Image description
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল আশাশুনি

সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে  ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪।

গুগলের অ্যান্ড্রয়েড আর্থকুয়েক অ্যালার্ট সিস্টেমের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.৯। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল খুলনা জেলা শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং সাতক্ষীরা থেকে ১৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৫ কিলোমিটার।

গুগলের অ্যান্ড্রয়েড আর্থকুয়েক অ্যালার্ট সিস্টেমের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল আশাশুনি উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরত্বে। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কিছু এলাকাতেও ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি জানান, তালা উপজেলায় জুমার নামাজ চলাকালে হঠাৎ ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি অনুভূত হওয়ায় মুসল্লিসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এ কম্পনে ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা কেঁপে ওঠে। শুক্রবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে এ ভূকম্পন অনুভূত হয়।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পনটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪। এর উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলা, যা খুলনার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এবং সাতক্ষীরার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। মাঝারি মাত্রার এ ভূমিকম্পে ঝাঁকুনি বেশ জোরালোভাবে অনুভূত হয় এবং মুহূর্তেই জেলা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কিছু মাটির ঘর ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সুভাশুনির পাঁচালি ধসে গেছে এবং পুরনো ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

জুমার নামাজে থাকা এক মুসল্লি বলেন, আমরা মোনাজাতে ছিলাম, হঠাৎ মসজিদ দুলে ওঠে। সবাই ভয় পেয়ে দ্রুত বাইরে চলে যাওয়ার চেষ্টা করি। তালা সদর এলাকার বাসিন্দা হায়দার আলী জানান, প্রথমে মনে হয়েছিল মাথা ঘুরছে। পরে দেখি ঘরের দরজা-জানালা কাঁপছে। সঙ্গে সঙ্গে পরিবার নিয়ে বাইরে চলে আসি। এক ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের মালিক বলেন, হঠাৎ ঘর দুলতে শুরু করে, কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক পাশ ভেঙে পড়ে। সাতক্ষীরার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, দুপুর ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে ভূমিকম্পনটি অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল আশাশুনি উপজেলা।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স তালা স্টেশনের স্টেশন অফিসার আব্দুল হান্নান বলেন, ভূমিকম্পের পরপরই আমাদের একটি টিম উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পর্যবেক্ষণ করে। কিছু স্থানে মাটির ঘর আংশিক ভেঙে পড়া ও পুরনো ভবনে ফাটল দেখা যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস প্রস্তুত রয়েছে। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।