Image description
 

Ali Ahmad Mabrur (আলী আহমদ মাবরুর)

 
 
কালের কন্ঠ পত্রিকাকে দেয়া প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন এর সাক্ষাতকারটি খুবই গুরুত্বপূর্ন। রাজনীতিবীদ তো বটেই, রাজনীতি সচেতন প্রতিটি মানুষের এই সাক্ষাতকারটি পড়া উচিত। সাধারণভাবে যা দেখা যায়; এর অন্তরালে আরো যে অনেক কিছু হয় তা এই সাক্ষাতকারের লাইনে লাইনে ফুটে উঠেছে। এই সাক্ষাতকারে প্রেসিডেন্ট সাহেব বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারকে নানা অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন।
 
অন্তর্বর্তী সরকার তাকে সহযোগিতা করেনি। তার বিদেশ যাওয়া থামিয়ে দিয়েছিল। তার প্রেস টিম প্রত্যাহার করেছিল। দূতাবাস থেকে তার ছবি নামিয়েছিল। কিংবা তাকে নানাভাবে অপসারনের চেষ্টা করেছিল। আমরা সাধারণভাবে অন্তর্বর্তী সরকারকে অনেক সমালোচনা করলেও পুরো ১৮ মাস জুড়েই যে অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে রাষ্ট্রপতির টানাপোড়েন ছিল তা স্পষ্ট বোঝা যায়।
 
এই সময়ে প্রেসিডেন্ট সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছেন বিএনপি থেকে। বিএনপি তাকে বারবার গ্রিন সিগন্যাল দিয়ে পাশে থাকার কথা জানিয়েছে। বিএনপির কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের অপসারন প্রক্রিয়া সফল হয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর গত এক সপ্তাহ তিনি অনেক ভালো আছেন- এই সবই তিনি জানিয়েছেন। এর বাইরে তিন বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব তার পাশে ছিল।
 
এই সাক্ষাতকারটি খুব স্পর্শকাতর সময়ে প্রকাশিত হলো। কারণ প্রেসিডেন্ট এখনো সাবেক হননি। তিনি বঙ্গভবনেই আছেন। নতুন সরকার গঠিত হয়েছে কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এখনো তার সরকারী বাসভবনে ওঠেননি। আবার অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নিয়েছে কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা এখনও সরকারী বাসভবন যমুনাতেই আছেন। এরকম সময়ে এই সাক্ষাতকার বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঝড় তুলতে পারে। আবার প্রধান উপদেষ্টাসহ একাধিক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট যেভাবে মুখ খুলেছেন, তাতে করে তাদের জীবনেও নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ নেমে আসতে পারে।
 
অনেক বড়ো একটি রাজনৈতিক সমীকরণ আসলে ভেতরে ভেতরে চলেছে। ইনফ্যাক্ট এই সাক্ষাতকার আগে প্রকাশিত হলে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারেই হয়তো অনেক দল অপারগতা প্রকাশ করতো। আর সবচেয়ে বড়ো কথা, ৫ আগষ্ট গণঅভ্যুত্থানের পর এর নায়কেরা কিংবা পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের তরফ থেকেও সংবিধানের নানা সমালোচনা করা হলেও সংবিধানটি বাতিল করা হয়নি। বরং সবকিছুকে সংবিধানের আওতায় করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর খেসারত সম্ভবত অনেকদিন দিয়ে যেতে হবে।