নোয়াখালীর সুবর্ণচরে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় মোশাররফ হোসেন নামে এক বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নোমান বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে চরজব্বার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ৮নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম ওরফে দিদার মাঝিসহ (৪০) ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদাবাজির বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে নোমান বাজার এলাকায় হামলার শিকার হন মোশাররফ। তিনি বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্ত দিদার মাঝি, তার ছেলে ইরাক, হৃদয়, সাঈদী, সাইফুল ও মহিউদ্দিনসহ একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র যেমন— কিরিচ, রামদা, লোহার রড ও হকিস্টিক নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা মোশাররফের মাথায় লক্ষ্য করে একের পর এক কিরিচের কোপ দিলে তার মাথার তিনটি স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। এছাড়াও লোহার রডের আঘাতে তার ডান হাতের কবজির হাড় ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়।
আহত মোশাররফ জানান, আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা আমার পকেটে থাকা নগদ ১০ হাজার টাকা এবং প্রায় ১৮ হাজার টাকা মূল্যের দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে আমাকে রাস্তার পাশের পানিতে ফেলে দেয়।
তিনি আরও জানান, স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
বর্তমানে তিনি নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের ১ নম্বর ওয়ার্ডে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, তার মাথায় তিনটি স্থানে যথাক্রমে ৮টি, ৫টি ও ৭টি সেলাই দিতে হয়েছে।
মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর ভাই আব্দুল জব্বার জানান, আসামিরা এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। আমি এ নৃশংস হামলার সুষ্ঠু বিচার ও আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাই।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, মোশাররফকে স্থানীয় কৃষকরা মারধর করেছে এবং তিনি এ ঘটনার সাথে জড়িত নন।
চরজব্বার থানা পুলিশ বলেন, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
কালবেলা