হবিগঞ্জে পুলিশকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারকৃত বাহুবল উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তুষার জামিন পেয়েছেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানজিনা রহমান তানিনের আদালত তাকে জামিন মঞ্জুর করেন। আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ প্রতিবেদনের আগপর্যন্ত তাকে আদালত অস্থায়ী জামিন দেন।
পুলিশকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনে বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
আদালতের পরিদর্শক সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ৫ হাজার টাকা বেইল বন্ডে ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তুষারের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।
জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা (গত সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাশী) মখলিছুর রহমানের সঙ্গে সম্প্রতি মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন বাহুবল মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম। এ সময় মখলিছুর রহমানের পাশে থেকে উত্তেজিত হয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তুষার ওসিকে উদ্দেশ্য আপত্তিকর ভাষায় মন্তব্য করতে থাকেন। এমন একটি অডিও রেকর্ড ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
অডিওতে একপর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায় ‘বাহুবলে ওসিগিরি করতে হলে আমাকে জিজ্ঞেস করেই করতে হবে’। অডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার জন্ম দেয়।
এ অবস্থায় রোববার দুপুরে তাকে শহরের শায়েস্তানগরে নিজ বাসা থেকে আটক করে ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় রোববার রাতে বাহুবল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখিয়ে সোমবার আদালতের প্রেরণ করা হয়।
এদিকে ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তুষারের দাবি, সম্পাদিত (এডিট করা) করে অডিও ছড়িয়ে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। গত দুই মাসে ওসির সঙ্গে তার কোনো ফোনালাপ হয়নি।
তিনি বলেন, তার ম্যানেজারকে উদ্দেশ করে বলা কথা বিকৃতভাবে প্রচার করা হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ভাদেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মাসুক আলীকে ‘ডেভিল’ আখ্যা দিয়ে এক মাস তিন দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। মহাসড়কে ৫১ লাখ টাকার সিগারেটবোঝাই একটি গাড়ি লুটের ঘটনায় প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।