ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ লিও চতুর্দশ বলেছেন, কয়েকজন স্বৈরশাসকের কারণে বিশ্ব আজ ধ্বংসের মুখে পড়েছে। তারা যুদ্ধের পেছনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে।
বৃহস্পতিবার আফ্রিকার ক্যামেরুনের একটি গির্জায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি বিশ্বনেতাদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ধর্মের নাম ব্যবহার করে অন্য জাতির উপর চালানো সহিংসতা ও যুদ্ধকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে।
দ্য গার্ডিয়ান জানায়, যদিও পোপ সরাসরি কারোর নাম উল্লেখ করেননি। তবে এই বক্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েকদিন ধরে চলা প্রকাশ্য বাকযুদ্ধের মধ্যে এই বক্তব্য দিলেন পোপ। তিনি ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে মুখ খোলার পর থেকে ট্রাম্পের রোষানলে পড়েছেন।
পোপ বলেন, তাদের প্রতি ধিক্কার জানাই, যারা নিজেদের সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক লাভের জন্য ধর্ম ও ঈশ্বরের নামকে বিকৃত করে এবং পবিত্র বিষয়কে অন্ধকার ও কলুষতার দিকে টেনে নিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, তারা চোখ বন্ধ করে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। অথচ শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্গঠনের মতো কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পোপের বক্তব্যের সমালোচনা করে তাকে রাজনীতি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। তিনি ‘ন্যায়সঙ্গত যুদ্ধ’ তত্ত্ব তুলে ধরে পোপের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক বিশপ সম্মেলন পোপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ভ্যান্সের বক্তব্যকে ভুল ব্যাখ্যা বলে উল্লেখ করেছে। তাদের ভাষ্য, ক্যাথলিক চার্চ দীর্ঘদিন ধরেই ‘শুধুমাত্র আত্মরক্ষার প্রয়োজনে, সব শান্তি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে যুদ্ধকে বৈধ’ বলে মনে করে। যা পোপের বক্তব্যের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এর আগে, পোপ লিও বলেন, আমি নিজেকে রাজনীতিবিদ মনে করি না এবং ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কেও জড়াতে চাই না। তবে আমি যুদ্ধের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান অব্যাহত রাখব এবং শান্তি, সংলাপ ও বহুপাক্ষিকতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধান খোঁজার পক্ষে কথা বলে যাব।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ক্যাথলিক চ্যারিটিজ অব মায়ামি আর্চডায়োসিসের তহবিল বন্ধ করে দিয়েছে। সংস্থাটি অভিবাসী শিশুদের আশ্রয় ও সেবাদান কার্যক্রম পরিচালনা করত।
মায়ামির আর্চবিশপ থমাস ওয়েনস্কি বলেন, ৬০ বছরের সম্পর্ক হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বোধগম্য নয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ মানবিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।