সংস্কার ছাড়া প্রচলিত নির্বাচন ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা করে কোনো আদর্শবাদী দলের পক্ষে কখনোই পূর্ণাঙ্গ বিজয় পাওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, সে বিবেচনায় বিএনপি যোগ্য দল বলেই বিজয়ী হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-২ আসনে পরাজিত হওয়ার পর শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় নিজের ফেসবুক পেজে এ মন্তব্য করেন তিনি।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘অনেকে ফোন করে খোঁজখবর নিচ্ছেন, সান্ত্বনা দিচ্ছেন। গত কয়েক সপ্তাহ অনেকের ফোন ধরতে পারিনি। কাজের চাপে স্বাভাবিক সৌজন্যও রক্ষা করতে পারিনি। নির্বাচনে জয়-পরাজয় অবধারিত। জয়ী হলে আনন্দ, আর পরাজয় বেদনা ও কষ্টের। অতএব কষ্ট যে পাচ্ছি না, তা নয়। ধীরে ধীরে সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে, অলরেডি হয়ে গেছে বলা যায়।’
বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচনের মাঠে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি অভিজ্ঞ দল, দলের প্রার্থীরা সবাই নির্বাচনের ঝানু খেলোয়াড়। নির্বাচনে শুধু প্রার্থী ভালো হওয়া, ব্যাপক গণসংযোগ, জোট করা বা প্রচার-প্রচারণাই সব নয়। ভোটারদের মনে ভয়ভীতি তৈরি করা, অপপ্রচার, প্রতিপক্ষের দুর্বল দিকগুলোতে আঘাত করা, প্রশাসনিক মেকানিজম, আগের রাত থেকে মাঠ দখলসহ এরকম বহু পন্থা আছে, যে ব্যাপারে জামায়াত, এনসিপি, এবি পার্টিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শরিকরা একবারেই অনভিজ্ঞ।’
বিএনপির জয়ের বিষয়ে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রচলিত নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার না হলে এই প্রচলিত নির্বাচন ব্যবস্থায় কম্পিটিশন করে কোনো আদর্শবাদী দলের পক্ষে কখনোই পূর্ণাঙ্গ বিজয় পাওয়া সম্ভব নয়। সে বিবেচনায় বিএনপি যোগ্য দল বলেই বিজয়ী হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি যদি অপকৌশল প্রয়োগ না করে সুস্থ-স্বাভাবিক পন্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন করত, তাহলে কী তাদের বিজয়ে কোনো হেরফের হতো? আমার মনে হয় না বড় রকমের হেরফের হতো, আসন সংখ্যা হয়তো কিছুটা কমত। কিন্তু এই বিশাল বিজয়ে তাদের নিজেদের মনেও একটা নৈতিক ক্ষয় তৈরি হবে। বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল নৈতিক-আদর্শবান অংশ ভেতরে ভেতরে মনভাঙা হবে। রাজনীতির প্রতি আগ্রহ হারাবে। জোর গলায় কথা বলতে কুণ্ঠিত হবে।’
নিজের নির্বাচনি অভিজ্ঞতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ফেনী-২ এর নির্বাচনি মাঠে আমি একদম নতুন আনকোরা মানুষ। অল্প কয়েকদিনের প্রচার-প্রচারণা ও একেবারেই অপ্রস্তুত অবস্থায় প্রথমবারের মতো নিজ মার্কায় নির্বাচন করে ৮০ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছি। এটা যে কারও জন্য ঈর্ষণীয় ও অকল্পনীয় একটি ব্যাপার।’
জামায়াত ও এনসিপির কর্মীদের প্রশংসা করে মঞ্জু বলেন, ‘এখানে জামায়াতে ইসলামীর ভোট ব্যাংক বিরাট অবদান রেখেছে। মহান আল্লাহর দরবারে এর শুকরিয়া জানানোর কোনো ভাষা আমার নেই। বিশেষ করে জামায়াতের নারী-পুরুষ কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, ছাত্রশিবির ও এনসিপির তরুণদের অদম্য কর্মস্পৃহা, এবি পার্টির সর্বস্তরের ভাইবোনদের অবিশ্রান্ত প্রয়াস, খেলাফত মজলিসসহ অন্যান্য শরিকদের আন্তরিক সমর্থন, আমার এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যদের নিখাদ ভালোবাসা আমাকে বিমোহিত করেছে। তাদের সবার জন্য প্রাণভরে দোয়া করছি। মহান আল্লাহ যেন তাদের প্রত্যেকের কষ্টের উত্তম প্রতিদান দেন।’
শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জানা-অজানা, আপন, পরিচিত, আদর্শিক বন্ধু বা বন্ধু নয়, শুধু আন্তরিকতার বন্ধনের কারণে আমাকে যারা আর্থিকভাবে সাহায্য করেছেন ও দোয়া এবং শুভকামনা জানিয়ে উৎসাহ দিয়েছেন, আমি তাদের কাছে আজীবনের জন্য ঋণী হয়ে গেলাম। জানি না এ ঋণ আমি কখনো শোধ করতে পারব কি না! যারা শেষ মুহূর্তে জরুরি প্রয়োজনে হাওলাত ও ঋণ দিয়েছেন, তাদের পাওনা শোধ করার জন্য আমি মহান আল্লাহ তাআলার একান্ত অনুগ্রহের মোহতাজ (মুখাপেক্ষী)।’
তিনি বলেন, এ নির্বাচন আমাকে নতুন করে অনেক কিছু শিখিয়েছে। জীবন ও অভিজ্ঞতা গভীরভাবে ঋদ্ধ হয়েছে। ইনশাআল্লাহ এ শিক্ষা ও প্রেরণা সামনের দিকে অনেক কাজে লাগবে। ফেনীবাসীর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।’
ফেনীবাসীর প্রতি নির্বাচনকালে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় অটল ও অবিচল থাকবেন বলে জানান তিনি।