ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একঝাঁক তরুণ-তরুণী বিজয়ী হয়েছেন। এরা আসন্ন সংসদ অধিবেশনে সংস্কার, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদের সিংহভাগ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভোটার বিহীন নির্বাচনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।
ছাত্র-জনতার নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছেন এদের অনেকে। আবার অনেকের ব্যক্তি ও পরিবার স্বৈরাচারী সরকারের শাসনামলে নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছিলেন। সেসব মুখগুলো জনরায়ে এবার বিজয়ী হয়েছেন। বহুবছর পর এবারের সংসদে দেশবাসী নানা শ্রেণি, পেশার এবং বিভিন্ন বয়সের জনপ্রতিনিধিদের সংসদে দেখতে পাবেন। অংশগ্রহণমূলক সংসদ এবার জন প্রত্যাশা পূরণ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তরুণ সংসদ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন-জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম (ঢাকা-১১), সদস্য সচিব আখতার হোসেন (রংপুর-৪), মূখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ (কুমিল্লা-৪), যুগ্ম মূখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ (নোয়খালী-৬), যুগ্ম-আহ্বায়ক ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ (কুড়িগ্রাম-২) এবং যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল-আমিন। এরা সবাই স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলনে সম্মুখ সারির নেতা।
বিএনপি এবং তাদের মিত্রদের সমর্থনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন অনেকে। তাদের মধ্যে রয়েছেন-ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন (ঢাকা-৬), বিতর্কিত যুদ্ধাপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৭), ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ (ভোলা-১, বিজেপি), ববি হাজ্জাজ (ঢাকা-১৩), গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী এবং টকশো ব্যক্তিত্ব জোনায়েদ সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬), ডাকসুর সাবেক ভিপি এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এবং বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র থেকে দাঁড়িয়ে বিজয়ী হওয়া ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন বেশ কয়েকজন তরুণ। তাদের মধ্যে রয়েছেন-বহুল আলোচিত বক্তা আমির হামজা (কুষ্টিয়া-৩), আয়না ঘর থেকে ফিরে আসা ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম (আরমান) (ঢাকা-১৪), জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান (পাবনা-১), ইসলামিক বক্তা ও জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী (পিরোজপুর-১), বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও তরুণ জামায়াত নেতা রাশেদুল ইসলাম রাশেদ (শেরপুর-১), বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি ও তরুণ জামায়াত নেতা মো. সালাউদ্দিন (গাজীপুর-৪)।
উপরোক্ত তরুণ সংসদের কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণে দেখা গেছে-সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিভিন্ন টেলিভিশন টকশো এবং অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন প্লাটফর্মের আলোচনায় এসব তরুণ নেতাদের সরব উপস্থিতি রয়েছে। তারা সমাজ, দেশ ও রাজনীতির নানা বৈষম্য নিয়ে কথা বলেন। তারা দেশকে নিয়ে নতুন করে গড়ে তোলার কথা ভাবেন। পুরাতন ধারার রাজনীতি থেকে সরে এসে বৈষম্যহীন ও সুস্থ ধারার রাজনীতির স্বপ্নের কথা বলেন। তরুণরা তাদেরকে অনুসরণ করেন; এবারের সংসদে তারা ভালো ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা তাদের।