Image description
গণভোটে বিশাল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ জয়ী

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটে বিশাল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে। এর ফলে দেশের শাসন কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসছে। জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা হবে। সংসদে নারী প্রতিনিধির সংখ্যা বাড়বে। সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন লাগবে।

নির্বাচিত সংসদ দুটি দায়িত্ব পালন করবে। শপথ নেওয়ার পর সংসদ-সদস্যরা পরবর্তী ১৮০ দিন সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসাবে কাজ করবে। পরে তারা নিয়মিত আইনসভার সদস্য হিসাবে কাজ করবেন। জুলাই সনদ অনুসারে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ কয়েকটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠিত হবে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদও সংশোধন হবে। সংসদ-সদস্যরা অর্থবিল এবং সরকারের ওপর অনাস্থা বিল ছাড়া বাকি সব বিলে দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারবেন।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ। এর মধ্যে গণভোটে ভোট পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন। ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন। বিশাল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে।

মূলনীতি : বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা সংবিধানের মূলনীতি। জুলাই সনদ অনুসারে সংবিধানের মূলনীতি হবে-সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি। ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার স্থলে যুক্ত হবে-সব সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা। সংবিধানে বর্তমানে ২২টি মৌলিক অধিকার রয়েছে। জুলাই সনদে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদ : জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন লাগবে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন হবে। অনুচ্ছেদে বলা আছে-সংসদ-সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ-সদস্য পদ বাতিল হবে। নতুন নিয়মে সংসদ-সদস্যরা অর্থবিল ও সরকারের ওপর অনাস্থা বিল ছাড়া বাকি সব বিলে দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারবেন।

বর্তমানে নারীদের সংরক্ষিত আসন ৫০টি। জুলাই সনদে এটি বাড়িয়ে ক্রমান্বয়ে ১০০ তে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার সরকারি দল থেকে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সংবিধান সংশোধনের পর ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন বিরোধী দল থেকে। এতদিন কোনো দেশের সঙ্গে সরকারের কোনো চুক্তি করতে হলে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হতো না। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে-রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত কোনো চুক্তি করতে হলে সংসদের উভয়কক্ষের অনুমোদন লাগবে। সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে এতদিন নির্বাচন কমিশনের একক কর্তৃত্ব ছিল। জুলাই সনদ পাশ হওয়ায় একক কর্তৃত্ব হারিয়েছে ইসি। এখন ইসির সঙ্গে বিশেষজ্ঞ কমিটিও এ দায়িত্ব পালন করবে।

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও ভারসাম্য : প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ হবে সুনির্দিষ্ট। একজন ব্যক্তি তার জীবনে সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী জরুরি অবস্থা জারি হয় প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরে। এর ফলে মৌলিক অধিকার স্থগিত হয়। কিন্তু জুলাই সনদ অনুসারে জরুরি অবস্থা জারি করতে হলে মন্ত্রিসভার অনুমোদন লাগবে। সেই সভায় বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতাকে উপস্থিত থাকতে হবে। অন্যদিকে জরুরি অবস্থার সময় সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৌলিক অধিকার খর্ব করা যাবে না। সংসদ-সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। প্রকাশ্যে এ ভোট দিতে হয়। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে গোপন ব্যালটে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ-সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়। জুলাই সনদে সেখানে সংসদের উভয়কক্ষের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষ দুই কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশের ভোটে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা যাবে। আগে সরকারের অনুমোদনে যে কোনো অপরাধীকে ক্ষমা করতে পারতেন রাষ্ট্রপতি। জুলাই সনদে বলা হয়েছে-শুধু ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবার সম্মতি দিলে অপরাধীকে ক্ষমা করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি।

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান : সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়বে। কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, ন্যায়পাল নিয়োগ, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এবং মহা হিসাবনিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) নিয়োগ হবে। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশনের নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যদের কমিটি হবে। কমিটিতে থাকবেন-প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতির প্রতিনিধি হিসাবে আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি। দুর্নীতি দমন কমিশনের নিয়োগে গঠিত কমিটি হবে সাত সদস্যবিশিষ্ট। এতে প্রধান থাকবেন আপিল বিভাগের একজন সিনিয়র বিচারপতি। এছাড়া থাকবেন হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, সিএজি, পিএসসির চেয়ারম্যান, জাতীয় সংসদ নেতার প্রতিনিধি, বিরোধীদলীয় নেতার প্রতিনিধি এবং প্রধান বিচারপতি মনোনীত একজন বিশেষজ্ঞ। এভাবে অন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোও স্বচ্ছ কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ হবে।

আইন ও বিচার ব্যবস্থায় পরিবর্তন : জুলাই সনদ অনুসারে সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হবে। এতে বলা হয়েছে-রাষ্ট্রপতি যে কাউকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে পারেন। তবে জুলাই সনদের এ অংশে বলা হয়েছে-প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে আপিল বিভাগ থেকে। সংবিধানে বলা আছে, সরকার আপিল বিভাগের বিচারক সংখ্যা নির্ধারণ করবে। জুলাই সনদে বলা হয়েছে-প্রধান বিচারপতির চাহিদার ভিত্তিতে বিচারকের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। আগে হাইকোর্টের বিচারক নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও জুলাই সনদে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিশনের হাতে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দেওয়া, প্রতিটি বিভাগে হাইকোর্টের এক বা একাধিক বেঞ্চ স্থাপন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে শক্তিশালী করা, নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিমকোর্টে ন্যস্ত করার মতো বিষয়গুলো যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমান সংবিধানে ৭-এর ক ও খ অনুযায়ী সংবিধান রহিত করলে শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। জুলাই সনদে সেটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। সংবিধানের প্রস্তাবনা-৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২ অনুচ্ছেদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনে গণভোট লাগবে।

ভাষা, জাতি ও মৌলিক সংস্কার : বিদ্যমান সংবিধানে দেশের নাগরিকরা বাঙালি জাতি হিসাবে পরিচিত। কিন্তু নতুন পরিচয় হবে বাংলাদেশি। এছাড়া দেশের বাংলা ছাড়া অন্য ভাষার স্বীকৃতি নেই। জুলাই সনদে বলা হয়েছে-প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা। অন্যসব মাতৃভাষাকেও স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

বর্তমানে সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা জরুরি। জুলাই সনদে বলা হয়েছে-সংবিধান সংশোধনে সংসদের নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার : সংবিধান সংশোধন করে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান যুক্ত করা হবে। সংসদের মেয়াদ অবসান হওয়ার ১৫ দিন আগে এবং মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙে গেলে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ হবে ৯০ দিন। তবে কোনো দুর্বিপাকে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন সম্ভব না হলে আরও সর্বোচ্চ ৩০ দিন দায়িত্ব পালন করতে পারবে। পাঁচ সদস্যের সমন্বয়ে একটি ‘নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বাছাই কমিটি’ গঠিত হবে। কমিটির সদস্য হবেন-প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের একজন প্রতিনিধি। কমিটির বৈঠকে স্পিকার সভাপতিত্ব করবেন। কমিটি গঠিত হওয়ার পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল এবং সংসদের স্বতন্ত্র সদস্যদের কাছ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তির নাম প্রস্তাবের আহ্বান করবেন। এক্ষেত্রে প্রতিটি দল একজন এবং একজন স্বতন্ত্র সংসদ-সদস্য একজন মাত্র ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করতে পারবেন। আবার যাদের কাছে নাম আহ্বান করা হবে-তারা পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংসদ সচিবালয়ে নাম পাঠাবেন। কমিটি নিজ উদ্যোগেও প্রধান উপদেষ্টার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তির নাম অনুসন্ধান ও অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। কমিটির সদস্যরা পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সভায় মিলিত হয়ে প্রস্তাবিত নাম থেকে আলাপ-আলোচনা করে প্রধান উপদেষ্টা চূড়ান্ত করবেন। এরপর রাষ্ট্রপতি তাকে নিয়োগ দেবেন। তবে বাছাই কমিটি এ পদ্ধতিতে ১২০ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা চূড়ান্ত করতে না পারলে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরকারি দল, জোট পাঁচজন এবং প্রধান বিরোধী দল থেকে পাঁচজন এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল দুজন উপযুক্ত ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করবে। এসব নাম স্পিকার জনসাধারণের অবগতির জন্য প্রকাশ করবেন। উল্লিখিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরকারি দলের প্রস্তাবিত ৫ জনের থেকে প্রধান বিরোধী দল যে কোনো ১ জনকে বেছে নেবে। আবার প্রধান বিরোধী দলের ৫ জনের তালিকা হতে সরকারি দল ১ জনকে বেছে নেবে। দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের প্রস্তাবিত ২ জনের নামের তালিকা থেকে সরকারি দল ১ জন এবং বিরোধী দল একজনকে বেছে নেবে। এ পদ্ধতিতে প্রাপ্ত নামের মধ্য থেকে যে কোনো একজনের ব্যাপারে প্রস্তাবকারী দলের মধ্যে ঐকমত্য হলে তিনিই হবেন প্রধান উপদেষ্টা। অথবা কোনো একজনের ব্যাপারে কমিটির ৫ জন সদস্যের মধ্যে যদি ৪ জন সদস্য একমত হন তাহলে তিনিই প্রধান উপদেষ্টা মনোনীত হবেন।

যেসব জায়গায় নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বিএনপি : জুলাই সনদের কয়েকটি ধারা এবং অন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে বিএনপি। যেমন জুলাই সনদে আছে একজন ব্যক্তি সরকার প্রধান ও দলের প্রধান হতে পারবেন না। এখানে বিএনপির আপত্তি আছে। এছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, বাংলাদেশ আইন কমিশন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগে জুলাই সনদে যে বিধান রাখা হয়েছে-বিএনপি সেখানেও আপত্তি দিয়েছে। আবার গণভোটে এসব বিষয় প্রতিশ্রুতি অনুসারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

জুলাই সনদের ৮৪টি ধারার মধ্যে জুলাই আদেশের বাস্তবায়ন হবে, এ রকম ধারার সংখ্যা ৩৬টি। আর সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত ধারা ৪৮টি। শুরুতে গণভোটের প্রশ্নে বলা হয়েছে-আপনি জুলাই সনদ ও বাস্তবায়ন আদেশ সমর্থন করেন কিনা? আবার সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত ৪৮টি ধারাকে ৪টি ভাগ করে গণভোটে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম প্রশ্নে-তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনসংক্রান্ত ১টি, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং অন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত ধারা ৫টি যুক্ত করা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রশ্নে সংসদের উচ্চকক্ষসংক্রান্ত ৩টি ধারা রয়েছে। তৃতীয় প্রশ্নে ৩০টি ধারা রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছেছে, সেগুলো দেওয়া হয়েছে। চতুর্থ প্রশ্নে বাকি যে ১০টি ধারায় রাজনৈতিক দলগুলো নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, সেগুলো যুক্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো গণভোট অনুষ্ঠিত হলো। এটি সরকারের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জের ছিল। কারণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী না হলে পুরো জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি থাকত না। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ত।