Image description

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের রংপুর-২বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ আসনের প্রার্থী এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, দেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান হতে দেওয়া হবে না। ফ্যাসিবাদের কারণে সুন্দর এই দেশটি অনেক দূর পিছিয়ে গেছে। যারা ফ্যাসিবাদকে লালন করে তাদেরকেও ১২ তারিখের নির্বাচনে রুখে দিতে হবে।

 

রোববার ৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বদরগঞ্জ পৌরশহরের সাহাপুর মাঠে দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, দেশে সৎ, দক্ষ ও আল্লাহভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ছাড়া জনগণের প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয়। ইসলামভিত্তিক কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে শোষণ, দুর্নীতি ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামী কাজ করে যাচ্ছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে ইসলামী আন্দোলনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা জানেন ইসলাম ধর্মে সকল ধর্মের অনুসারীদের সমান অধিকার দেয়া হয়েছে। এজন্য আমরা সংখ্যালঘু আর সংখ্যাগুরুতে বিশ্বাস করিনা আমরা সবাই সমান। জামায়াতের লোকজন কখনো অন্য ধর্মের লোকের ওপর আক্রমণ করে না। কারো বাড়ি ঘর দখল করে না। কারো ওপর নির্যাতন চালায় না। আমরা নারী বিদ্বেষী নই নারীরা আমাদের কাছে পবিত্র আমানত।

এটিএম আজহার বলেন, আপনারা দেখেছেন একটি দল ফ্যাসিবাদের পথ অনুসরণ করে এখনই রাস্তাঘাটে নারীদের হেনস্থা করছেন, বোরকা খুলে নিচ্ছেন, পেটে লাথি মারছেন। তারাই আবার বলছেন নারীরা নাকি তাদের কাছে নিরাপদ। নারীরা কখনো তাদের কাছে নিরাপদ নয়।

তিনি আরো বলেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রিয়তা দেখে একটি রাজনৈতিক দল দেশের বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ও নেতাকর্মীদেরকে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালাচ্ছে এবং হুমকি প্রদান করছে, কিন্তু হুমকি-ধমকি ও আক্রমণ করে জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রিয়তাকে স্তব্ধ করা যাবে না।

তিনি আরো বলেন, জনগণ আর হুমকিতে ভয় পায় না। এই দেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান হতে দেওয়া হবে না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণ আমাদেরকে ভোট দিয়ে সংসদ গঠন করতে সহায়তা করবে ইনশাআল্লাহ। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে আমাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবো এবং ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করবো ইনশাআল্লাহ।

এটিএম আজহার হিন্দুধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্য বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশের হিন্দুধর্মাবলম্বীদের সাথে নিয়ে কাজ করতে চায়। এ কারণে এবার দু,জন হিন্দু প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে যাতে করে তারা নির্বাচিত হয়ে হিন্দুদের পক্ষে তাদের অধিকার আদায়ে সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারেন।

দলীয় নেতাকর্মীদেরকে প্রতিপক্ষের কোনো ধরণের উস্কানি কান না দিয়ে এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান তিনি। যাতে করে নির্বাচনি শৃংখলা বিনষ্ট সৃষ্টি না হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে সকালে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পর নির্বাচন গণনা না হওয়া পর্যন্ত ভোট কেন্দ্রে থাকার আহ্বান জানান তিনি।