হবিগঞ্জের বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) হুমকি দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তুষার জামিন পেয়েছেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুলিশ তাকে জেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানজিনা রহমান তানিনের আদালতে হাজির করে। এ সময় তার আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারিক পুলিশ প্রতিবেদনের (বিপিআর) আগপর্যন্ত তাকে অস্থায়ী জামিন দেন আদালত।
হবিগঞ্জ আদালতের পরিদর্শক সোহেল রানা জানান, পাঁচ হাজার টাকা বেইল বন্ডে ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তুষারের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।
এর আগে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তুষারকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। বাহুবল মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলামের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তুষারকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
সম্প্রতি বাহুবল মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলামের সঙ্গে দুই ব্যক্তির কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিওতে একপর্যায়ে অশালীন ভাষা ব্যবহার করতে শোনা যায়।
কথোপকথনের শুরুতে এক ব্যক্তি বলেন, ‘আপনি ওসিকে হুমকি দেবেন, লোক নিয়ে আসবেন, চাকরি করতে দেবেন না; এটা কেমন কথা?’ পরে উভয় পক্ষের মধ্যে বাক্যবিনিময় হয়। একপর্যায়ে তৃতীয় একজনকে ‘ওসি’ সম্বোধন করে অশালীন ভাষা ব্যবহার করতে শোনা যায়।
ওসিকে হুমকি ও গালাগাল করা ওই ব্যক্তি ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তুষার বলে পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে আটকের আগে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তুষার দাবি করেন, সম্পাদিত (এডিট করা) অডিও ছড়িয়ে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তার ভাষ্য, গত দুই মাসে ওসির সঙ্গে তার কোনো ফোনালাপ হয়নি। তিনি বলেন, ম্যানেজারকে উদ্দেশ করে বলা কথাকে বিকৃতভাবে প্রচার করা হচ্ছে।
এ ছাড়া তিনি দাবি করেন, ভাদেশ্বর ইউনিয়ন কমিটির সদস্য মাসুক আলীকে ‘ডেভিল’ আখ্যা দিয়ে এক মাস তিন দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। মহাসড়কে ৫১ লাখ টাকার সিগারেটবোঝাই একটি গাড়ি লুটের ঘটনায় প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছমিন খাতুন বলেন, পুলিশকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলার পর ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তুষারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।