তরুণদের বাঁধভাঙা আন্দোলনে উড়ে গিয়েছিল আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী মসনদ। সেই তরুণরাই এবার ভোটের জোয়ার বইয়ে দিয়েছেন। তারুণ্যে ভোটের উৎসবে অন্যন্য এক নির্বাচন হয়েছে দেশে। অনেকে জীবনের প্রথম ভোটটি দিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছেন। প্রথমবারের মতো উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছেন নির্ভয়ে। এবারের ভোটে দেশজুড়ে আধিক্য ছিল তারুণ্যের। ভোটের উচ্ছ্বাসে উৎসবের পারদ তুঙ্গে রেখেছিলেন তরুণরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জুড়ে। তাদের জন্যই এই ভোট উৎসব হয়েছে নজিরবিহীন।
এবারের ভোটে বড় নিয়ামক তরুণ ভোটাররা। ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছেন প্রায় ৫ কোটি তরুণ ভোটার। এবার মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা এখন ৪ কোটি ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৫৬১ জন। ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী ভোটার সংখ্যা ২ কোটি ১২ লাখ ৪২ হাজার ৫৩১ জন।
গতকাল নির্বাচনী মাঠে দিনভর তরুণদের উৎসবের আমেজে ভোট দিতে দেখা যায়। স্বজন, বন্ধুদের নিয়ে ভোটে গেছেন তরুণরা। তাদের সরব উপস্থিতি ভোটের মাঠের ভয় আর আতঙ্ক অনেকটা কমে যায়।
তরুণ ভোটার জাহিদ হাসান আঙ্গুলে অমোচনীয় কালির ছবি দিয়ে বলেন, ভোট যাকেই দেন সমস্যা নাই। কিন্তু ভোট দিয়েন। কারণ এই ভোট দেয়ার মাধ্যমেই দেশের মালিকরা দেশের মালিকাপত্রে স্বাক্ষর করে। বৃহস্পতিবার ঢাকা জুড়ে ছিল জেনজিদের উপচে পড়া ভিড়। তারা উৎসাহ দিয়ে ভোট দিয়েছেন।
প্রথমবার ভোট দেয়া মাইশা হোসেন বলেন, আশা করছি দেশে একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। বিল্পব কখনও বৃথা যায় না। এবার আমরা সকলে মিলে দেশটাকে গড়ে তুলবো। ধানমণ্ডির বাসিন্দা মানহা ইসলাম ফেসবুকে স্ট্যাটাসে লেখেন- ছুটির দিনে আমি বেলা ১২টার আগে ঘুম থেকে উঠি না। কিন্তু আজ ঘুম থেকে উঠতে আমার এলার্মটাও লাগে নাই। ৯টার দিকেই ঘুুম ভেঙে গেল। আজ আমার প্রকৃত ঈদ মনে হচ্ছে। কারণ বন্ধুরা ঈদে বাড়ি চলে যায়। এবার সবাই মিলে ঢাকায় ভোট দিলাম।
মিরপুর-২ এ বাস করেন সিরাজুল আলম। তিনি বলেন, আমিই প্রথম। আমরাই প্রথম। কারণ এর আগে একটা প্রজন্ম ভোট দিতে পারে নাই। ভোটের মূল্যও ছিল না। আমি যে শুধু ভোট দিয়েছি তা হয়, মূল্যবান ভোটার- দেশের নাগরিক হয়েছি। পারভেজ হোসেন নামের আরেক ভোটার বলেন, একটু ভয় তো লাগছিলো প্রথমে। এখন সেই ভয় কেটে গেছে। বরং শান্তিপূর্ণ সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট দিয়েছি। ভোট দিয়েছি কারণ দেশটা আমার।
নাদিয়া শারমিন রংপুর-৩ আসনের ভোটার। তিনি ঢাকা থেকে রংপুর গিয়েছেন শুধু মাত্র ভোট দিতে। তিনি বলেন, আমি ভোটার হয়েছি আরও আগে। কিন্তু এই প্রথম ভোট দিলাম। শুধু তাই উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে ভোট দিতে গিয়েছি। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি ভোট শুধু একটা সিল নয়। এটা আমার দেশের প্রতি অঙ্গীকার। দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের শুরু করলাম।