Image description

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান পদত্যাগ করেছেন বলে বেশকিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। 

এরকম দাবি সম্বলিত কিছু প্রতিবেদন দেখুন এখানেএখানেএখানে এবং এখানে

কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, দাবিটি পুরোপুরি সঠিক নয়। ঢাবি ভিসি পদত্যাগের আগ্রহ প্রকাশ করলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ফেসবুক পেইজ The University of Dhaka-এ একটি পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। 

 “পদত্যাগ করেননি ঢাবি উপাচার্য,  কিছু গণমাধ্যমে ভুলভাবে ব্যাখ্যা” শিরোনামে ওই পোস্টে বলা হয়েছে, “আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, হঠাৎ করে কোনো শূন্যতা বা প্রশাসনিক অচলাবস্থা সৃষ্টি করার পক্ষে তিনি নন। এ কারণে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহল চাইলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালনে তিনি রাজি আছেন। আজ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার বেলা তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। এ দিকে তার এই বক্তব্য বেশ কিছু গণমাধ্যমে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি উপাচার্যের পদ থেকে পদত্যাগ করছেন বলে এসব গণমাধ্যমে বলা হয়েছে। যা তার বক্তব্যের সঙ্গে মিল নেই।”

এছাড়াও উক্ত সংবাদ সম্মেলনের সম্পূর্ণ বক্তব্যটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সম্প্রচার করেছে। তার সম্পূর্ণ বক্তব্যটি যাচাই করে দেখা গেছে, তিনি তার বক্তব্যের কোথাও এখনই পদত্যাগের কোনো ঘোষণা দেননি। তিনি বরং বলেছেন, তিনি তার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চান। কিন্তু এই মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো শূন্যতা তৈরি হতে পারে, এমনটা হয়ে থাকলে নির্বাচিত সরকার চাইলে আরও কিছুদিন দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

দৈনিক ইত্তেফাকের সম্প্রচারিত উক্ত সংবাদ সম্মেলনের লাইভ ভিডিওতে ঢাবি ভিসিকে বলতে দেখা যায়, “আপনারা জানেন যে একটি ক্রান্তিকালীন সময়ে, খুব বিশেষ ধরণের পরিস্থিতিতে আমরা ২০২৪-এর আগস্ট মাসের শেষের দিকে দায়িত্ব নিয়েছিলাম। খুবই আপৎকালীন একটি পরিস্থিতি সেসময় ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অচল ছিল, অ্যাকাডেমিক কর্মকাণ্ড বন্ধ ছিল, হলগুলো ভাসমান অবস্থায় ছিল এবং প্রশাসনিক কাঠামো অকেজো হয়ে পড়েছিল। ওই পরিস্থিতিতে আপনাদেরকে সাথে নিয়ে আমাদের প্রথম কাজ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাজকর্ম শুরু করা এবং এটিকে স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। আপৎকালীন পরিস্থিতি দূর হয়েছে। এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একটি উর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “আমি এখন মনে করছি যে, এটি একটি দায়িত্ব পালনের পর্বে আমরা একটি ভালো পর্যায়ে আছি এবং আমি সরে দাঁড়াতে চাই। এখন... এই মুহূর্তে আমাদের যেন কোনো শূন্যতা না হয়, ধারাবাহিকতা যেন কোনো অসুবিধায় না পড়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্মুথ ট্রানজিশন দরকার, সেজন্য আমাকে যদি সরকার মনে করেন, অংশীজনরা যদি মনে করেন যে আরো কিছু সময় এই ধারাবাহিকতার প্রশ্নে হঠাৎ শূন্যতা যেন না হয় সেই প্রশ্নে যদি তারা কিছু সময় নিতে চান, আমি সেটি বিবেচনা করতে রাজি আছি বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারাবাহিকতার স্বার্থে।”

সুতরাং ঢাবি ভিসি পদত্যাগ করেছেন দাবিতে যে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে সেটি সত্য নয়। বরং তিনি পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

দ্যা ডিসেন্ট