Image description

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনে করতেন একটি পেশাদার বাহিনীর চেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সেনাবাহিনীই তার ক্ষমতার জন্য বেশি নিরাপদ। গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেয়া এক বিস্ফোরক জবানবন্দীতে এ কথা বলেন সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল (অব:) ইকবাল করিম ভূঁইয়া। একইসাথে তিনি তুলে ধরেন কিভাবে তৎকালীন সরকার ও একটি বিশেষ চক্র সেনাবাহিনীকে গুম-খুনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত করে বাহিনীর পেশাদারিত্ব ধ্বংস করেছিল।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই চাঞ্চল্যকর জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো: শফিউল আলম মাহমুদ। সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত গুম-খুনের মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে এই জবানবন্দী দেন তিনি।

রোববার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে সাক্ষীর ডায়াসে ওঠেন ইকবাল করিম ভূঁইয়া। শুরুতেই তাকে শপথ পড়ানো হয়। এরপর নিজের পরিচয় দেন তিনি। ২০১২ সালের ১৫ জুন থেকে ২০১৫ সালের ২৪ জুন পর্যন্ত সেনাপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন এই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনীতে খুনের সংস্কৃতি আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল, তবে গুমের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে পরবর্তী সময়ে। যদি ধরে নেয়া হয় যে ২০০৮ সাল থেকে খুনের শুরু হয়েছে, তবে তা ভুল হবে। প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতার পর থেকেই এই সংস্কৃতির সূত্রপাত। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে সেনাবাহিনীকে সেনানিবাসের বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে। তখন কথিত অপরাধীদের ধরে সেনাক্যাম্পে এনে জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্যাতন করা হতো, যার ফলে কিছু ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছিল। তবে সেই সংখ্যা ছিল সীমিত। পরবর্তীতে তদন্ত আদালত ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সেগুলোকে নিয়মিত (রেগুলারাইজ) করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা অপারেশন চলাকালীন বেশ কিছু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে; তবে যেগুলো কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে, সেগুলোকে আমলে নিয়ে দোষী ব্যক্তিদের যথাযথ শাস্তি দেয়া হয়েছে।

সামরিক বাহিনীর প্রধান কাজ বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করা। তবে দেশের অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তাদের সহায়তায় সময়ে সময়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া দুর্যোগ ও নির্বাচনকালীন সময়েও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। জনমনে একটি ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, সেনাবাহিনী মোতায়েন করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে; যা এখন একটি অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে।

ডি-হিউম্যানাইজেশন ও র‌্যাব গঠন

সেনাবাহিনীকে যখনই বাইরে মোতায়েন করা হয়, অধিনায়কদের ওপর একটি সার্বক্ষণিক চাপ থাকে যে তাদের কত দ্রুত সেনানিবাসে ফেরত আনা যাবে। কারণ, সেনাসদস্যদের কাছে মারণাস্ত্র থাকে এবং তাদের প্রশিক্ষণ ‘এক গুলি, এক শত্রু’ নীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। এটি না হলে সেনাবাহিনী যুদ্ধ করতে পারত না। প্রশিক্ষণকালে সেনাসদস্যদের মানসিকভাবে ‘ডি-হিউম্যানাইজ’ করা হয়। ফলে তারা ধীরে ধীরে মানুষকে ‘মানুষ’ না ভেবে ‘টার্গেট’ হিসেবে দেখতে শুরু করে। ফায়ারিং রেঞ্জে মানুষের আকৃতির টার্গেটে গুলি চালিয়ে তাদের মানুষ হত্যার মনস্তাত্ত্বিক বাধা দূর করা হয়।

এই বাস্তবতাকে বিবেচনায় রেখে সেনাবাহিনীকে কখনোই বেসামরিক পুলিশের সাথে মেশানো ঠিক হয়নি। অথচ ২০০৩ সালে ‘র‌্যাব’ গঠনের মাধ্যমে সেটিই করা হয়েছিল, যা ছিল একটি মারাত্মক ও ভয়াবহ সিদ্ধান্ত। সেনাসদস্যদের প্রশিক্ষণ র‌্যাবে নিয়োগের জন্য উপযুক্ত ছিল না। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বেশ কিছু বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। র‌্যাব গঠনের পূর্বে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এ অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটে। সেনাসূত্র অনুযায়ী ১২ জন ‘হার্ট অ্যাটাকে’ মারা গেলেও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে এই সংখ্যা ছিল ৬০। পরবর্তীতে ‘ক্লিন হার্ট’-এর সদস্যদের ইনডেমনিটি দেয়া হয়, যা ছিল মূলত হত্যার লাইসেন্স প্রদানের শামিল।

জরুরি অবস্থা ও ডিজিএফআইয়ের ভূমিকা

২০০৭ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রধান বিচারপতির বয়স বাড়ানো নিয়ে সৃষ্ট সঙ্ঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআই দেশের মুখ্য নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠে। তারা বিভিন্ন ব্যক্তিকে তুলে এনে সেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করত, যাদের মধ্যে অনেক মন্ত্রী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তারা বিএনপির জনাব তারেক রহমানকেও তুলে এনে নির্যাতন করে। এই সময় থেকেই বেসামরিক ব্যক্তিদের তুলে এনে গোপন সেলে আটকে রাখা একটি অভ্যাসে পরিণত হয়। সংস্থাটি ভাবতে শুরু করে যে, তারা যেকোনো ব্যক্তিকে তুলে এনে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত পার পেয়ে যাবে। জরুরি অবস্থার সময় সেনাসদস্যদের সংস্কৃতিতে কিছু পরিবর্তন আসে তাদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পায়, আধিপত্যবোধ তৈরি হয়, সিনিয়র ও জুনিয়রদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয়, নগদ অর্থের সংস্কৃতির উত্থান ঘটে এবং ঊর্ধ্বতনদের আদেশ অন্ধভাবে পালনের প্রবণতা তৈরি হয়।

বিডিআর বিদ্রোহ ও এর পরবর্তী প্রভাব

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিডিআর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এতে ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তা এবং ১৭ জন বেসামরিক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। বিদ্রোহ দমনের পর বিডিআর সদস্যদের অন্তরীণ করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য মতে, পিলখানায় র‌্যাব ও সামরিক সদস্যদের নির্যাতনের কারণে আনুমানিক ৫০ জন বিডিআর সদস্য মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে দায়রা আদালত কর্তৃক ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

বিডিআর বিদ্রোহের পর সেনা অফিসারদের মধ্যে ভারত ও আওয়ামী লীগ বিদ্বেষ বৃদ্ধি পায়। পেশাদার অফিসারদের সরিয়ে অনুগতদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়ে আসা হয় এবং বিভিন্ন জাতীয় প্রকল্পে সেনাবাহিনীকে নিয়োজিত করে বাহিনীটিকে দুর্নীতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়। এর বড় কারণ ছিল শেখ হাসিনার ধারণা একটি দুর্নীতিগ্রস্ত সেনাবাহিনী তার ক্ষমতার জন্য নিরাপদ। শেখ হাসিনা ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রশাসনের ওপর নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করেন। তিনি সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করেন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনে কঠোর আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করেন।

তারিক আহমেদ সিদ্দিকী ও চারটি ‘চক্র’

এ সময় তিনি তার আত্মীয় মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকীকে নিরাপত্তা উপদেষ্টা নিয়োগ দেন। জেনারেল সিদ্দিকী প্রধানমন্ত্রী ও বাহিনী প্রধানদের মধ্যে নিজেকে ‘সুপার চিফ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি ডিজিএফআই, এনএসআই, র‌্যাব, এনটিএমসি, আনসার ও বিজিবি-কে তার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। এর ফলে চারটি চক্রের উদ্ভব ঘটে: ১. অপরাধ চক্র: ডিজিএফআই, এনএসআই, র‌্যাব ও এনটিএমসির মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন, হত্যা ও গুম করা। ২. ডিপ স্টেট : এমএসপিএম (মিলিটারি সেক্রেটারি টু দ্য প্রাইম মিনিস্টার) ও অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে বাহিনীর নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেয়া, যা অনেক সময় বাহিনী প্রধানদের মতের পরিপন্থী ছিল। ৩. কেনাকাটা চক্র: পিএসও, এএফডি ও ডিজিডিপির মাধ্যমে কেনাকাটায় প্রভাব বিস্তার করা। ৪. সামরিক প্রকৌশলী চক্র: ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সিনিয়র অফিসারদের মাধ্যমে জাতীয় প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার ও অবৈধ অর্থ উপার্জন।

র‌্যাব ও জিয়াউল আহসান প্রসঙ্গ

সেনাপ্রধান হওয়ার পর আমি র‌্যাবের এডিজি তৎকালীন কর্নেল (পরবর্তীতে লে. জেনারেল) মুজিবকে তলব করে ক্রসফায়ার বন্ধের নির্দেশ দেই। আমি তাকে র‌্যাব ইন্টেলিজেন্সের প্রধান লে. কর্নেল জিয়াউল আহসানকে নিয়ন্ত্রণ করতে বলি। কিছুদিন ঘটনা কম থাকলেও অচিরেই বুঝতে পারি যে হত্যাকাণ্ড ঘটছে কিন্তু তা চাপা দেয়া হচ্ছে। বেনজীর আহমেদ র‌্যাবের ডিজি এবং জিয়াউল আহসান এডিজি হওয়ার পর পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে।

আমি আমার ডিএমআই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জগলুল আহসান এবং আর্মি সিকিউরিটি ইউনিটের সিও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজলকে (বর্তমান নির্বাচন কমিশনার) জিয়াউল আহসানের সাথে কথা বলতে পাঠাই। তারা আমাকে জানান যে, জিয়াউল আহসানের মানসিকতা বদলানো অসম্ভব। সে তার বাসায় অবৈধভাবে অস্ত্র, অতিরিক্ত গার্ড ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে সামরিক নিয়ম ভঙ্গ করছিল। জিয়াউল আহসান তখন মেজর জেনারেল সিদ্দিকী ও এমএসপিএম কর্নেল মাহবুবের ছত্রছায়ায় আমার আদেশ অমান্য করতে শুরু করে। র‌্যাব থেকে দু’জন অফিসারকে শাস্তিমূলক বদলি করা হলেও সে তাদের ছাড়তে অস্বীকার করে।

পরবর্তীতে আমি জিয়াউল আহসানকে সেনানিবাসে নিষিদ্ধ করি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমএসপিএম মেজর জেনারেল মিয়া জয়নুল আবেদীনের মাধ্যমে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার নির্দেশ দেন। আমি প্রথমে অস্বীকৃতি জানালেও পরবর্তীতে সঙ্ঘাত এড়াতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিই।

পেশাদার খুনি তৈরির কারখানা

সবচেয়ে কষ্টের বিষয় ছিল, আমরা সেনাবাহিনী থেকে পেশাদার অফিসার র‌্যাবে পাঠাতাম, আর তারা ‘পেশাদার খুনি’ হয়ে ফেরত আসত। এরপর আমি সিদ্ধান্ত নিই যে, যেকোনো অফিসার র‌্যাব বা ডিজিএফআই-তে পোস্টিংয়ে যাওয়ার আগে ও পরে আমার সাথে ইন্টারভিউ দেবে। আমি তাদের বোঝাতাম যে নরহত্যা মহাপাপ এবং হাত-পা বেঁধে হত্যা করা কাপুরুষতা। যারা ফেরত আসত, তাদের মুখে হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা শুনে আমি সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি।

আমি প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে সেনাসদস্যদের র‌্যাব থেকে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানাই। তিনি স্বীকার করেছিলেন যে ‘র‌্যাব রক্ষীবাহিনীর চেয়েও খারাপ’, কিন্তু তিনি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। আমি অফিসারদের আশ্বস্ত করেছিলাম যে, কিলিং মিশনের আদেশ পেলে তারা যেন সরাসরি আমাকে জানায়, আমি তাদের রক্ষা করব। এর ফলে দু’জন অফিসার কিলিং মিশনের আদেশ অমান্য করে এমপি চেকপোস্টে রিপোর্ট করলে আমি তাদের সসম্মানে পুনর্বাসিত করি।

এই প্রতিবাদের কারণে আমার ডিএমআই ব্রিগেডিয়ার জগলুল মেজর জেনারেল সিদ্দিকীর বিরাগভাজন হন এবং আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে বদলি করা হয়, যা ছিল আমার জন্য চরম অপমানজনক। ব্রিগেডিয়ার ফজলকেও বদলির চেষ্টা করা হয়, তবে আমার প্রবল বিরোধিতার কারণে তা সফল হয়নি।

সাবেক সেনাপ্রধানের সাক্ষ্য চলমান রয়েছে। যার অবশিষ্ট অংশ রেকর্ড করা হতে পারে আজ সোমবার। এদিকে জবানবন্দী গ্রহণের পর চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম দিনটিকে বিচারিক ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, একজন মেধাবী ও দূরদর্শী সাবেক সেনাপ্রধান আজ (রোববার) স্পষ্ট করেছেন কিভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব নষ্ট করা হয়েছিল এবং কিভাবে একটি কমান্ড স্ট্রাকচারের বাইরে সমান্তরাল অপরাধ কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, একজন সাবেক সেনাপ্রধান হিসেবে সেনাবাহিনীকে রক্ষা করার জন্য যত ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজন ছিল, তিনি সেই ব্যবস্থাগুলো কিভাবে গ্রহণ করার চেষ্টা করেছেন এবং তার চেষ্টাগুলোকে কিভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তারিক আহমেদ সিদ্দিকের নেতৃত্বে একটা যে চক্র তৈরি হয়েছিল, তারা কিভাবে এটাকে ব্যর্থ করে দেয়ার চেষ্টা করেছেন সেই কথাগুলো আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন তিনি। এছাড়া কিভাবে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদ তৈরির মাধ্যমে একটা ডিপ স্টেট তৈরি করা হয় এবং সেনাবাহিনীর কমান্ডের বাইরে আরেকটি কমান্ড স্ট্রাকচার তৈরি করা হয়। সেই কমান্ড স্ট্রাকচারকে দিয়ে সেনাবাহিনীর কোনো অংশকে দিয়ে তাদের নানা ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম করা হয়েছে বলে তিনি সাক্ষ্যতে বলেছেন।