‘ভোটের আগে সবাই গাও-হাত লাড়ে, ভোট চায়। কয়, এটা দিমু সেটা দিমু। কিন্তু ভোটের পর কেউ আর খোঁজ নেয় না। কোনো কাজে গেলে কয়, তুই কে!’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়া প্রসঙ্গে এভাবেই মনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের সাঁওতাল পল্লীর বাসিন্দা কবিরাজ হেমম্রম।
শুধু কবিরাজ হেমরমই নন, নওগাঁ-১ (সাপাহার-পোরশা-নিয়ামতপুর) আসনে সাঁওতালসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকাংশ মানুষের মনের কথা অনেকটা এমনই।
শাহাবাজপুর আদিবাসীপাড়ার জগেন কিস্কু, লগেন কিস্কু ও অঞ্জলি মূরমু বলেন, নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা এলাকার উন্নয়নে গালভরা প্রতিশ্রুতি দিলেও জয়ের পর তাদের এলাকায় দেখা পাওয়া দুষ্কর। তাঁরা বলেন, ‘ভোটের সময় নেতাকর্মীরা বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার আশ্বাস দেন।
তাঁদের অভিযোগ, শাহবাজপুর সাঁওতাল পল্লীর তিন-চারজন বয়স্ক পুরুষ ও বিধবা নারীর নাম জনপ্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হলেও তাদের নামে কোনো ভাতা দেওয়া হয়নি। তাঁদের গ্রামে প্রবেশ ও বের হওয়ার কোনো রাস্তা নেই। আগের সরকারের আমলে সবাই প্রতিশ্রুতি দিলেও আজও তা বাস্তবায়ন করেনি।
ফুরকুটিডাঙ্গা গ্রামের মঙ্গল কিস্কু, গনেশ মুরমু ও সুনিল হেমব্রমসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার তারা হুজুগে নয় বরং বুঝেশুনে ভোট দিতে চান। তাদের দাবি, প্রার্থীকে সৎ, যোগ্য এবং ভালো মানুষ হতে হবে। সুখে-দুঃখে পাশে থাকবে এবং রাস্তাঘাটসহ এলাকার উন্নয়ন করবেন—এমন প্রার্থীকেই তাঁরা ভোট দেবেন। তারা জানান, এবার প্রার্থীরা অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেও তারা কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী।
এই জনপদসংশ্লিষ্ট আসনে পাঁচজন প্রার্থী থাকলেও আদিবাসী সম্প্রদায়ের আলাপ-আলোচনায় উঠে আসছে মূলত দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম। তাঁরা হলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম। তাঁদের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ভোটারদের।
আদিবাসী পল্লীগুলোতে এখন নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে মুখিয়ে আছেন তাঁরা। তবে তাদের সবার মনে একটিই প্রত্যাশা, নির্বাচনের পর নির্বাচিত প্রতিনিধি যেন তাদের ভুলে না যান এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এলাকার উন্নয়নে কাজ করেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই সম্প্রদায়ের মানুষ ব্যালটের মাধ্যমেই তাদের যোগ্য প্রতিনিধি বেছে নেবেন বলে জানান তাঁরা।