Image description
 

মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালের একটি স্নুকার ক্লাবের ভেতরে ৩০ সেকেন্ডে ২৭ বার ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছে দশম শ্রেণির এক ছাত্র। আরও ভয়াবহ ঘটনা হলো, অভিযুক্তরাই নাকি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর পরিকল্পিতভাবে সিনেমার দৃশ্যের মতো ক্লাবে ঢুকছে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তারা ভুক্তভোগীকে কোণঠাসা করে ফেলে। এরপর ছুরি ও ড্যাগার দিয়ে দ্রুত আঘাত করতে থাকে। মাত্র আধা মিনিটে ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরকে ২৭ বার ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলার পর অভিযুক্তরা যত দ্রুত এসেছিল, তত দ্রুতই সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীর এক হাতের কবজিতে ১০ টির বেশি গভীর ক্ষত হয়েছে। অন্য হাতের দুটি আঙুল কেটে গেছে। তার কাঁধ ও পিঠেও গুরুতর আঘাত লেগেছে। এত নির্মম হামলার পরও কোনোভাবে সে হামলাকারীদের হাত থেকে বেরিয়ে পালাতে সক্ষম হয়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আহত ছাত্র কিশোর গৌতম নগর থানার এলাকার বাসিন্দা। সে নিয়মিত ওই স্নুকার ক্লাবে যেত। অভিযুক্ত দুজনও ১৬ বছর বয়সী দশম শ্রেণির ছাত্র। তারা ভুক্তভোগীর সঙ্গে একই কোচিং সেন্টারে পড়াশোনা করে। তদন্তকারীদের ধারণা, প্রতিশোধই ছিল হামলার মূল কারণ। কয়েক দিন আগে পুল খেলার সময় আধিপত্য নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় ভুক্তভোগী দুই অভিযুক্তকে চড় মেরেছিল।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে গণেশ চকের একটি ক্লাবে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর, গতকাল রোববার ভিডিওটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পুরো শহরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। হামলা–সংক্রান্ত ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। দুই অপ্রাপ্তবয়স্ককে আটক করার পর নোটিশ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। উপপরিদর্শক মণিপাল সিং ভাদুরিয়া জানিয়েছেন, শুরুতে হামলার ধারায় মামলা নেওয়া হয়েছে। মেডিকেল রিপোর্টে আঘাতের মাত্রা নিশ্চিত হলে আরও গুরুতর ধারা যোগ করা হবে।

অভিযুক্তরা নিজেরাই ফুটেজ প্রকাশ করেছে—এ অভিযোগ জনমনে ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলছেন, কিশোরদের একটি বিরোধ কীভাবে প্রায় প্রাণঘাতী হামলায় রূপ নিল। আর হত্যাচেষ্টার মতো অভিযোগে অভিযুক্ত অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এমন দুঃসাহসিক আত্মবিশ্বাসই বা এল কোথা থেকে।