞ্জ রোডে কবিরপুর কালী মন্দির, কবিরপুর দুর্গা মন্দির, হাবিবপুর নিমতলা, হাবিবপুর ঈদগাহ, হাবিবপুর শেষ প্রান্ত, বারইপাড়া মোড়, গাড়াগঞ্জ, গাড়াগঞ্জ কলেজ রোড, গাড়াগঞ্জ হাইস্কুল, হাইওয়ে সড়ক থেকে শৈলকুপা ঢোকার মুখে, হাইওয়ে সড়কের গাড়াগঞ্জ নতুন ব্রিজের আগে, নতুন ব্রিজের পরে, মহাসড়কের চাঁদপুর ব্রিজ মোড়, আসাননগর মোড়, ভাটই বাজারের শুরুতে পর পর তিনটি, ভাটই বাজারে কুষ্টিয়ামুখী, ভাটই, ভাটই স্ট্যান্ড, ভাটই বাজার স্ট্যান্ড পেরিয়ে ভাটই কাঁচাবাজার, ভাটই মাধ্যমিক স্কুল, ভাটই কলেজের সামনে মহাসড়ক, কদমতলা, দুখি মাহমুদ সরণিতে এমন সুদৃশ্য তোরণ রয়েছে।

এদিকে, মাসখানেক আগে শৈলকুপার শত বছরের পুরাতন ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ ও যানচলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ব্রিজের দুপাশে ব্যারিকেড দেয় পৌর কর্তৃপক্ষ ও সড়ক-জনপথ বিভাগ। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা সেটি উপড়ে ফেলেছে, মানুষের চলাচল ও মন্ত্রীর গাড়িবহর চলাচলের জন্য।

এ বিষয়ে শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক মেয়র খলিলুর রহমান জানান, মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ভাঙা ব্রিজের দুপাশের ব্যারিকেড খুলে দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে পুনরায় ব্যারিকেড দিয়ে দেওয়া হবে।

৩০টিরও বেশি তোরণ নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, দলের পক্ষ থেকে দুই থেকে তিনটি তোরণ করা হয়েছে। বাকিগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন তাদের নিজ উদ্যোগে করেছে। তবে ৩০টি তোরণ হবে না।

শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, শনিবার হাটের দিন হওয়ায় যানজট এড়াতে সাময়িক এক দিনের জন্য ব্রিজটি খুলে দেওয়া হয়েছে।