চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরায় ৪টি তেলবাহী রেল ওয়াগন লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটছে। এ সময় রহনপুর-রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধারের ১০ ঘণ্টা পর রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। ওয়াগানগুলো খুলনা থেকে আমনুরা ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রর জন্য ফার্নেস ওয়েল বহন করে আনছিল।
এ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আমনুরা রেলওয়ে জংশনে অন্তত ৩ বার লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটল।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও স্থানীরা জানান, বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় ৫টার দিকে আমনুরা রেলস্টেশনের পাশে তেলচালিত একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে তেলবাহী ওয়াগন নিয়ে আসছিল ট্রেনটি। এ সময় লাইনচ্যুতি ঘটলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর স্টেশনের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রহনপুর থেকে খুলনাগামী মহানন্দা এক্সপ্রেস (১৬ ডাউন), লোকাল পূণর্ভবা এবং রহনপুর কমিউটার ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সকাল ১০টায় ঈশ্বরদী থেকে একটি রিলিফ ট্রেন (উদ্ধারকারী ট্রেন) ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও উদ্ধারকাজ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে সেটিও লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে রেলওয়ের কর্মকর্তাদের চেষ্টায় ট্রেনটি উদ্ধার সম্পন্ন হলে ১০ ঘণ্টা পর রহনপুর-রাজশাহী-রাজশাহী রুটে পুনরায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে আকস্মিক দুর্ঘটনার কারণে সকাল থেকেই সাধারণ যাত্রীদের কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
স্থানীয়রা জানান, লাইনগুলো জরাজীর্ণ হওয়ায় মাঝে মধ্যেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে এবং জনসাধারণ দুর্ভোগে পড়ছে। চলতি মাসেই ৩ দফা এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও রেল বিভাগ উদাসীন রয়েছে।
আমনুরা রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার হাসিবুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঈশ্বরদী থেকে রেলওয়ের উদ্ধারকারী দল সকাল ১০টা থেকে উদ্বারকাজ শুরু করে। দুপুর ৩টার কিছু পরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তিনি জানান, এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। তেলবাহী ওয়াগন লাইনচ্যুতির ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।