Image description

দেশের ক্রীড়াক্ষেত্র থেকে অতীতে বহু তারকা সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হয়েছেন, কিন্তু টেকনোক্র্যাট কোটায় কোনো সাবেক ক্রীড়াবিদের মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার নজির ছিল না। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে যাচ্ছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক।

 

নবগঠিত সংসদের সদস্যরা সকালে শপথ নেওয়ার পর বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথের প্রস্তুতি শুরু হয়। এ সময় সম্ভাব্য মন্ত্রীদের সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ যোগাযোগ করে। সেই তালিকায় আমিনুল হকের নামও রয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছে এশিয়া পোস্ট।

 

সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আমিনুল। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর তিনি জয় পাননি, তবে সংবিধানে থাকা টেকনোক্র্যাট কোটা তাকে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। মন্ত্রিসভার সর্বোচ্চ দশ শতাংশ সদস্য সংসদের বাইরে থেকে নেওয়ার বিধান রয়েছে, যেখানে বিশেষ দক্ষতা বা অবদানের ভিত্তিতে ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ক্রীড়াবিদ হিসেবে এই কোটায় মন্ত্রী হওয়ার দৃষ্টান্ত আগে দেখা যায়নি।

 

খেলোয়াড়ি জীবনে আমিনুল হক ছিলেন দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক। নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় আবাহনী, মোহামেডান, মুক্তিযোদ্ধাসহ শীর্ষ ক্লাবগুলোতে খেলেছেন। জাতীয় দলে তার উপস্থিতি ছিল দীর্ঘদিনের। ২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং ২০১০ দক্ষিণ এশীয় গেমসে দলের নেতৃত্ব দেন। পেনাল্টি ঠেকানোর দক্ষতার কারণে সমর্থকদের কাছে তিনি বিশেষভাবে জনপ্রিয় ছিলেন।

মাঠ ছাড়ার পর তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং দীর্ঘ সময় দলীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন। ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদান ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা—দুই দিক বিবেচনায় তাকে মন্ত্রিসভায় আনার দাবি আগেই উঠেছিল বিভিন্ন মহল থেকে।

 

স্বাধীনতার পর কয়েকজন সাবেক ফুটবলার মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন বটে, তবে তারা সবাই নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে। টেকনোক্র্যাট হিসেবে ক্রীড়াঙ্গনের কারও মন্ত্রী হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম হতে যাচ্ছে।

 

জানা গেছে, আমিনুল হক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন। সাধারণত যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে একজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেন—সে বিবেচনায় ক্রীড়ামহলের ধারণা, এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বই তার হাতে যেতে পারে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।