ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন সানজিদা ইসলাম। গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক তিনি। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আসিফ হাওলাদার।
আপনার ভাই গুমের শিকার হয়েছেন। গুমের বিরুদ্ধে ‘মায়ের ডাক’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলে আপনি ভয়ভীতি উপেক্ষা করে বিগত সময়ে টানা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। এখন ভোটের মাঠে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী নিজেই গুমের শিকার হয়েছিলেন...
সানজিদা ইসলাম: গুমের শিকার যাঁরা ফেরত আসেননি, আর যাঁরা ফেরত এসেছেন—সব ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচারের জন্য মায়ের ডাকের আন্দোলন জারি থাকবে। সে ক্ষেত্রে আমরা সবাই একটা পরিবার।
এখন আমি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন ও রাজনীতির মাঠে আছি। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় যেতে চাই। কিন্তু আমাদের প্রতিপক্ষ দল বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি হিসেবে কখনোই কাজ করেনি। জনগণের জন্য, বাংলাদেশের মানুষের জন্য আমরা শুধু একটাই প্রতীক দেখতে পাচ্ছি। সেই প্রতীক হচ্ছে ধানের শীষ।
আমরা রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতে চাই। ওই পরিবর্তনটা হচ্ছে প্রতিহিংসার বাইরের রাজনীতি।

ঢাকার অন্য কিছু আসনে প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের মধ্যে কাদা-ছোড়াছুড়ি ও পাল্টাপাল্টি আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেখা যাচ্ছে। কিন্তু আপনার আসনে এই চিত্রটা ভিন্ন...
সানজিদা ইসলাম: আমরা রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতে চাই। ওই পরিবর্তনটা হচ্ছে প্রতিহিংসার বাইরের রাজনীতি। অপরাজনীতি, রাজনৈতিক ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার জন্য হত্যাযজ্ঞ চালানো—এ রকম রাজনৈতিক সংস্কৃতির বাইরে আমরা বাংলাদেশকে দেখতে চাই।
নারীদের জন্য আপনার প্রতিশ্রুতিগুলো কী?
সানজিদা ইসলাম: এবারের নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি নারী ভোটার। আমার নির্বাচনী এলাকায় অনেক নারী শ্রমিক আছেন। তাঁরা নিম্ন আয়ের নারী, বিভিন্ন কারখানায় কাজ করেন। নির্বাচিত হলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নে আমি কাজ করব।
আমার চেষ্টা থাকবে, বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ‘বট বাহিনী’ (ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে সংঘবদ্ধ অপপ্রচার চালানো) যাতে মেয়েদের হয়রানি করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করার জন্য কাজ করা।
অবশ্যই নারী ভোট বড় ‘ফ্যাক্টর’ হবে। আর আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর আমরা বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি।

ঢাকা-১৪ আসনে ভোটের সমীকরণে কোন কোন বিষয় কাজ করবে বলে আপনার ধারণা?
সানজিদা ইসলাম: অবশ্যই নারী ভোট বড় ‘ফ্যাক্টর’ হবে। আর আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর আমরা বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি।
আমরা দেশের মানুষের জন্য লড়েছি। আমাদের দেশনেত্রী খালেদা জিয়া বাংলাদেশকে ছেড়ে যাননি, তিনি এই দেশের মানুষের পাশে ছিলেন।
ঢাকা-১৪ আসনে আপনি ছাড়াও আরও কয়েকজন বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। যাঁরা মনোনয়ন পাননি, সেই পক্ষগুলো কি আপনাকে নির্বাচনী কাজে সহযোগিতা করছে?
সানজিদা ইসলাম: আলহামদুলিল্লাহ, যাঁরা প্রার্থী ছিলেন, তাঁরা মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই আমাদের সঙ্গে আছেন এবং বেশ জোরালোভাবে আমাদের পাশে আছেন।
প্রশাসন আমাদের দিকে হেলে পড়েছে বলে যে বয়ান ছড়ানো হচ্ছে, সেটা সঠিক নয়।
আপনার বিরুদ্ধে বিএনপির একজন শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন...
সানজিদা ইসলাম: তিনি ব্যক্তিগত চিন্তা থেকে প্রার্থী হয়েছেন। তাঁকে আমরা আর বিএনপি মনে করি না। তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন।
ভোটের পরিবেশ কেমন দেখছেন আর নিজের জয়ের ব্যাপারে আপনি কতটা আশাবাদী?
সানজিদা ইসলাম: প্রশাসন আমাদের দিকে হেলে পড়েছে বলে যে বয়ান ছড়ানো হচ্ছে, সেটা সঠিক নয়। ভোটের পরিবেশের কথা যদি বলতে হয়, আমাদের ওপর মামলা-হামলার হুমকি এখনো চলছে। আমাদের প্রতিপক্ষ ও বিদ্রোহী প্রার্থী এক হয়ে এগুলো করছেন।
প্রচারের ব্যস্ততার মধ্যেও সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
সানজিদা ইসলাম: আপনাকেও ধন্যবাদ।